ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেসিসির ১৯৩ মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীর গ্রেডভুক্তকরণ অনিশ্চিত!

খুলনা অফিস: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১৯৩ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীর দাবি গ্রেডভুক্তকরণ বা সাংগঠনিক কাঠামোভুক্তকরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে করে কেসিসি কর্মচারী ও এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতারা ফুঁসে উঠেছে।
কেসিসির নথি থেকে জানা যায়, মাস্টাররোল কর্মচারীদের মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ১২ বছর হয়েছে এবং ৪৯ বছরের নীচে যাদের বয়স বা গ্রেডভুক্ত হয়ার পর ১০ বছর কাজ করার বয়স থাকবে তারা গ্রেডভুক্ত হতে পারবে। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন মিলে ৪১ জন কাউন্সিলর একজন করে গ্রেডভুক্ত করার জন্য নামের তালিকা দিয়েছেন। বাকী কোটা রয়েছে মেয়র ও রাজনৈতিক দলের। এসব বিবেচনায় আসল নকল চেনা হয়ে পড়বে কষ্টকর।
এছাড়া কেসিসি কর্মচারী ও এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির প্রত্যেকে একজন করে গ্রেডভুক্তকরণের কোটা পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। কেসিসির ১৯৩ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী গ্রেডভুক্তকরণ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ জন্য কেসিসির সচিব মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সুপারিশমালা গত মাসে মেয়রের নিকট হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু তা জমা দেয়া হয়েছে কি না তা এখনও জানা যায়নি। ওই সুপারিশ মেয়রের অনুমোদন দেয়া সাপেক্ষে ১৯৩ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী গ্রেডভুক্ত হবে। কমিটি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও প্যানেল মেয়র-২ শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ।
সাধারণ মাস্টাররোল কর্মচারী হাবিবুর রহমান জানান, মেয়র ক্ষমতায় আসার আগেই গ্রেডভুক্তকরণ নিয়ে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। কিন্তু তিনি কেন সমস্যাটি সমাধান করছেন না তা তাদের বোধগম্য নন। তবে তিনি অবিলম্বে তাদের প্রাণের দাবি পূরণের জোর দাবি জানান।
অপর কর্মচারী রফিক জানান, কেসিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের শপথ অনুষ্ঠানে আশা ছিল মেয়র গ্রেডভুক্তকরণের দাবির বিষয়টি আশার আলো দেখাবেন। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে হতাশ করেছিলেন। যা কর্মচারীদের চরম হতাশ করেছে বলে তিনি জানান।
কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দীন হোসেন জানান, এটা শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি। বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ১৯৩ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী গ্রেডভুক্তকরণের বিষয়টি নিয়ে উভয় ইউনিয়ন আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে নানা নাটকের পর মেয়র এ ব্যাপারটি নিষ্পত্তিকরণের জন্য গত বছর অক্টোবর মাসে যাচাই বাচাই কমিটি গঠন করে। যার কার্যক্রম এখনও চলছে। কবে নাগাদ শেষ হবে, তা তারা কিছু জানেন না। সব কিছু যেন তাদের থেকে অন্ধকারে রাখতে চায় কর্মকর্তারা। এ জন্য তারা সাধারণ কর্মচারীদের চাপের মুখে আছেন। উভয় ইউনিয়ন বৈঠক করে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।
কেসিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন রাজা বলেন, কেসিসির প্রত্যেক মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীর গ্রেডভুক্তকরণের বিষয়টি প্রাণের দাবি। এ দাবি পূরণের পর ওই শ্রমিকের স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন খুব কাছে চলে আসে। সহস্রাধিক মাস্টাররোল শ্রমিক সবাই চায় গ্রেডভুক্ত হতে। তবে যাচাই বাছাই কমিটির আইনী কাঠামোতে একটি অংশ এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মহল বিশেষ নানা টালবাহানা করছে। এতে করে তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা জানান, গ্রেডভুক্তকরণ বিষয়টি কি অবস্থায় আছে তা ভালভাবে জানার জন্য আজ যাচাই বাচাই কমিটির চেয়ারম্যান কেসিসির সচিব ইকবাল হোসেনের সাথে প্যানেল মেয়র-২ হাফিজুর রহমানকে সাথে নিয়ে দেখা করবেন। সচিব যদি দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না দেখান তাহলে তারা বের হয়ে এসে উভয় ইউনিয়ন যৌথ সভা করে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানান।
কমিটির চেয়ারম্যান কেসিসির সচিব ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ