ঢাকা, শনিবার 30 September 2017, ১৫ আশ্বিন ১৪২8, ০৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভুক্তভোগী কৃষকদের কৃষি অফিসের মাঠ কর্মকর্তাদের পরামর্শ না পাবার অভিযোগ

যশোরের মণিরামপুরে রোপা আমন ধানের পাতা পচা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কাক্সিক্ষত ফলন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : মণিরামপুরে নলি ও গোয়ালমাছির আক্রমণসহ রোপা আমন ধানের পাতা পঁচা রোগে চরম ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছেন কৃষক। এরফলে বিভিন্ন এনজিও, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ধান আবাদকারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছেন-এমন অজানা আশংকায় দিনাতিপাত করছেন কৃষক। ধানের এমন সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট অফিসের কোন পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ জানালেন কৃষকরা। পরামর্শ পাচ্ছেন উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে থেকে-দাবি ভুক্তভোগী কৃষকদের।

জানাযায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ আমন ক্ষেত নলি ও গোয়াল মাছিসহ পাতা পঁচা  রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এরফলে কাক্সিক্ষত ফলন নিয়ে কৃষকরা চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েছেন।

সরেজমিন, সোম ও মঙ্গলবার উপজেলার চালুয়াহাটি, খেদাপাড়া ও রোহিতা ইউনিয়নে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে। এসময় চালুয়াহাটি গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, তার ২৪ কাঠা আমন ধান পাতা পঁচা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শুধু তিনি নন-তার মতো আরো অনেক কৃষকের জমির ধানে একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের কোন পরামর্শ পেয়েছেন কি-না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষোভ করে বলেন, তাদের চেহারাও কখনো দেখেনি। একই গ্রামের আহাদ আলী বলেন, কোম্পানির লোকেরাই এসে ক্ষেতে এই ঔষুধ-সেই ঔষুধ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। রোহিতা ইউনিয়নের কোদলাপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, তার প্রায় ১ বিঘা জমিতে ধানের গোড়া থেকে পিয়াজের পাতার মত ধানের চারা উঠছে। কোম্পানির লোকেরা তাকে জানিয়েছেন এটি নলি ও গোয়াল মাছির কারণে হচ্ছে। এখনো সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের কোন পরামর্শ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খোঁজখবর নিয়ে জানাযায়, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অধিকাংশ ইউনিয়নের কৃষক প্রয়োজনের সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে তুহিন, দর্পন বিশ্বাস, মারুফুল ইসলামসহ কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, যশোর জেলাব্যাপী আমন ধানে এ ধরনের পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে-করণীয় বিষয় নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা করলাক্স, ডায়োজেনন, দানাদার জাতীয় ঔষুধ স্প্রে করতে কৃষকদের বার বার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। শিঘ্রই ইউনিয়নে ইউনিয়নে কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাইকিং করা হবে বলেও তিনি জানালেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ