ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালীর প্রাচীনতম ছনুয়ার কাতেবী মসজিদ

বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের ঐতিহাসিক কাতেবী জামে মসজিদ

মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের কাতেব পাড়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ মানবহিতৈষী, ইসলাম প্রচারক কাতেব শাহ্ (র:) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কাতেবী জামে মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন ১৬টি ছোট গম্বুজ ও ৫টি বিশাল আকারের গম্বুজসহ মোট ২১টি গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি কাতেব শাহ আউলিয়ার স্মৃতি হয়ে আছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১২৫০ খিষ্টাব্দের আগে হযরত কাতেব শাহ (র:) চট্টগ্রামে আসেন। তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক। কাতেব শাহ একজন বিখ্যাত সূফী সাধক ও ইসলাম প্রচারক ছিলেন।তার প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের ঐতিহাসিক কাতেবী জামে মসজিদটি অতি পাচীন আমলের।তিনি চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় থেকে ছনুয়ায় এসে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নাম থেকেই কাতেবী মসজিদ নামকরণ করা হয়। প্রাচীর বেষ্টিত মসজিদ কমপ্লেক্সটির পূর্বদিকে রয়েছে একটি প্রবেশ পথ, দক্ষিণে কাতেব শাহ্’র তৈরী করা কবরস্থানের জায়গা। ওখানে রয়েছে তার মাজার। মসজিদের ছাদটি প্রাচীন কারুকার্য অত্যন্ত প্রাচীন ও শক্ত প্রাচীর দিয়ে নির্মিত। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে মুসল্লিদের জন্য অযুখানার ব্যবস্থা।তাছাড়া ছনুয়া কাতেব শাহ (র.)সড়ক নামের একটি সড়কও নামকরণ করা হয়েছে।জানা যায়,১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খুদুকখালী আসেন।অনেক দিন এখানে ধর্মপ্রচার করার পর কাতেব পাড়ায় ১৩৮৮ইং,১২২৪ বঙ্গাব্দে মসজিদটি পতিষ্ঠা করেন।কাতেব আউলিয়া সাগর পথে পাথরে করে আসার পর দক্ষিণ ছনুয়ায় পাথরঘাটা নামের একটি গ্রামের নামকরণ করা হয়।অজস্র পাথরে ভরা পাথরঘাটা সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই সৈকতে বেড়ানোর জন্য পর্যটক মহল ছুটে আসছেন। ইতিহাসবিদদের মতে,মোগল ঐতিহাসিক শিহাব– উদ–দিন তালিশের আনুমানিক ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের একটি বিবরণে কাতেব শাহ্ (রঃ) মসজিদের কথা উল্লেখ রয়েছে। মসজিদের রয়েছে ছোট বড় মোট ২১টি গম্বুজ। যেগুলো হাজার বছরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ানো। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন নিয়তে মানুষ কাতেবী মসজিদে আসে।মুসলিম,হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মালম্বীর মানুষ মানত করতে আসে।তৎমধ্যে মুসলমানের মসজিদে জিকির আজকার, প্রার্থনা, ইবাদত বন্দেগী করেন। কেউ মোমবাতি, হাদিয়া– নাজরানা দিচ্ছেন মসজিদের দানবাক্সে। মসজিদের পুকুর থেকে পানি নিয়ে নিয়ত করে খেয়ে রোগ থেকে মুক্তি পেতে আশা করেছেন। মসজিদের নামে পায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমি রয়েছে। সম্প্রতি এই মসজিদে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এলাকার মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রতিধিদের দেওয়া পতিশ্রুতি মতে তা বাস্তবায়ন করেছে বলে জানা গেছে। ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হার“ন বলেন আমার ছনুয়া ইউনিয়নের কাতেবী মসজিদের ইতিহাস অনেক প্রাচীনতম মজিদ এ মজিদ উন্নয়নের ব্যাপারে যথাযথ ভাবে কাজ করে যাব এবং সরকারের প্রতি আবেদন এই মজিদের কর্মকান্ডের জন্য বরাদ্দ রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। এই মজিদে  যেভাবে যাবেন: চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে বাঁশখালীর চাম্বল বাজার নেমে চাম্বল বাজার থেকে ছনুয়ায় ওই মসজিদে যাওয়ার জন্য সিএনজি পাওয়া যাবে।সিএনজি গাড়ি করে সরাসরি কাতেবী মসজিদে যাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ