ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফটিকছড়িতে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কৃষক

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি : ফটিকছড়িতে দফায় দফায় বন্যা, অতিবৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে  আমন চাষসহ উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়েছে বারবার। এতে  প্রায় ১০ হাজার কৃষক চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। তারা আবারো চাষের মাধ্যেমে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্ঠা করছে।  

জানা যায়, গত ১ জুন থেকে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি পানির ঢলে সৃষ্ট বন্যা, ১৩ জুন ফটিকছড়ির জুড়ে বিশাল প্লাবন, পরবর্তী আরো ২৩ ধাপে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ফটিকছড়ি উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার হিংসভাগ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে ছিল। এতে নষ্ট হয়েছে প্রায় নষ্ট হয়েছে ৮শ’ হেক্টর কৃষি জমির বীজতলা, রোপিত আমন ধান এবং সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে ২৫০ হেক্টর। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। আমন রোপিত কৃষকরা একেবারে পথে বসেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করে ধান রোপণ করা হলেও আমনের লক্ষ্যমাত্র অর্জন সম্ভব হবেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাইজভান্ডার, আজিমনগর, সমিতিরহাট, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, নারায়ণহাট, পাইন্দং, ভূজপুর এলাকার শত শত বীজতলার আমন বীজ পানিতে নষ্ট হয়েছে কয়েক দফায়। 

কৃষকরা নতুন করে জমি চাষাবাদ করছে। বাজারে কৃষি শ্রমিকের দাম ৪৫০/৫০০ টাকা। তরি তরকারীর দামও ৫০ টাকার বেশী। এই অবস্থায় দারিদ্র্য ও বর্গা কৃষকদের পথে বসার উপক্রম চলছে। মাইজভান্ডার এলাকার কৃষক বিপ্লব ভান্ডারী জানান, যা বীজধান ছিল সব দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। এগুলো রোপণের উপযোগীও হয়েছিল। হঠাৎ বন্যায় ৭৮ দিন পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে সব বীজতলা। এখন যে নতুন করে আবারো বীজতলা তৈরি করলাম। ধর্মপুরের কৃষক ওসমান গনি জানান, রমজান মাসে শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য। তাই অতিরিক্ত দামের শ্রমিক দিয়ে আগাম আমন ধান রোপণ করেছিলাম। অতি বৃষ্টি ও সর্তা খালের পানির তোড়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আবারো নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চাষাবাদ শুরু করেছি।  সুন্দরপুরের কৃষক ইউনুছ বলেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দামে বীজ ধান সংগ্রহ করে ধান রোপণ করেছি। 

 লেলাং ইউনিয়নের কৃষক জিয়াউল হক পারভেজ জানান, শাহ নগর, লেলাং, হিঙ্গারপুল, লালপুল, মাইজভান্ডার বিলে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রোপিত ধান নষ্ট হয়। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কৃষি অফিসের লোকজনকে এ ব্যাপারে বার বার বলেও কোন লাভ হচ্ছেনা। তারা পানি নিষ্কাশনের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। নানুপুর ইউনিয়নের হচ্ছার ঘাট এলাকার কৃষক আবুল ফজল জানান, সর্তা খালের চরে আমার রোপিত করলা, পরুল, ঝিঙ্গে, পেপে সহ ৫বিঘা সবজি ক্ষেত তিন দফা বন্যায় নষ্ট করেছে। আগে এই এলাকার সবজি সারাদেশে যেতো। এখন আমাদের বাইরের সবজি অতিদামে ক্রয় করতে হচ্ছে। এখানে কোন কৃষি কর্মকর্তা আসেনা। কোন ভর্তুকি পাইনা। কোন পরামর্শ পাই না।

ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম বলেন, দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এসে কান্না কাটি করছে প্রতিদিন। তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া জরুরি।

সমিতিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান হারুন রশিদ কালু বলেন, দফায় দফায় বন্যায় পানিতে ডুবে সব বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ভর্তুকীর আওতায় না আনলে দারিদ্র, বর্গা ও নিম্ন শ্রেণির কৃষকরা পথে বসবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেব নাথ বলেন, দফায় দফায় বন্যা, অতি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফটিকছড়িতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আউশ ধান, আমান ধান, বীজতলা সহ প্রায় ৮শ হেক্টর এবং নানান প্রকার সবজি প্রায় ২শ ৫০ হেক্টর নষ্ট হয়েছে। এটির প্রাথমিক ক্ষয়–ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। পরবর্তী গুলো সহ প্রায় ১০ কোটি টাকা হবে। তাই কৃষককে ভর্তুকী ও পুনর্বাসনের জন্য জেলা কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ