ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দৌলতপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাড়ির আঙিনা বা মাঠ ভরা ফসলের ক্ষেতে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার কারণে একদিকে যেমন মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অপরদিকে অনুমোদনহীন ওইসব ইটভাটায় ইট বা জ্বালানি কাঠ সরবরাহে ১০ চাকার ট্রাকসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ যান চলাচল করায় ভেঙ্গে জরাজীর্ণ ও খানা খন্দকে পরিপূর্ণ হচ্ছে প্রধান সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক। ফলে বছর না যেতেই সংস্কার হওয়া ওইসব সড়ক বা রাস্তা ভেঙ্গে খানা খন্দকে পরিপূর্ণ হয়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হওয়ায় সাধারণ জনগণ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। সেই সাথে সরকারের উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা ভেস্তে যেতে বসেছে। এনিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৌলতপুরের ইটভাটা মালিকদের ডেকে সতর্ক করলেও তারা ডোন্টকেয়ার ভাব দেখিয়ে পূর্বের অবস্থানই বহাল রেখেছে।

ভুক্তভোগী বিভিন্ন মহল ও সরোজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ইটভাটায় গিয়ে দেখাগেছে, সরকার পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা নির্মাণের নির্দেশ দিলেও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও ফসলের মাঠে গড়ে ওঠা প্রায় ২৪টি ইটভাটা মালিক সরকারের নির্দেশ অমান্য করে চিমনির ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। দৌলতপুর হাসপাতাল সংলগ্ন এবিসি ইটভাটাসহ সেখানে বেশ কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে। যাদের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে এলাকার পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। হাসপাতালের রোগীরাও এর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেননা। ওইসকল ইটভাটার সাথেই রয়েছে একটি মহাবিদ্যালয় যেখানে ভাটার কালো ধোঁয়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় অন্তত ৭টি ইটভাটা রয়েছে যাদের কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ওইসকল ইটভাটায় ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলে এলাকার রাস্তা ভেঙ্গে জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও উপজেলার রিফায়েতপুর, ডাংমড়কা, নারানপুর, কল্যানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে বাড়ির আঙিনা অথবা ফসলের মাঠে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটায় ব্যবহৃত জ্বালানি কাঠের বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দুষনের পাশাপাশি ভারী যানবহন চলাচলে ওইসব এলাকার রাস্তা ভেঙ্গে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নারানপুর গ্রামের মুতালিব হোসেন নামে এক সাধারণ নাগরিক জানান, তার এলাকার এবিসি নামে একটি ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাঠের ফসলও হুমকির মুখে পড়েছে। ইটভাটার চিমনির নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাই ফসলের মাঠে পড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। 

এদিকে বর্ষা মৌসুম শেষে ভাটা মালিকরা তাদের নিজ নিজ অবৈধ চিমনির ইটভাটায় খোলা পরিষ্কারসহ নতুন ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। চিমনি ব্যবহার করে ইটভাটা চালানোর নিষেধ থাকা সত্বেও আদালতের রীটের কথা বলে একইভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে দৌলতপুরের ইটভাটা মালিকরা অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। সেক্ষেত্রে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে। তবে ভাটা মালিকদের দাবি প্রশাসনসহ সকলকে ম্যানেজ করে তারা ইটভাটার ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি এটা কোন অবৈধ ব্যবসা না। 

ইটভাটার ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌফিকুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে সভা করেন। সভায় ইটভাটা চালানোর আদালতের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে সেসময় ভাটা মালিকরা তা দেখাতে পারেননি। এছাড়াও ইটভাটায় যাতায়াতে রাস্তা ভেঙ্গে জরাজীর্ণ হলে সেসব রাস্তা সংস্কার করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি তা করা হয়নি। 

চলছে ইটভাটার নতুন ইট পুড়ানোর প্রস্তুতি। সেই সাথে ওইসকল ইটভাটায় মজুদ করা হচ্ছে জ্বালনি কাঠ। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এরপরও কি প্রশাসন নিশ্চুপ থাকবেন। জনগণের তা দেখার বিষয়। 

দুই কাজীর কারাদণ্ড : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাল্য বিবাহ দেওয়ার অভিযোগে দুই কাজীর এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সন্ধ্যারাতে তাদের এ দন্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত কাজীরা হলেন, মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামের মো. খলিলুর রহমান (৪২) এবং ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর এলাকার কাজী ওলিউল্লাহ (৪৩)। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, মোছা. মুসলিমা খাতুন (১৩) নামে এক নাবালিকা মেয়ের ভুঁয়া জন্ম সনদ দিয়ে বাল্য বিবাহ রেজিস্ট্রি করার অপরাধে দুই কাজীর এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।

উল্লেখ্য দণ্ডপ্রাপ্ত কাজীদের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বেও ভুয়াঁ জন্ম সনদ দিয়ে বাল্য বিবাহ রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ