ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশুরার মিছিলকে কেন্দ্র করে উ. প্রদেশ বিহারে ব্যাপক সহিংসতা

২ অক্টোবর, পার্সটুডে: ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে আশুরার মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। গত রোববার উত্তর প্রদেশের কানপুর, বালিয়া, কুশীনগর, বারবাঙ্কিসহ ৯ জেলায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি হয়েছে কানপুরে। এদিন প্রথমে রাওয়াতপুরে সামান্য বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। এরপর আশুরার মিছিলের সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় পরিস্থিতির অবনতি হয়। এসময় পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, পুলিশ আগে থেকে সতর্ক থাকলে এরকম অবস্থা ঘটতো না।
কানপুরে তাজিয়া মিছিলের রুট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরমপুরবা এলাকায় কয়েকজন আহত হন এবং ৮ টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক অবিনাশ চন্দ্র বলেন, ‘পরমপুরবাতে মুহাররমের মিছিল এক নির্ধারিত সড়ক দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আচমকা রুট পরিবর্তন করায় দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু এসময় কিছু দুষ্কৃতি ব্যক্তি সড়কের পাশে থাকা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পাথর নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে ভারী পুলিশ বাহিনী পাঠানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তিনি বলেন, পুলিশ দাঙ্গাকারীদের ভিডিওগ্রাফি করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, কানপুরে পুলিশ বাহিনী কম থাকায় লক্ষনৌ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ডাকতে হয়। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় সেখানে এক কোম্পানি করে পিএসি এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনকে বাসায় থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জেলা কালেক্টর সুরেন্দ্র সিং বলেন,  ‘কানপুর শহর সবসময় শান্তি ও সম্প্রীতির শহর হিসেবে পরচিত। এখানকার অধিবাসীরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে সমস্ত উৎসব উদযাপন করে থাকেন। কোনো অসামাজিক লোকজনদের আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে দেয়া হবে না।’ তিনি কোনো গুজবে কান না দিয়ে সকলকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাওয়াতপুরে কিছু যুবক ধর্মীয় পোস্টার ছিঁড়ে দেয়ায় শনিবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ সেসময় পরিস্থিতি সামাল দিলেও রোববার পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানেও প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, বিহার রাজ্যের পিরোতে রোববার সন্ধ্যায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় মদন স্নেহী নামে বিজেপি’র রাজ্য ওয়ার্কিং কমিটির  এক নেতা গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা এসময় বেশ কিছু দোকান ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
একটি সূত্রে প্রকাশ,  রোববার সন্ধ্যায় আরা-সাসারাম রোডে তাজিয়া মিছিল একটি মন্দিরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা পাথর ছোঁড়া হলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এসময় শূন্যে গুলী ছুঁড়তে হয়।
 জেলা প্রশাসক সঞ্জীব কুমার এবং পুলিশ সুপার অবকাশ কুমার ঘটনাস্থলে ঘাঁটি গেঁড়ে আছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের লালচকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে আশুরার শোক মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে মিছিলে অংশগ্রহণকারী তরুণরা ক্ষোভে ফেটে পড়লে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। গণমাধ্যমের এক ভিডিও চিত্রে প্রকাশ, ক্ষুব্ধ তরুণরা এ সময় 'লাব্বায়েক ইয়া মুহাম্মদ', 'লাব্বায়েক ইয়া হুসাইন' বলে চিৎকার করেন। 
গত রোববার আশুরার শোক মিছিলকে কেন্দ্র করে ১৩ থানা এলাকায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত শনিবার থেকে শাহীদগঞ্জ, করণ নগর, মৈসুমা, কোঠিবাগ, শেরঘরি, ক্রালখুদ, বাটামালু, রাম মুন্সীবাগ, রায়নাবাড়ি, নৌহাট্টা, খানইয়ার, এম আর গঞ্জ এবং সাফাকদল থানা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
গত শুক্রবার ৮ টি থানা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শনিবার থেকে তা বাড়িয়ে ১৩টি থানা এলাকায় সম্প্রসারিত করা হয়।
শ্রীনগরের জেলা প্রশাসক (ডেপুটি কমিশনার) সৈয়েদ আবিদ রশিদ শাহ বলেন, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় শহরের বেশ কিছু এলাকায় তৃতীয় দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ