ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে বন্ধ দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টররি শ্রমিকরা

খুলনা অফিস: বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে বন্ধকৃত খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টররি শ্রমিকরা। আর যারা বেঁচে আছেন তাদের মধ্যে কেউ বা অনাহারে কেউ বা অর্ধাহারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অথচ তাদরে পাওনা রয়েেছ ১১ মাসের বেতন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দাদা ম্যাচ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের খোদ সভাপতি টাকার অভাবে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে না পেরে বাসায় মারা যান। বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক আছেন রোগে শোকে কাতর। গত ২০১০ সালে দাদা ম্যাচ বন্ধ হয়ার পর এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক। মৃত্যুবরণকারী অনেক শ্রমিকেরা পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় তারও কোন হদিস নেই। মৃত্যুবরণকারী কয়েকজন হলেন আব্দুল আজিজ, আব্দুল মান্নান, আনোয়ার হোসেন, নূরুল ইসলাম, মানকি, জাহাঙ্গীর হোসনে, আবুল বাশার, লুৎফর রহমান, হাবিবুর রহমান, মুনসুর, জামিল হোসেন, শামসু সানা, এলাহী বক্স, কইয়ুম উদ্দনি, আ. কুদ্দুস, মোহন ও বাদল ব্যাপারী। মৃত্যুবরণকারী এসব শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় কিভাবে আছেন তারও কোন হিসাব পাওয়া যায়নি।
দাদা ম্যাচ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মৃত দিলখোস মিয়ার স্ত্রী পাপিয়া খানম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার সময় অর্থ রেখে যেতে পারেনি কারণ তার তখন ১১ মাসের অর্থই বকেয়া ছিল। অর্থ রেখে যাওয়া তো দূরের কথা টাকার অভাবে সে ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারেনি। তাই সে মারা যাওয়ার পরে আমি এক সন্তানসহ দিশেহারা হয়ে পড়ি। কোন কিনারা না পেয়ে আমার ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সংসার কাঁধে তুলে নেয়। বর্তমানে আমার সন্তান সামান্য টাকা বেতনে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে  চাকরি করে। যা দিয়ে কোন মতে কষ্টে দিন চলে যায়।
জানা যায়, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন এবং একই বছর ১৮ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর নানা নাটকীয়তা শেষে বন্ধরে এক বছরের মাথায় ২০১১ সালের ৫ মার্চ খালিশপুরের জনসভায় বিসিআইসির আওতায় দাদা ম্যাচ চালুর ঘোষণা দনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেও পত্র দেয়া হয় বিভিন্ন দপ্তরে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বেঁকে বসার কারণে শেষ পর্যন্ত চালু না করেই সরকারের প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু হয়নি।
দাদা ম্যাচ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শাহাদাৎ বলেন, সরকারের প্রধানের বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু না করার পেছনে বড় শক্তি কোথায় সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। অর্থ মন্ত্রণালয় মাত্র ১০ কোটি টাকা ছাড় না দেয়ায় ফ্যাক্টরিটি চালু হচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ