ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঁচ মাস পর-

খুলনা অফিস: খুলনার ডুমুরিয়ায় গৃহবধু হাফিজা বেগম (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ মাস পর আদালতের নির্দেশে থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের শোলগাতিয়া গ্রামের হতদরিদ্র আজিবুর রহমান মোল্যার একমাত্র মেয়ে হাফিজা বেগমের সাথে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের আইতলা গ্রামের আতিয়ার রহমান শেখের ছেলে বাবুল শেখের গত চার বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকরসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা যৌতুক দেয় তার পিতা।
বছর দুই পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় মরিয়ম খাতুন নামের এক কন্যা সন্তান। এরপর থেকে হাফিজা বেগমের স্বামী, শ^শুর ও শাশুড়ী মিলে আরও যৌতুক আনার জন্য বিভিন্ন সময় মারপিট ও  চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
এক পর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল স্বামীর দাবীকৃত টাকা আনতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী বাবলু শেখ (২৫), শ^শুর আতিয়ার রহমান (৫৫) ও শাশুড়ী জাহানারা বেগম (৪৫) গৃহবধূ হাফিজাকে পিটিয়ে ও শ^াসরোধ করে হত্যা করেছে বলে হাফিজার পিতা মামলায় উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেলে আমার মেয়েকে মোবাইল করে কোন খবর না পেয়ে এসে পাশের লোক বলে তোমার মেয়ে অসুস্থ হাসপাতালে আছে। তাৎক্ষনিক ডুমুরিয়া হাসপাতালে গিয়ে দেখি বারান্দায় মেয়ের মৃতদেহ ফেলানো তবে শ^শুর বাড়ীর কোন লোকজন ছিল না।
পরবর্তীতে থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। যার নং-৩১। এ ঘটনায় মেয়ের পিতা আজিবুর মোল্যা বাদি হয়ে পাঁচ মাস পর গত ৫ সেপ্টেম্বর খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন, যার নং-৪৫৭/১৭।
মামলাটি দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ওই দিনই মামলাটি এজাহার হিসেবে গন্য করার জন্য ডুমুরিয়া থানার ওসি’কে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক থানা অফিসার ইনচার্জ গত ১১ সেপ্টেম্বর বাবলু শেখ, আতিয়ার শেখ ও জাহানারা বেগমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ (সংশোধিত/২০০৩ (ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করেন। মামলা নং-০৭।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তদন্ত আব্দুল খালেক জানান, মামলা তদন্ত চলছে এবং আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ