ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরাজয় শংকার কারণেই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: পরাজয়ের শংকা থেকেই ক্ষমতায় থেকে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চায় আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের উদ্দেশ্য একটাই। যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় থাকা। যাতে করে তাদের গুম, খুন, চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতিসহ মানবাধিকার লংঘনের বিচার না হয়। এজন্য তারা মরিয়াও হয়ে উঠেছে। এমন মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সর্বশেষ জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো বাধা দিবেন না। তার মানে- আওয়ামী লীগের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। তবে ক্ষমতাসীনদের এমন ঘোষনায় সাড়া নেই দেশে-বিদেশে কোথাও। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান বিরোধী জোট ২০ দল বলেছে, কোনভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। এমনকি সেটি হতেও দেয়া হবে না। এছাড়া প্রভাবশালী দেশগুলোও সবার অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন দেখতে চায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি কেউই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের বন্ধুু বলে পরিচিত ভারতও এবার বলেছে, তারাও সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দেখতে চায়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন নিরপেক্ষ না হয় তাহলে সেখানে অবাধ নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব হবে না। সংবিধান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করলেও কমিশনের পক্ষে এ নির্বাচন পরিচালনা করে মূলত মাঠ প্রশাসন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও কমিশন কর্তৃক ডিসিকে রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনওকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ প্রদান একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে রিটার্নিং অফিসার মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের নিয়োগ দেন। এ আদেশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একজন রিটার্নিং অফিসার তার কর্তৃত্বাধীন এলাকায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিটি কন্সটিটুয়েন্সিতে একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি রিটার্নিং অফিসারকে তার দায়িত্ব পালনে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কোনো শর্ত আরোপ সাপেক্ষে তিনি রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থেকে রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা ভোগ ও কার্যাবলী সম্পন্ন করেন। নির্বাচনের সময় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসপি, ওসিসহ পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনী। ডিসি, ইউএনও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসপি, ওসি- এসব কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ তাদের পদোন্নতি, বদলিসহ তাদের বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকায় সরকারের পক্ষে নির্বাচনে তাদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা অনেকটা সহজ হয়। তাই নির্বাচন কমিশন যতই শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ হোক, সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ না থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিগত চার দশকের বেশি সময়কালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১-২০০৮ সময়কালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচন ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজিত হওয়ার কোনো নজির নেই। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর যে তিনটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, সেসব নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তারা মাঠ প্রশাসনসহ পুরো প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করেন। এসব নির্বাচনের ফল ছিল অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত। নির্বাচনের ফল আগে থেকেই ছকে বাঁধা থাকায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মানুষ নির্বাচনের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলোপের পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনেকটা একদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনেও মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। গত তিন বছরে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন একটি অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানেন, যে সরকার ক্ষমতায় আসবে সে সরকারই তাদের রক্ষা করাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে। তাই নির্বাচন কমিশন কোনো শাস্তি দিলেও শেষমেশ তা কার্যকর করতে পারবে না। সঙ্গত কারণে প্রশাসনের যারা বেনিফিশিয়ারি তারা নিজেদের স্বার্থেই সরকারের পরিবর্তন চাইবেন না। তারা বলছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করে মাঠ প্রশাসন যে সুনাম অর্জন করেছিল, তা স্মরণ করে দিয়ে হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবে একতরফা নির্বাচন করেছে তা দেশে বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল। সবার একটাই দাবি, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার। তিনি বলেন, চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়ই হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন। কিভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, ইনক্লুসিভ একটা নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা আলোচনাই চাই। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের আহবান জানানো হয়েছে। বিদেশীরা চান একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে সরকার যদি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে না নেয় তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না। জানা গেছে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়টি নিয়ে দলটি শিগগিরই তাদের অবস্থান র্ব্যক্ত করবে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তার রূপরেখা তুলে ধরবেন। বিএনপি আশা করছে, সরকার বিএনপিসহ সব দলের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করবে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরাজয়ের আশংকা থেকেই নিজেদের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীগ। তার প্রমাণ মিলে দলটির সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যেই। গত ২১ মে ধানমন্ডির প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ এবং তথ্য ও গবেষণা বিভাগের সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তার পাশাপাশি দলও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই দলের নেতা-কর্মীদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যদি ক্ষমতায় না থাকেন তাহলে এক টাকাপয়সার কি হবে। এগুলো কি করবেন। 

এদিকে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও কোথাও এর পক্ষে সাড়া মিলছেনা। বাংলাদেশের প্রধান মিত্র বলে পরিচিত দেশগুলোও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়না। এমনকি প্রতিবেশী ভারতও। গত ২৩ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিক্যাব এর এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, আগামীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে ভারত। তবে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ চাইলে যে কোন সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত থাকবে দিল্লী। সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব এম. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, আমরা সবাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করি। আমি নিশ্চিত, অন্য গণতন্ত্রের মতো এখানেও তেমনটি হবে। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় কি-না ভারত? এমন প্রশ্নে শ্রিংলা বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ। আমি নিশ্চিত নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে।

’১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে সব দল আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী ইইউ দূত পিয়েরে মায়েদুন। ইইউ’র বৈশ্বিক এজেন্ডা হিসেবে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে উৎসাহিত করে যাবে জানিয়ে তিনি এ-ও আশা করেছেন যে তাদের আহ্বানে বাংলাদেশ সাড়া দেবে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রও বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নিউ ইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক সম্প্রতি বলেন, জাতিসংঘের অবস্থানে কোনো হের ফের নেই। আমরা সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানাই। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতও প্রায় অভিন্ন ভাষাতেই আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাংখার বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভয়হীন, শংকামুক্ত এবং সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সিইসি’র সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ঢাকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন।

সূত্র মতে, ভীতিমুক্ত পরিবেশে সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিদেশীরা একটি অবাধও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। একইসাথে সাথে তারা দশম সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেও অভিহিত করেছেন। গত চার বছল ধরেই এ নিয়ে কোনো না কোনো বিদেশি কূটনীতিক, বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী কথা বলছেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজ এবং স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ- বৈঠক বা মতবিনিময়ে জোরালোভাবে বিষয়টি আসছে। কূটনৈতিক পল্লীর দৈনন্দিন কর্মসূচি, ডিপ্লোমেটিক পার্টি কিংবা আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিচ্ছেন বিদেশিরা। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এমনকি আওয়ামী লীগের বন্ধু বলে পরিচিত ভারতও দেশে একটি অবাধ ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়। এসব দেশ, সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশায় তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আগাম অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চলেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশিদের এসব তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। বিদেশীরা চান না আবারো গতবারের পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ