ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাঘাটায় মজিদেরভিটা গ্রামে আর্সেনিকে আক্রান্ত শত শত মানুষ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের মজিদেরভিটা গ্রামের শত শত মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পান করছেন আর্সেনিকযুক্ত পানি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কিছু টিউবওয়েলের গায়ে ক্রস চিহ্ন দিয়েই কাজ শেষ করেছেন। ফলে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে শত শত মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, উক্ত মজিদের ভিটা গ্রামের প্রত্যেক বাড়ীর টিউবওয়েলের পানি আর্সেনিক যুক্ত। নিরুপায় হয়েই ওই পানিই পান করছে গ্রামের বাসিন্দারা।
আর্সেনিকযুক্ত পানি খেয়ে চর্ম রোগে আক্রান্ত নুরুল ইসলামের পুত্র আল মামুন, তোতা মিয়ার স্ত্রী লাকী বেগম, বাহার আলীর পুত্র আজাহার আলী, আনার আলীর পুত্র মীর হোসেন, আলতাবের স্ত্রী লিলি, রজব আলীর স্ত্রী ময়না বেগমের সাথে কথা হলে তারা জানান, গোটা গ্রামের মানুষই আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করে হাতে, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহিত করেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এর ফলে মঙ্গাপীড়িত ও বন্যা কবলিত সাঘাটা উপজেলায় আর্সেনিকযুক্ত পানি স্বাস্থ্যের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়না উপজেলার হস্তচালিত অগভীর নলকূপগুলোতে। ফলে বাধ্য হয়েই দূষিত পানি পান করছেন আর্সেনিকে আক্রান্ত শত শত মানুষ। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, আর্সেনিক পরীক্ষা আপাতত বন্ধ রয়েছে।
সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে মজিদেরভিটা গ্রাম। এছাড়াও ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ডাকবাংলা ও মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রাম। এসব গ্রামের পানি আর্সেনিক মুক্ত করার জন্য কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে উপজেলার মজিদেরভিটাসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত শত মানুষ আর্সেনিক যুক্ত পানিই পান করছেন। পদুমশহর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান স্বপন জানান, মজিদের ভিটা গ্রামে নলকূপের পানি পরীক্ষার কথা শুনেছিলাম।
তবে এসব নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। যেগুলো নলকূপ চিহ্নিত করেছেন তারা সেগুলোর চিহ্নও আর নেই। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করছেন গ্রামবাসী। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আরেও জানায়, কয়েক বছর আগেই সাঘাটা উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের অস্তিত্ব মিলেছে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে গেল কয়েক বছর ধরে নলকূপের পানি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমাদের বিভাগ থেকে কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ