ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বৃহৎ কয়েকটি রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থে পদদলিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার!

 

 

* সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষ

* আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান বাংলাদেশের 

* রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

* দায়ী জেনারেলদের বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র

* চীন ও রাশিয়ার সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন

* ‘জাতিগত নিধন’ হচ্ছে না বলে ধৃষ্টতা সু চির প্রতিনিধির 

সাদেকুর রহমান : বৃহৎ কয়েকটি রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের কাছে পদদলিত হলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার। যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়াই শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দমন-পীড়নে অব্যাহত নৃশংসতা ও বর্বরতার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনোরূপ নিষেধাজ্ঞা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিষদে হয়ে গেল উন্মুক্ত আলোচনা। বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ব কৌতূহলের কেন্দ্রে থাকা নিরাপত্তা পরিষদের পূর্বনিধারিত এই উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনাকে ঘিরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও শান্তিকামী রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যাশা ছিল, শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির দেশে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ও সেখানে নিরাপদে বসবাস নিশ্চিত কল্পে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু প্রায় সোয়া দুই ঘন্টার আলোচনার উপসংহারে সে প্রত্যাশা মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ এবং সফর, বৈঠক ও বিবৃতিতে দৃশ্যত সোচ্চার দাপুটে রাষ্ট্রগুলো হতাশ করেছে বিশেষ করে বাংলাদেশকে। 

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর এদিন রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলাদা সেশনে আলোচনার শুরুতে মহাসচিব মি. আন্তোনিও গুতেরেসের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান ও নিধনকান্ড বন্ধ করার ‘নরম সুরে’ আহ্বান জানানো ছাড়া তেমন কিছুই যেন করার ছিল না বা নেই জাতিসংঘের। আর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও রাখাইনে ‘জাতিগত নিধনের’ মতো কোন কিছু হচ্ছে না বলে চরম মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে মিয়ানমারের নেত্রী সু চির প্রতিনিধি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোও তা হজম করে যেন মিয়ানমারের অপকর্মকে ‘হ্যাঁ’ বলেছে।

চীন ও রাশিয়া তো সরাসরিই মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য দিয়েছে। অন্য দেশগুলোও বলিষ্ঠ কন্ঠে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব না করে কেবল সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েই নিজেদের দায়সারা ভূমিকা পালন করে গেল সুবচন আর নানা কথার ফুলঝুরিতে! তারা নামকাওয়াস্তে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে সুর মিলিয়ে দেশটিতে অবিলম্বে সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে নিরাপত্তা পরিষদের ৭টি সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সেনেগাল, মিসর, সুইডেন, ফ্রান্স ও কাজাখস্তান জাতিসংঘ মহাসচিবকে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতির উপর নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ জানায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতির পর নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

মিয়ানমারে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে এই সভায় বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বাংলাদেশ ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বাইরে এ সভায় বক্তব্য রাখেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও স্টেট কাউন্সেলরের বিশেষ দূত মি. ইউ থাঙ্গ্ তুন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যম রাখাইনে জাতিগত নিধনের অজস্্র প্রমাণ পেলেও আলোচনায় অংশ নিয়ে ফের তা অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী সু চির এই প্রতিনিধি।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের পর এই প্রথমবারের মতো পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে এসেছে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। গত ১৩ সেপ্টেম্বরের পর নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এটি তৃতীয়বারের মতো আলোচনা। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুই দফা রোহিঙ্গা ইস্যূতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে জাতিসংঘে। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা সভায় মিয়ানমারেরই ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। বৈশ্বিক রাজনীতির জটিল সমীকরণ, কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও মিয়ানমারে বড় বড় দেশগুলোর স্বার্থ থাকায় জাতিসংঘ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসলেও তা থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। সমালোচকরা বলছেন, বিশ্ববাসী আলোচনার নামে এক প্রহসনই মঞ্চস্থ হতে দেখলো নিরাপত্তা পরিষদে। যেখানে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো শাস্তির প্রস্তাব। চরম দায়সারা ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়েই শেষ হলো এই প্রহসনের আলোচনা---যা শূন্যগর্ভ আর অসার ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। 

নিরাপত্তা পরিষদের ‘পর্বতের মূষিক প্রসব’ তূল্য এ আলোচনার ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে না আসার পেছনে কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা দমন-পীড়নকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ না করা ও এর জন্য নিন্দা না জানানোকে কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রে প্রথম দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফ করলেও চীন ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিবিড় যোগাযোগের বিষয়টি ছিল প্রায় উপেক্ষিত। সরকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কেউ কেউ কূটনীতিকদের আশ্বাস বাণীতেই যার পর নাই খুশি হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবারও রোহিঙ্গা সংকটে নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়াকে বাংলাদেশের সমর্থনে অবস্থান নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর গতকালই হতাশ কাদের চীনের ‘দ্বিচারিতার’ কঠোর সমালোচনা করেন। 

সমালোচকরা বলছেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে হয়তো আলোচনার ফল ভিন্ন হতে পারতো। তারা আরো বলছেন, শুধু ত্রাণ দেয়া মানেই তো বাংলাদেশের পাশে থাকা নয়। বরং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাঠানো যায় সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমর্থন করাটাই হলো প্রকৃত অর্থে পাশে থাকা। চীন দ্বিচারিতা করলে ভারতও দ্বিচারিতা করছে মন্তব্য করে সমালোচকরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার সময়ই মিয়ানমারে গিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে এসেছেন। অথচ রোহিঙ্গারা যখন মৃত্যুপুরী রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ¯্রােতের মতো বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকলো তখন কড়া প্রতিবাদ বা বিবৃতি না দিয়ে কেবল দফায় দফায় ত্রাণ পাঠিয়ে ‘বন্ধুত্বের’ প্রমাণ দিচ্ছে। 

 রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কূটনীতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শুরু থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালালে এই সংকট এতটা তীব্র আকার ধারণ করতো না। গতকাল রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্ব সোচ্চার হলেও বর্তমান সরকার জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশগুলোকে পাশে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ভারতকে পাশে পাচ্ছে না সরকার। 

এছাড়া রোহিঙ্গা প্রশ্নে সরকারের অবস্থানগত অস্পষ্টতার সমালোচনা করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে জাতিসংঘে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী বলেছেন ত্রাণ সচিব সেখানে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশকারী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের প্রতিবাদে’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, কোন জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রবেশকারী বললে ওই জনগোষ্ঠীর প্রতি দায় দায়িত্ব থাকে না। কিন্তু শরণার্থী বললে ওই সব জনগোষ্ঠীর প্রতি আশ্রয় সরকার ও সেই দেশের জনগণের দায়-দায়িত্ব থাকে। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে বসবাস করছেন। এরপর আবার প্রায় ৫ লাখ নতুন করে প্রবেশ করছে। সরকার তাদের বাসস্থান, খাওয়া পরাসহ নানামুখী কল্যাণের কথা ভাবছে। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য সাময়িক কোন সমস্যা নয় উল্লেখ করে সরকারপন্থী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, রাখাইন রাজ্য ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুতপূর্ণ অবস্থান হওয়ার কারণে বৈশ্বিক সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির মিয়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে বিনিয়োগ ও রাখাইন রাজ্যে বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ, সামরিক আগ্রাসী শক্তিসহ স্বৈরাচার জিইয়ে রাখা, ধর্মভিত্তিক উগ্রতা পরিপুষ্ট করে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা ও উঠতি অর্থনীতির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করাসহ সংশ্লিষ্টসহ অনেক কিছুই এ সবের পেছনে ভূমিকা রাখছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাম্বাসেডর নাসিম ফেরদৌসের মতে, রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা এটা তো মূলত আমাদের সমস্যা নয়। এটা তো হচ্ছে মিয়ানমারের সমস্যা। সুতরাং কোন দেশ আমাদের পক্ষে আর কোন দেশ আমাদের পক্ষে নয় এটা কোন বিষয় নয়। বিষয়টা হচ্ছে, এই বিশাল একটা জনগোষ্ঠী কষ্টের মাঝে আছে কে এই কষ্টের পক্ষে আর কে পক্ষে না। ভারত, চীন ও রাশিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু তারা তো আর তাদের স্বার্থ ছেড়ে আমাদের পক্ষে কথা বলবে না। সবার স্বার্থটা হচ্ছে অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে। এই রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক লাভ ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে কোন আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রগুলোতে একটা সময় কমিউনিস্টরা শাসন করতো। তাদের মাঝে ধর্মের কোন বিষয় নেই। তারা একটি বিষয়ই বোঝে সেটা হচ্ছে লাভ। আর এই লাভ হচ্ছে অর্থনৈতিক লাভ। 

প্রশ্ন ঊঠেছে জাতিসংঘের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও। নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার আগে জাতিসংঘ রুদ্ধ বৈঠক করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে শান্তিকামী রাষ্ট্র ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সেন্টিমেন্ট বুঝার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা আর ধরে রাখতে পারেনি বিশ্ব সংস্থাটি। এর আগে গত বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৮ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ঘিরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটার দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান মি. ফিলিপ্পো গ্রান্দি। রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার বিষয়ে জানাতে ডাকা এই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশান্তরী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে জেনেভায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে। সেখানে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে। তবে তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে দেয়া হবে কিনা। এটা একেবারেই স্পষ্ট যে, এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং সমাধানও মিয়ানমারের কাছে। তাদেরই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। পরদিন বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলকেও রাখাইনে ঢুকতে দেয়নি মিয়ানমার।

 মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী ও সীমান্ত পাড় হয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছে। মগ সেনা ও উগ্রবাদী বৌদ্ধরা নিরীহ রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ করেছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। সেই আলোচনার ঝড় বিশ্ব দরবার পর্যন্ত পৌঁছেছে। জাতিসংঘ স্বপ্রণোদিত হয়ে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান বাংলাদেশের : নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সোচ্চার ছিল বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ‘গত তিন দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আন্তর্জাতিক চাপ সরে গেলে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা গতি হারিয়ে ফেলে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানাই, তারা যেন এই চাপ অব্যাহত রাখে।’

মাসুদ বিন মোমেন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ ও মিয়ানমার সফরের আহ্বান জানান যেন তারা রোহিঙ্গাদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন হচ্ছে, সেটি জানতে পারেন। তিনি বলেন, এমনকি গতকালও (বুধবার) ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে ধর্ষণ, ঘরে আগুন দেয়া, হত্যার মতো অপরাধ করা হচ্ছে, যেন রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকে পালিয়ে যায়।

মাসুদ বলেন, রাখাইনে সম্প্রতি ঘটনাবলী একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপত্তা না দিতে পারাটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ হয়েছে তার যেন তদন্ত করা হয়।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, ‘আগস্টের শুরু থেকে দুই ডিভিশন মিয়ানমার সৈন্য বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে। অন্তত ১৯ বার মিয়ানমার হেলিকপ্টার ও ড্রোন বাংলাদেশ আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, সীমান্তে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখছে, এমনকি বাংলাদেশের একজন জেলেকে তারা হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ভালো প্রতিবেশী হিসেবে সংযমের পরিচয় দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে সহিংতা থামাতে হবে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম রু করতে হবে।’ এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো ও আনান কমিশনের রিপোর্টেও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন স্থায়ী প্রতিনিধি।

রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের : জাতিসংঘ মহাসচিব মি. আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক উন্মুক্ত আলোচনার শুরুতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং লাখো লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। মিয়ানমারের সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে মন্তব্য করে মহাসচিব এই চরম মানবিক সংকটে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন। তিনি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ, মানবাধিকার কর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীদের রাখাইনে প্রবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। মহাসচিবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অবিলম্বে চালু করতে দিতে হবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, কারণ ১৯৯৩ সালের চুক্তি যথেষ্ট নয়। তিনি তার বক্তব্যে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতা বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি করেছে যা কিনা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নেই : রোহিঙ্গাদের ওপর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি অবিলম্বে বন্ধ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আশা করেছিল। কিন্তু তা হয়নি। এমন বর্বরতা ও অব্যাহত নিধনকান্ড চলমান থাকা সত্ত্বেও কোনো সদস্য রাষ্ট্রই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেনি। প্রস্তাব করেনি কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞারও। নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ না করতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি তার প্রস্তাবে বলেছেন- মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অবিলম্বে চালু করতে দিতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে মিয়ানমারে কাজ করতে দিতে হবে। কোনো দেশের তরফে মিয়ানমারের ওপর নিষেজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব না করাটা ছিল এক কথায় বিস্ময়কর।

 কেবল নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিজ নিকি হ্যালি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানালেও কোনোরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেননি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তবে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

মিয়ানমারে বর্বরতা এবং জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনকান্ড চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি অং সান সুচির প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত করে বলেন, সেখানে যা ঘটছে তাতে দেশটির নেতাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। এছাড়া রাখাইনে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোকদের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি তার প্রস্তাবে আরো বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মানবাধিকারকে সম্মান দিতে হবে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জেনারেলদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে বিচার করতে হবে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মিয়ানমারের পক্ষেই অবস্থান নিল চীন : নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র পরাশক্তি চীনের দেয়া বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত, পক্ষপাতদুষ্ট ও দায়সারা। চীন রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল আখ্যা দিয়ে এর দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান আশা করে। কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের কোনোরূপ নিন্দা করেনি চীন। কে আক্রান্ত আর কে আক্রমণকারী - তা বেমালুম চেপে গিয়ে চীন শুধু বলেছে, তারা রাখাইনে সব ধরনের সহিংসতায় উদ্বেগ।

এখানেই শেষ নয়, চীন মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, ‘চীন মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছে।’ এজন্য তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আর একই সঙ্গে ধাপে ধাপে বিষয়টির সমাধান আশা করেছে।

চরম সুবিধাবাদী অবস্থান রাশিয়ার : রাশিয়ার অবস্থানও প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করারই নামান্তর। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়ার অবস্থান চরম সুবিধাবাদেরই নির্লজ্জ পরাকাষ্ঠা। ‘আমরা দেখছি সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে’-এমনই পক্ষপাতদুষ্ট, বিবেকহীন অবস্থান ছিল রাশিয়ার। শান্তিকামী রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ‘সন্ত্রাসী’ কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা আর আরসার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢেকেছে’ ভøাদিমির পুতিনের রাশিয়া।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা রাখাইন পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমরা দেখছি সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাশিয়াও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়। তবে রাশিয়া মনে করে, সমাধানের উপায় বেশ জটিল।

চীন-রাশিয়ার পথেই হাঁটল জাপান : নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য জাপানের অবস্থানও ছিল ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি।’ মিয়ানমারের নিন্দা না করে তারা কেবল রাখাইনে সহিংসতা ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কথিত হামলার জোরালো নিন্দা জানিয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মানবিক বিপর্যয়ে জাপান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছি। অবশ্য জাপান এও মনে করে, এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ এগিয়ে নেয়া, বিশেষ করে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা প্রদান।

ফ্রান্সসহ অন্যরাও নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ রাখলো ভূমিকা : নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব রয়েছে। সেখানে প্রথম অগ্রাধিকার হলো সহিংসতা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তা দেয়া। একই সঙ্গে মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও গণতন্ত্রের রূপান্তরে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স। চলমান সহিংসতার ব্যাপারে ফ্রান্স কেবল এটুকু বলেছে:‘...তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনে নীরব থাকা সম্ভব নয়।’ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে ফ্রান্স বলেছে, শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। ফ্রান্স মনে করে, তাদের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো সেখানে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বৈষম্যের অবসান ও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন।

এ আলোচনায় সেনেগাল, সুইডেন, ইতালি, ইউত্রেন, উরুগুয়ে, বলিভিয়া এবং ইথিওপিয়া অংশ নিলেও তাদের বক্তব্যের সুরও ছিল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর অনুকরণে। তারা সবাই নিরপেক্ষতার ভান দেখাতে গিয়ে মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধকেই সমর্থন দিয়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ