ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্বস্তি আসেনি চালের বাজারে বেড়েছে সবজির দাম

বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিশেষ করে তরিতরকারির মূল্য প্রতি কেজি কমপক্ষে ৬০ টাকা যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অতিসত্বর বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে কিছুটা কমেছে। তবে এখনো খুচরা বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি। যে চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছিল তা এ পর্যন্ত কমেছে দুই থেকে তিন টাকা। কোনো কোনো বাজারে চার থেকে পাঁচ টাকাও কমেছে। তবে বাড়তি দাম পুরোটা কবে কমবে এর কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে সবজির বাজারে বেশকিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আর আগে বৃদ্ধি পাওয়া সবজির দামও কমেনি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজাত চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৭ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি (ভালো মানের) ৬২ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৫-৫৬ টাকা, বিআর-২৮ ৫৫ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৫৫, হাস্কি ৫৪, পাইজাম চাল ৫২ টাকা, বাসমতি ৬৬ টাকা, কাটারিভোগ ৭২ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ওদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, মোকামে অর্ডার দেয়া নতুন চাল খুচরা বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাই আস্তে আস্তে দাম কমছে। 

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পরিসংখ্যানে গত এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। বছর ভিত্তিতে টিসিবি দেখিয়েছে এক বছর আগে এ চালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। আর বাজারে বর্তমানে এ চালের দাম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৫০ টাকা দরে। সংস্থাটির হিসাবে গত এক সপ্তাহে মোটা চাল কেজিতে কমেছে ২ টাকা। ঢাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের নাজির ও মিনিকেট চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা কেজি। মাঝারি মানের চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭-৫৯ টাকায়। কয়েকটি খুচরা বাজারে দেখা গেছে, মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। কোনো কোনো দোকানিকে এখনো ৪৯ টাকায় এই চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে বেশিরভাগ দোকানেই এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা দরে। বি.আর আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেগুনবাগিচার চাল ব্যবসায়ী সজীব বলেন, মোটা চাল এখন বিক্রি করছি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে। আগে এই মানের চাল বিক্রি করেছি ৫০ টাকায়। এছাড়া সরু চাল বিক্রি করছি ৫৭ থেকে ৫৯ টাকায়। আগে এই মানের চাল বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। তিনি বলেন, মোটা চালের দাম বেশি কমেছে। এই মানের চাল কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। আর সরু চালের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা। তবে কেউ এক বস্তা নিলে তখন দাম আরো কমানো হয়। 

পাইকারী চাল বিক্রেতা ফারুকুল ইসলাম বলেন, চালের দাম কমার পর ক্রেতা অনেক কমে গেছে। মোটা চালের বস্তা এখন ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা। সেই হিসাবে কেজিতে এই চালের দাম পড়ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আর চিকন চালের (ভালো মানের) বস্তা এখন ২৮০০ থেকে ২৯০০ টাকা। সেই হিসাবে কেজিতে এই চালের দাম পড়ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা।

গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা কমেছে। কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০টাকা। লেয়ার মুরগি ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৪৫ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। গরুর গোশত প্রতি কেজি ৫২০-৫৪০ টাকা, খাসির গোশত ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। নতুন করে বেশ কয়েকটি সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০-১৪০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; শশা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া পিস প্রতি ৪৫-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৫০ টাকা; ঢেঁড়স ৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা; কচুরমুখী ৫০ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা; বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে ছোলা কেজি প্রতি ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা; মাসকলাই ১২৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ