ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বিপদে মুশফিকরা

* দক্ষিণ আফ্রিকা - ৪৯৬/৩ ডিক্লেয়ার্ড (১৪৬ওভার) 

* বাংলাদেশ - ১২৭/৩ (৩৪ ওভার)

রফিকুল ইসলাম মিঞা : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করার সুযোগ দিয়েছিল স্বাগতিকদের। আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে চা বিরতির পর ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথমেই হারায় দুই উইকেট। দলীয় ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৩৬ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। রাবাদার বলে ইমরুল কায়েস ৭ রানে আউট হওয়ার পর মরকেলের বলে লিটন দাস আউট হন ২৫ রানে। দলীয় ৩৬ রানে প্রথম দুই উইকেট হারালেও অধিনায়ক মুশফিক আর মুমিনুল মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। এই জুটি দলকে শতরান পেরিয়ে ১০৩ রান নিয়ে আর টিকতে পারেননি। দুইবার লাইফ পাওয়া মুশফিকের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। মুশফিককে ফিরান কেশব মহারাজ। আউট হওয়ার আগে মুশফিক করেন ৪৪ রান। ফলে ১০৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটে ৩৪ ওভারে ১২৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন পার করে তারা। দলের পক্ষে তামিম ইকবাল ২২ রানে আর মুমিনুল ২৮ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। এখনও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে ৩৬৯ রানে। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসটা আরো বড় করতে পারত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। সুযোগও ছিল। কিন্তু সেটা করেনি দলটি। দ্বিতীয় দিনের শেষের দিকে তিন উইকেটে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই স্কোরটাকেই যথেষ্ঠ মনে করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে প্রথম দিনেই এক উইকেটে ২৯৮ রান করে বিশাল স্কোর গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। গতকাল সেটাই করেছে দলটি। প্রথম ইনিংসে ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশকে বিশাল চাপে ফেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৯৬ রানের পিছনে বড় অবদান ওপেনার এলগারের। মাত্র এক রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত এই ওপনার করেছেন ১৯৯ রান। এছাড়া দলের হয়ে হাশিম আমলাও করেছেন সেঞ্চুরি। আর ওপেনার মার্করাম মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ফলে এলগারের ১৯৯ রান, আমলার ১৩৭ রান ও মার্করামের ৯৭ রানের উপর নির্ভর করেই দলটি পৌঁছে যায় ৪৯৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর আর শফিউল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট। প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা এক উইকেটে করেছিল ২৯৮ রান। দলের পক্ষে এলগার সেঞ্চুরিসহ ১২৮ রানে আর আমলা ৬৮ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। গতকাল ব্যাট করতে নেমে এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার আগে দলটি পৌঁছে যায় ৪১১ রানে। আমলার বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। তবে আউট হওয়ার আগে আমলা সেঞ্চুরিসহ করেন ১৩৭ রান। এটা তার ক্যারিয়ারের ২৭তম আর বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আমলা আউট হলেও দলকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন ওপেনার এলগার। প্রথম দিন সেঞ্চুরিসহ ১২৮ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা এলগার দেড়শত রান পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন। কিন্তু দলীয় ৪৪৫ রানে ফিরতে হয় তাকে। ১৯৯ রান করা এলগারকে আউট করেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ৩৮৮ বলে ১৫ চার আর ৩ ছক্কায় ১৯৯ রান করেন তিনি। মোস্তাফিজের স্কোয়ার শর্ট বল ব্যাটের কানায় লেগে মিড উইকেটে উঠে যায়। মুমিনুলের হাতে বল জমা হওয়ার আগেই বাংলাদেশ শিবিরে সেরা উইকেট পাওয়ার উল্লাস। এটাই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এর আগে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের টেস্টে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৪০। আর প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৯ রানে আউট হলেন তিনি। এর আগে দলীয় ৪১১ রানে আউট হন অপর সেঞ্চুরিয়ান হাশিম আমলা। তাকে ফিরান পেসার শফিউল ইসলাম। হাশিম আমলার উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ৭০০০০তম উইকেট নেয়া শফিউল ইসলাম রেকর্ড বুকে ঠাঁই পেয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটের ৭০০০০তম উইকেট শিকারী বাংলাদেশের এ পেসার। গতকাল মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিলেন শফিউল ইসলাম। ডানহাতি এ পেসারের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন আমলা। ২০০ বলে ১৩৭ রান করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে ডিন এলগারের সঙ্গে ২১৫ রানের জুটি গড়েন আমলা। তিন উইকেটে ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করা দলের পক্ষে বাভুমা ৩১ রানে আর অধিনায়ক ডু প্লেসিস ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৪৬ ওভার ব্যাট করেছে স্বাগতিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ