ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের বিপক্ষে গোল জাফরের কাছে ‘স্পেশাল’

স্পোর্টস রিপোর্টার: পাঁচটি গোলই মূল্যবান। তবে তিন গোল হজমের পর ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারানো ম্যাচের গোল দুটি ‘স্পেশাল’। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া জাফর ইকবালের আফসোসের জায়গা একটাই-যদি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হত! নেপালের সঙ্গে পয়েন্ট সমান ৯। গোল পার্থক্য সমান। কিন্তু বাংলাদেশের শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়েছে নেপালের কাছে মুখোমুখি লড়াইয়ে হারের কারণে। ভুটান থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে দেশে ফিরে তরুণ ফরোয়ার্ড জাফর জানালেন, নিজের অর্জনে যতটুকু ভালো লাগছে দল চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় ততটুকুই খারাপ লাগছে। আমি যে পাঁচটি গোল পেয়েছি, সেগুলোতে সতীর্থদের অবদান অনেক কিন্তু তারা তো আমার মতো কিছু পায়নি। চ্যাম্পিয়ন হলে তারাও পেত, আমি আরও বেশি পেতাম।
জাফর জানান, সবগুলো গোলই আমার জন্য দারুণ। কিন্তু ভারতের বিপেক্ষ গোল দুটিকে অবশ্যই স্পেশাল বলব। মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে পাওয়া গোলগুলোর অন্যরকম আনন্দ আছে।
তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে ম্যাচের কথা উঠলেই বন্ধুরা বলত, দ্যাখ ওরা কত এগিয়েছে। আর আমরা কোথায়? আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তখন আমার মনে হত, যদি ওদের সঙ্গে কখনও খেলা হয়, নিজের সর্বোচ্চটা দিব। একশ নয় ১১০ ভাগ দিয়ে দলকে জেতাব। সেটা পেরেছি। তাও আবার এমন ম্যাচে, যখন আমরা তিন গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম।
জাফর জানান, এর আগে জাতীয় দলের হয়ে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলেছি। ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। এবার মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাবার সঙ্গে আমার কথা হল। তিনিও মনে করিয়ে দিলেন ওই হারের কথা। বললেন-এই ম্যাচে তোমরা জিতো। বাবা যখন অনুপ্রেরণা দিলেন, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলেন উৎসাহ দিয়ে, আমিও সেভাবে খেললাম। গোল পেলাম। জিতলাম।
ভুটান ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই কথা। বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ওদের জাতীয় দলের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। যদিও ওই ম্যাচ আমি খেলিনি কিন্তু দেখেছিলাম দলের সবার মনের অবস্থা। আমারও ভীষণ খারাপ লেগেছিল। এ ম্যাচে তাই আমরা খুব করে জিততে চেয়েছিলাম।জাফর বলেন আমাদের প্রতিশোধ নেওয়ার তাড়না ছিল না। কিন্তু ওই খারাপ লাগা কাটিয়ে ওঠার ইচ্ছা ছিল। আমি যখন মাঠে নামি, তখন আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ফরোয়ার্ড হিসেবে গোল পাওয়া উচিত এবং আপনারাও দেখেছেন আমি সবসময় তা পাওয়ার চেষ্টা করি।
জাফর জানান নেপাল ম্যাচের ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আসলেই সবারই ভালো দিন, মন্দ দিন থাকে। আমি বলব ওই দিন আমাদের জন্য মন্দ দিন ছিল। কেননা, ওই ম্যাচে আমরা শুরুতেই গোল পেতে পারতাম। কিন্তু পোস্টে লেগে ফিরল। বলও ঠিকঠাক বের করে নিতে পারছিলাম না। এর ওপর আবার বিশ্বনাথ ঘোষের লালকার্ড পাওয়া। সব মিলিয়ে দিনটি আমাদের ছিল না।
জাফর বলেন বলেন মাঝে মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে ফেলি। তবে বিশ্বাস করি, যদি আরও বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে পারি, তাহলে এ ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে পারব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ