ঢাকা, শুক্রবার 29 September 2017, ১৪ আশ্বিন ১৪২8, ০৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেসিসি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে তৈরি করছে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ‘ঐক্য’

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিল্পনগরী খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ‘ঐক্য’। ঐক্যের প্রতীক হস্ত মুষ্টিবদ্ধ ভাস্কর্য এখানে শোভা পাবে। পুরোদমে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে পূর্বের নির্মিত ফোয়ারা অপসারণ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফোয়ারা অপসারণের কাজ শুরু হয়। এখন চলছে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ।
গত ১৬ মে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২৩ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির ব্যাসার্ধ হবে ১২ ফুট। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক নাদিমুদৌলা ভাস্কর্যের নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছেন। মডেলটি মোল্ড (ছাচ) করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন মতামত না পাওয়ায় ভাস্কর্য ও তার বেজ নির্মাণ স্থগিত ছিল। এমনই মতামত লিখে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভাস্কর্যের নকশাবিদ কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খানের নিকট আবেদন করেন। তবে এখন সে সমস্যা সমাধান হয়েছে। ঐক্যের স্তম্ভটির প্রস্তাবিত মাপ ছিল ১৬ ফিট, এখন করা হচ্ছে ১২ ফিট। বৃত্তের উচ্চতা ১৮ ফিট, ভাস্কর্যের উচ্চতা ১১ ফিট। দু’মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্নের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা করতে পারেনি ঠিকাদার। ২৩ সেপ্টেম্বর ভাস্কর্যের কাজ সম্পন্নে সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তা এখনও শেষ হয়নি।
কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান বলেন, এটি একটি শিল্পকর্ম। খুব জটিল ও সুক্ষ্ম বিষয়। ভাস্কর্য নির্মাণের স্থানে ছিল পানির ফোয়ারা। তা অপসারণ করতে গিয়ে অনেক বেশি সময় পার করতে হয়। তারপরও আগামী মাসে এ ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নকশাবিদ তার ভাষায় বলেন, পিপলস গোল চত্বরে নির্মিতব্য শিল্পকর্মের নাম হচ্ছে ঐক্য। ঐক্য এমন এক প্রত্যয়, যা মানুষকে সাহস ও শক্তি সঞ্চয়ের পথ সহজ করে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ঐক্য এক অবিকল্প শক্তি; যা সকল বৈরি শক্তির বিরুদ্ধে যেমন দেয় দৃঢ় মনোবল, তেমনি পারস্পরিক সন্দেহ ও দূরত্ব থাকে না বলে মানসিক প্রশান্তির প্রশস্ত দুয়ারও খুলে দেয়। একজন মানুষ তাই একতার মধ্যে পেয়ে যায় তার আত্মিক ও বাহ্যিক মুক্তি। বৃত্ত একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে, সমান দূরত্বে একই সমতলে অবস্থিত সমস্ত বিন্দুর সংকলনই বৃত্ত। বৃত্ত একটি শক্তিবলয়ের রূপ; যার ভেতরে পুঞ্জিভূত রয়েছে শক্তি, সাহস ও ঐক্যের সমন্বিত রূপ। বৃত্তের ভেতরে হাতে হাত রাখা দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ পেশীবহুল হাত একই সঙ্গে শক্তি, সাহস এবং ঐক্যের প্রতীকরূপ চিহ্নয়িত।
যার একান্ত প্রচেষ্টায় এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে সেই ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও খালিশপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক সাহিদুর রহমান সাঈদ বলেন, বেঁধে দেয়া সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী কাজ শেষ করতে আরো এক মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক নাদিমুদৌলা এ ভাস্কর্যের নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, ভাস্কর্যের মোল্ড হচ্ছে ডাইস বা ছাচ। এটার সমস্যা সমাধান হয়েছে। এখন বেজের কাজ চলছে। আগামী মাসে কার্পেটিং করা হবে। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে কাজটি নির্ধারিত সময় শেষ করতে পারা যাচ্ছে না। যখন কাজটি শুরু করা হয় তখন বৃষ্টি ছিল। আর বৃষ্টির কারণে মাটি পাওয়া যায়নি। টেকনিক্যাল কারণেই কাজটি দেরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ