ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এনায়েতপুরে ২৪ ঘণ্টার ১৯ ঘণ্টাই লোডশেডিং॥ জনজীবন অতিষ্ঠ ॥ পাওয়ারলুমে কাপড় উৎপাদনে ধ্বস

এনায়েতপুরে লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ পাওয়ারলুম (বিদ্যুৎচালিত তাঁত) কারখানা

সেলিম রেজা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) : দিন রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৯ ঘণ্টাই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চালিত পাওয়ারলুম কারখানায় কমে যাচ্ছে কাপড় উৎপাদন। ফলে দিশেহারা এ অঞ্চলের শত শত তাঁত কারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা। 

জানা যায়, ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের পড়তে হচ্ছে মারাত্মক সমস্যায়। অতিরিক্ত গরম জনিত কারণে দেখা দিয়েছে নানা রকম রোগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৯ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছেনা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ অবস্থা চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, অসুস্থ হয়ে পড়বে এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। 

এদিকে আসন্ন পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানিয়েছেন। তারা জানান, গরমের সাথে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। এ কারণে তাদের কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংঙ্কায় অভিভাবকরা। এছাড়াও  উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে বাইরে বসে অলস সময় কাটাতে।

গত তিন দিন ধরে তাঁত পল্লী খ্যাত এনায়েতপুরের খুকনী, গোপরেখি, খামারগ্রাম, বেতিল, রুপনাই, গোপালপুর, বটতলা, গোপিনাথপুর, আড়কান্দি, রুপসী, খোকশাবাড়ি, কালীপুর, কামালপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় অন্তত ৪৫ হাজার তাঁত শ্রমিকসহ এ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের জন্য চরম সমস্যায় পড়েছেন। তাঁত শিল্পই হচ্ছে এসব এলাকার মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস। কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিং এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষ বিদ্যুৎ চালিত তাঁত বন্ধ হয়ে আছে। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে পড়ে এসব কারখানার প্রায় ১৭ কোটি টাকার কাপড় উৎপাদন ও বিপনন বন্ধ রয়েছে। গোপালপুর গ্রামের মনখোশ তাঁত কারখানার শ্রমিক ইসমাইল, আব্দুল জব্বার ও সাহেব আলী জানান, এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে সপ্তাহ শেষে আমার কোন রোজগার থাকবে না। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বেচে থাকব। দ্রুত লোডশেডিং সমস্যার সমাধান চাই। 

অন্য দিকে এনায়েতপুর থানা সদরের মর্ডান বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলাকায় এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে কয় ঘণ্টা সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক পাখা সহ ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পচে যাচ্ছে ফ্রিজের খাবার । বন্ধ হয়ে যাবার পথে শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুতের ভেলকি বাজিতে তাঁতের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাজন  ও শ্রমিক উভয়কেই মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। 

এছাড়া আড়কান্দি বাজারের হক মেডিকেল হলের ডা. ইদ্রিস আলম বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে এলাকায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে ডায়েরিয়া, আমাশয় ও পেটের পীরা সহ নানা রকম অসুখ হচ্ছে। নিয়মিত এদেরকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে এমনিতে সবার অবস্থা কাহিল এর মধ্যে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের সাথে প্রাণিকুলও অতিষ্ঠি হয়ে পড়েছে। 

এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় জোনাল অফিসের মোবাইলে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ