ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রথম থেকে বলে আসছি প্রধানমন্ত্রীর চীন-রাশিয়া-ভারত সফর করা উচিত -মির্জা ফখরুল

গতকাল শুক্রবার আইডিইবি মিলনায়তনে জিসাস আয়োজিত ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রাশিয়া-চীন-ভারত’ সফরে যেতে বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় নিরাপত্তা পরিষদের ‘নিষ্ফল’ বৈঠকের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমরা বরাবর বলে আসছি, কেউ করে দিয়ে যাবে না তো। আপনার চীন, রাশিয়া, ভারত আজকে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা প্রথমদিন থেকে বলছি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর এখন চীন, রাশিয়া, ভারতে যাওয়া উচিৎ এবং তাদেরকে কনভিন্স করা উচিৎ যে এটা আমাদের জন্য বিশাল একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিশ্ব বিবেককে আবেদন জানাই, এখন আর সময় নেই। আপনারা এগিয়ে আসুন। মিয়ানমারকে বাধ্য করুন তাদেরকে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং এই নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সভা কক্ষে জিয়া সাংস্কৃতিক সংস্থা(জিসাস) এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসেম রানা‘র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদারসহ কয়েকজন শিল্পী বক্তব্য রাখেন। সভায় জিয়াউর রহমান সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিদর্শন করে আসা বিএনপি মহাসচিব বলেন, কী মানবেতর জীবন তারা যাপন করছে কল্পনার বাইরে। মাথার উপর ছাদ নেই। ছোট ৫/১০ দিনের শিশুকে বুকের মধ্যে নিয়ে একটা ছোট প্লাস্টিকে ঢেকে রেখেছে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। এই নৃশংতা (অশ্রুসজল কন্ঠে) । আমি দুঃখিত মাঝে মাঝে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। হয়তবা এজন্য যে, এখনো পুরোপুরি রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে পারিনি।

তিনি বলেন, একটি জাতিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করবার জন্য মিয়ানমার সরকার কাজ করছে, আমরা (বাংলাদেশ) চুপ করে বলে আছি, এমনকি একটা শক্ত কথাও বলি না। খেয়াল করে দেখবেন এখন পর্যন্ত গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সরকারকে বাংলাদেশ সরকার দায়ী করেনি, এখন পর্যন্ত এই সরকার মিয়ানমার সরকারের নিন্দা জানায়নি।

 রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার ভুমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কি দে্েশ আমরা বাস করছি, কী পৃথিবীতে আমরা বাস করছি যেখানে মানুষ্যত্বের কোনো মূল্য নেই, মানবতার কোনো মূল্য নেই। শুধু ক্ষমতা আর তার অর্থনৈতিক স্বার্থই বড় হয়ে দাঁড়ালো? কী কারণে চীনের মতো দেশ মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে, কী কারণে রাশিয়ার মতো দেশ মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে। কী কারণে ভারত সমর্থন দিচ্ছে যারা গণতন্ত্রের জন্য, মানবাধিকারের জন্য বিশ্বে নন্দিত তারা আজকে কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বলেছেন আমরা ত্রাণ পাঠিয়েছি। এটা জুতা মেরে গুরুদানের মতো অবস্থা আর কী? একদিকে খুন করছো, হত্যা করছো, আমার আমার স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে ফেলেছো অন্যদিকে বলছো ত্রাণ পাঠাচ্ছি। বন্ধ করো এই গণহত্যা।

কফি আনামের সুপারিশের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন কী চাপ দিচ্ছে তারা? কফি আনানের যে সুপারিশ, সেই সুপারিশ দিয়ে কাজ করতে হবে। সুপারিশটা উনারা(সরকার) পড়েছেন কিনা জানি না। সেখানে একবারও রোহিঙ্গাদের কথা বলা হয়নি, রাখাইনবাসীদের কথা বলা হয়েছে। সেই সুপারিশে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয় নাই।

 আমরা বার বার বলে এসছি, এই শরনার্থী যারা, সরকার তাদেরকে শরনার্থী স্বীকার করতে রাজি না, বলছে অনুপ্রবেশকারী। জানি না এর মধ্যে কী ডিপ্লোমেসি আছে। যারা দেশ-জমি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে চলে এসছেন অন্যদেশে, আমরা তাদের শরনার্থী বলি। আমরাও তো ভারতে ছিলাম শরনার্থী হিসেবে একাত্তর সালে। আমরা বলেছি, তাদেরকে আশ্রয় দিতে হবে সাময়িকভাবে এবং তাদেরকে ফেরত পাঠাতে হবে স্বসম্মানে তাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে।

সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত পাঁচদিনের ৫ জনকে গুম করে ফেলা হয়েছে। একজনকে দয়া পরবশ হয়ে মৌলিভীবাজারে ছেড়ে দিয়ে এসেছে। এক কোনো দেশে কোন রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করি যেখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। ফরহাদ মজহারের মতো বিশিষ্ট মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং রাত্রিবেলা তাকে পাগল বানিয়ে ফেরত দিয়ে দেয়। আজকে কয়েক হাজার মানুষ গুম হয়ে গেছে, নিখোঁজ হয়ে গেছে। এই হচ্ছে দেশের গুম ও হত্যার সংস্কৃতি। আমাদের নেতা-কর্মীরা মিথ্যা মামলায় পড়ে গেছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের কোনো ত্রান নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার ও আওয়ামী লীগের কোনো ত্রান এখন পর্য়ন্ত নেই। যা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ, ছুটে ছুটে যাচ্ছে উখিয়া-টেকনাফে এান নিয়ে। আজকে বিদেশ থেকে এতো ত্রান সামগ্রি আসছে, সেখানে গিয়ে শুনিনি যে, বিদেশী ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। এতোদিন পর সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেই সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছে। আমরা গতকালও বলেছি সেনাবাহিনী পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হোক যাতে করে শেড নির্মাণ, খাবার সরবারহ ও তাদের নিরাপত্তা দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আবরো জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ