ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেশে ফিরেছে ৮৫ হাজার হাজী শেষ ফ্লাইট ৫ অক্টোবর

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে প্রতারণার শিকার ২৩ হাজির উদ্যোগে সিয়াম ওভারসিজ-এর মোয়াল্লেম শফিকুল ইসলাম কর্তৃক হাজীদের সাথে প্রতারণা ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

মিয়া হোসেন : গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৮৫ হাজার ২২ জন হাজী। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফিরতী হজ্ব ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এ পর্যন্ত ১৪৯জন বাংলাদেশী পবিত্র হজ্ব পালন করতে গিয়ে ইন্তিকাল করেছেন। এদিকে হজ্ব এজেন্সি ও গাইডদের অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ করছে হাজীরা। সৌদি আরবে মক্কা হজ্ব মিশনে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। আর দেশে ফিরেও সরকারের কাছে বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে হাজীরা।
সৌদি আরবের পরিসংখ্যান অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ লাখ ৫২ হাজার ১৪ হজ্ব হজ্বযাত্রী পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন। সৌদি আরবে আগত এসব হাজীদের মধ্যে আকাশ পথে ৯৪ শতাংশ, স্থল পথে ৫ শতাংশ এবং নৌ পথ ব্যবহার করে সৌদি আরবে এসেছেন ১ শতাংশ । যার মধ্যে মহিলা ৪৬.৩ শতাংশ, পুরুষ ৫৩.৭ শতাংশ।
মক্কাস্থ হজ্ব অফিসের তথ্যে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৮৫ হাজার ২২ জন হাজী দেশে ফিরেছেন। তাদেরকে নিয়ে আসতে সর্বমোট ২৪৪ টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১১৪ টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১৩০ টি। এ বছর ৩৭০টি ফ্লাইটে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯জন (ব্যবস্থাপনা সদস্য সহ) হজ্বযাত্রী পবিত্র হজ্ব পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ইন্তিকাল করেছেন ১৪৯ জন হজ্বযাত্রী ও হাজী। এদের মধ্যে পুরুষ-১১৮, মহিলা-৩১; মক্কা-১০৫, মদিনা-২২, জেদ্দা-০৬, মিনা ১৬ জন ইন্তিকাল করেছেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এক এজেন্সি ও গাইডের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ করেছেন ২৩ হাজি।
তাদের অভিযোগ, এক এজেন্সির নামে হজে পাঠিয়ে পরে তাদের আরেক এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া হয়। গাইড শফিকুল ইসলাম উন্নত বাসস্থান, মানসম্মত খাবার ও যানবাহনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা না করে ‘প্রতারণা’ করেছেন। তাদের জিম্মি করে আদায় করা হয়েছে অতিরিক্ত অর্থ।
২৩ জনের পক্ষে মো. মিজানুর রহমান ও শেখ শরীফুল ইসলাম নামে দুজন ওই অভিযোগ তুলে ধরেন।
অন্যদিকে গাইড শফিকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এজেন্সি ও হাজিদের ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’।
অভিযোগকারীদের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তারা পাঁচ ভাই-বোন ও আত্মীয়সহ মোট আটজন শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে হজে গিয়েছিলেন। আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শফিকুল, যার কিছুই সে রাখেনি। বিমানে ওঠানো থেকে শুরু করে হজের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছি।”
মিজানুর বলেন, শফিকুল তাদেরকে নিজের হজ্ব এজেন্সি মডার্ন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের নামে হজে নিলেও পরে সিয়াম ওভারসিজ নামের আরেক এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করে দেন। খাবার, যাতায়াতসহ আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো নিজেই দেখবেন বলে জানান। ফলে সিয়ামের হজ্বযাত্রীদের সঙ্গে থাকলেও অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা পাননি অভিযোগকারীরা।
আরেক ভুক্তভোগী শেখ শরীফুল ইসলাম জানান,  মা, খালা ও আত্মীয়সহ তারা মোট পাঁচজন এবার হজে গিয়েছিলেন শফিকুলের মাধ্যমে। হজের সময় গাইড সার্বক্ষণিক সাথে থাকার কথা। কিন্তু শফিকুল যাননি, লোক দেওয়ার কথা বলেও দেয়নি। আমাদের বলেছিল তিন তারকা হোটেলে রাখবে। তিন বেলা বুফের খাবার পাওয়া যাবে। যাতাযাতের জন্য গাড়ি দেওয়া হবে। অথচ আমাদের সাধারণ একটি বাড়িতে রেখেছে। অতি নিন্মমানের খাবার পলিথিনে করে দিয়ে যেত স্থানীয় ক্যাটারিংয়ের লোক। যাতায়াত করতে হয়েছে নিজেদের খরচে।
শরীফুল বলছেন, ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবার খেয়ে তাদের দলের ২৩ জনই পেটের পীড়ায় ভুগেছেন। হাসপাতালেও যেতে হয়েছে কয়েকজনকে। অসুস্থতাসহ অন্যান্য অসুবিধার কথা জানিয়ে ফোন দেওয়া হলে গাইড শফিকুল ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে মক্কায় হজ্ব মিশনের সহায়তায় আমরা চিকিৎসা নিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিয়াম ওভারসিজের পরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম ঢালি বলেন, “শফিকুল আমাদের কাছে ২৩ জনকে নিবন্ধিত করে এবং খাবার ও যাতাযাতের ব্যবস্থা সে নিজে করবে বলে জানায়। আমাদের পাওনা টাকা সে এখনো পরিশোধ করেনি। শফিকুল বেশ কয়েক বছর ধরেই হজে লোক পাঠানোর কাজ করে আসছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, ২৩ জনই খুব ভালোভাবে হজ্ব করেছে, এখন হজ্ব করে এসে তারা আমাকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করতে চায়। আমি তাদের যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সব রেখেছি। পুরো বিষয়টিই এজেন্সি আর হাজিদের ষড়যন্ত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ