ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 September 2017, ১৩ আশ্বিন ১৪২8, ০৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের বেদনাবিধুর আর্তির কথা

মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : মানুষের জীবনটা বড্ড বিচিত্র ও ক্ষণস্থায়ী। মহান আরশের অধিপতির হুকুমে মৃত্যুর দূত কখন যে শিয়রে এসে দাঁড়ায় তা কেউ অনুধাবন করতে পারে না। আমরা যখন নশ্বর পৃথিবীতে মিছে স্বপ্নে বিভোর হয়ে সাজানো গুছানো কাছে মত্ত তখন পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে অসহায় মজলুম মানুষের হাহাকার আর কান্নার বিষাদের সুর আকাশে বাতাসে ভাসছে। প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে মর্মান্তিক, লোমহর্ষক, হৃদয়গ্রাসী ঘটনা ঘটছে। তারপরও মানবিকতার বিবেক জাগ্রত হচ্ছে না।পৃথিবীর কোন ধর্মই মানুষকে অমানুষ হওয়ার জন্যে উৎসাহিত করেনি, বরং নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্তু একশ্রেণীর মানুষরূপী দানবের হিংস্রতা থেকে নিষ্পাপ শিশুরাও আজ নিরাপদ বোধ করছে না। পৃথিবীর সৃষ্টিকাল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত মানুষ যত মানুষকে বিনা কারণে তুচ্ছ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে হত্যা করছে তত খুন বা হত্যা জীব জন্তু জানোয়ার করেনি। জীব হত্যা মহা পাপ যারা মনে করেন তারাই আজ জনমের মতো নিরীহ মুসলিম শিশু, নারী, পুরুষ, বয়োবৃদ্ধকে হত্যা করে সাগরের গহীনে ভাসিয়ে দিচ্ছে। অথচ মুসলিম নামধারী শাসকের বিবেক জাগ্রত হচ্ছে না। হযরত জাবীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি রহম করে না,আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন না (বুখারী, মুসলিম)।
গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র মৌলবাদী বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুর করেছে। পুলিশের কয়েকটি চেকপোস্টে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। আর এই হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামক সংগঠনকে দায়ী করা হয়েছে । যদিও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে। যারা এই ঘৃণ্য অপর্কমটি করেছে আমরা তাদের শাস্তি কামনা করি। কিন্তু চেকপোস্ট হামলার অজুহাতে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের স্টিমরোলার চালিয়ে গণতন্ত্রের মানসকন্যা অং সান সুচি আবারও প্রমাণ করলেন তিনি মানবতার দুশমনী এক গোখরা সাপ। মিয়ানমার থেকে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও সংখ্যাটি প্রায় ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। ওইসব ভাগ্যহত রোহিঙ্গাদের জীবনের করুন কাহিনী সংবাদের পাতায় মুদ্রিত হয়েছে তার কিছু অংশ পাঠকদের খেদমতে পেশ করছি।
১. রোহিঙ্গা জামালের করুণ কাহিনী : মুসলিম তরুণ জামাল যখন সাংবাদিকদের কাছে তার জীবনের বিভীষিকার কথা বলছিল তখন তার দু’চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছিল। তিন কন্যা সন্তানের বাবা জামাল হোসেন। তার বাড়ি আরকান রাজ্যের নাক্ষ্যংদিয়ার মদিনা পাড়ায়। সন্ত্রাসী বৌদ্ধদের নির্মম নিযাতনের শিকার হয়ে তিন দিন বয়সী কন্যাসহ তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে রেখে জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জন্মভূমি রাখাইনে বেশ ভালো ছিলো জামাল। কিন্তু সামরিক বাহিনী ও মগদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ তাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। জামালের বোন রুয়াইদা বেগমের চোখের সামনেই তার ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের নানা স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। রুয়াইদার জীবনের মতো ভাই জামালের জীবনেও ঘটেছে করুণ ট্র্যাজেডি। ঈদের দুদিন আগের ঘটনা। নবজাতকসহ স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে রেখে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান জামাল। হঠাৎ বর্মীদের আক্রমণ। বর্মীরা তার দোকান লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণে বেঁচে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন জামাল। কিন্তু কলিজার টুকরা সন্তান আর স্ত্রীকে না পেয়ে অবেশেষে পাড়ি দেন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। টেকনাফে এসে নিজের ভাই-বোন ও মায়ের সন্ধান পেলেও নিজের স্ত্রী আর ৩ কন্যার খোঁজ মেলেনি। জামালের মতো এ রকম হাজারো মানুষের নিদারুণ কষ্টের বিভীষিকার কথা লিখলে সমাপ্তি টানা যাবে না।
২. রোহিঙ্গাদের মাতা-পিতা ভক্তি এক অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত : আরকান রাজ্য থেকে টেকনাফের দুরত্ব এক কিলোমিটার কিংবা দুই কিলোমিটার নয়! মিয়ানমার থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। কারও কারও কাছে ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা কমই মনে হতে পারে! কারণ বিজ্ঞানের এই যুগে মানুষ লাখো মাইলের পথ দিব্যি পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু জীবন বাঁচানোর তাগিদে কখনও কখনও এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া যে কত কষ্টের তা ভুক্তভোগী ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। মিয়ানমার থেকে টেকনাফের এই পথ পাড়ি দিতে কারো কারো সময় লেগেছে কয়েক দিন। তারপরেও এই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শুধু নিজের জীবনই বাঁচাননি। বাঁচিয়েছেন নিজের স্ত্রী-সন্তান ও বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে। রোহিঙ্গা মুসলমানেরা বৃয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে বোঝা মনে করেননি বরং কাঁধে বহন করে নিয়ে এসেছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। এমন অসংখ্য রোহিঙ্গা তরুণের দেখা মিলছে টেকনাফে। তাদের একজন হতভাগ্য রোহিঙ্গা তরুণ নিজাম। কাঁধে দু’টি ঝুড়ি ঝোলানো। একটিতে বাবা, অন্যটিতে মা। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বাবা মায়ের দুজনেরই দৃষ্টিশক্তি নেই। বয়সের ভারে বাবা-মা দু’জনই হাঁটতে পারে না। কারণ বাবার বয়স ৯৬ আর মায়ের বয়স ৮৭। পৃথিবীর মানচিত্রে এমন দৃশ্য শোভা না পেলেও নিজামের জীবনে ঠিকই শোভা পেয়েছে। বাবা-মায়ের প্রতি এমন শ্রদ্ধাবোধ যদি সবর্ত্র বিরাজ করতো তাহলে বাবা-মায়ের জীবনে কষ্টের গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারতো। নিজামের জীবনের চেয়ে বেশি দাম তাঁর বাবা-মায়ের জীবন এটা বাস্তব  জীবনে সে প্রমাণ রেখেছে। যদিও নিজামের বাবা-মা নিজ ভূমি ছেড়ে আসতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের শ্রদ্ধাবোধ আর অকৃত্রিম ভালোবাসার কাকুতি মিনতি দেখে মা-বাবা অবশেষে রাজি হন। ঘরের মালপত্র নেবার ঝুড়িতে এটিতে মা অন্যটিতে বাবাকে নিয়ে হাঁটা শুরু করেছে নিজাম অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কর্দমাক্ত রাস্তা আর দুর্গম পাহাড়, জঙ্গল,নদী পেরিয়ে জীবন বাঁজি রেখে অবশেষে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে পৌঁছতে পেরেছে নিজাম। তবু তার চেহারার মধ্যে নেই  কোন ক্লান্তির ছাপ। মা-বাবাকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে পেরেছে এটাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। নিজাম স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সুযোগ পায়নি। কারণ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের লেখাপড়া নিষিদ্ধ। কিন্তু নিজাম মা-বাবার সেবায় ব্রত হয়ে যা করেছেন তা সত্যিই বিরল। আমাদের সমাজে অনেকে তাদের বাবা-মায়ের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেনি। বয়োবৃদ্ধ মা-বাবার সেবা যতœ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি কেউ কেউ মা-বাবার কষ্টের উপার্জিত সহায়-সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে রাস্তায় বা বৃদ্ধাশ্রমে ছুঁড়ে ফেলে দেবার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। ওইসব কুলাঙ্গার সন্তানেরা নিজামের মতো মা-বাবার সেবায় জীবন উৎর্সগ করুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
৩. বিশ্ববাসীর প্রতি নূর কাজলের আর্তনাদ : মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একজন নূর কাজল। ১০ বছরের শিশু নূর কাজল যখন তার পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের কথা বর্ণনা করছিল তথন তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। তার ভাষ্যমতে- আমার বাবা আমাকে কোলে নেয়। এমন সময় সেনারা বাইরে থেকে গুলি করে। জানালা দিয়ে গুলি এসে বাবার মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বাবা ঘরের মেঝেতে পড়ে যায়। ভয়ে আমি যখন কাঁদছিলাম বাবা তখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। তখন সেনারা আমাদের ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। আমরা দৌড়ে পালালাম। সেনারা আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিল। আমার বাবা ঘরের ভেতরেই ছিলেন। বাবাকে আর দেখতে পারিনি। পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসি। (খবর আল-জাজিরার) নূর কাজল বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্য চাই। আমি আমার গ্রামে ফিরে যেতে চাই। আমার গ্রামটি অনেক সুন্দর। আমি সেখানে একটি মাদ্রাসায় পড়তাম। মাদ্রাসায় আমি কোরআন শিখতাম। আমার বাবা একজন কাঠুরে। সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। গ্রামের সবাই বাবাকে খুব ভালোবাসত। বাবাও আমাদের খুব ভালোবাসতেন। এখন আর কেউ আমাকে বাবার মতো ভালোবাসে না। আমি আমার গ্রামে ফিরে যেতে চাই। এজন্য বিশ্ববাসীর কাছে আমি সাহায্য চাচ্ছি। আপনারা আমাকে আমার গ্রামে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। উল্লেখ্য মায়ানমার সরকারের নির্যাতনের কারণে ১৬৭টি গ্রামের ৪ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে অসহায় রোহিঙ্গারা।
৪. হামিদা খাতুনের করুণ কাহিনী : ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে আসা নারী হামিদা খাতুন। রাখাইন সেনাবাহিনীর নৃশংসতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাত নামলেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা দরজায় টোকা দেয়। ঘরের ভেতরে ঢুকেই তারা খোঁজে সুন্দরী মেয়েদের। নিজেদের পছন্দমতো কাউকে পেয়ে গেলে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় গহীন জঙ্গলে। এরপর চলে পালাক্রমে গণধর্ষণ। শুধু গণধর্ষণ করেই নরপশুদের খায়েশ মেটেনি। তাই তো তারা নিষ্ঠুরভাবে নারীদের গলা কেটে হত্যার উৎসব করে। হামিদা খাতুনের মতো নির্মমতার শিকার হয়ে বনের ভেতর দিয়ে অজানা গন্তব্যে হেঁটেছেন বেগম বাহার। অবশেষে বেগম বাহার নাফ নদীর কাছে আসতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেন। এ সময় কাপড় দিয়ে পিঠের সঙ্গে বাঁধা ছিল তার আট মাস বয়সী শিশু। কান্নাজড়িত কন্ঠে বেগম বাহার বলেন, আমরা জানি মানুষ যেখানে জন্মগ্রহণ করে থাকে সেটাই তার মাতৃভূমি। অথচ মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধা আর সেনাবাহিনী মানবিকতার তোয়াক্কা না করে অবাধে হত্যাকান্ডের খেলায় মত্ত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গারা যুগের পর যুগ ধরে রাষ্ট্রহীন।
৫. মা বাবা ভাই হত্যার দৃশ্য তাড়া করে ফিরছে সামিরাকে : ষোল বা সতের বছরের এক কিশোরী সামিরা। চোখ মুখে বেদনার ছাপ। চোখের সামনে খুন হয়েছে বাবা-মা ও দুই ভাই। চার বোন হয়েছে ধর্ষণের শিকার। আর নিজে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। ঘটনার দিন সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়িতে ঢুকে পুরুষ ও নারী সদস্যদের আলাদা করে ফেলে। বোনদের ধরে আলাদা একটি রুমে আটকে রাখা হয়। বাবা ও ভাইয়েরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের গুলি করে নিস্তেজ করে দেয়। আমার চোখের সামনে বাবা মা ও দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যা করে সৈন্যরা। সামিরার  ওপর চলে পৈশাচিক বর্বর নির্যাতন। সামিরার গায়ে হাত দেয় সৈন্যরা। একপর্যায়ে তার ঊরুতে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে এক সৈন্য। চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে সামিরা।
৬. জান্নাত বাবাকে দাফনও করতে পারেনি: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১১ বছর বয়সী রোহিঙ্গা বালিকা জান্নাত আরা বেগম। আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবা হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, বাবা ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলান পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পরিবারের জন্য চাল কিনতে বাবা বাজারের দিকে বের হয়েছে। এমন সময় আমরা গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। আমার মা আর আমি খুব ভয় পেলাম। প্রতিবেশীরা আমাদের জানায়, আমার বাবাকে জবাই করা হয়েছে। আমি দ্রুত কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আমার বাবাকে রাস্তার ওপর পড়ে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখি। বাবাকে দুটি গুলি করা হয়েছে। এটা আমার জন্য ও আমার পরিবারের জন্য একটা ভয়াবহ অমানবিক ঘটনা। বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সহযোগীতার চেষ্টা করছে। কিছু সংস্থা ও ব্যক্তিরা সাহায্যের হাত প্রসারিত করছে। আমাদেরকে নিজের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা দরকার। বাংলাদেশ আমাদের দেশ নয়। আমরা রাখাইন রাজ্য থেকে এসেছি এবং আমরা সেখানকার  নাগরিক। বিশ্ববাসীর কাছে করজোড় করে অনুরোধ করছি মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে আপনারা আমাদেরকে সহায়তা করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ