ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম টেস্টেই বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ হেরেছে ৩৩৩ রানে। তবে এই হারে বাংলাদেশের সান্ত¡না হতে পারে এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হারেনি। আর প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে ৫ম দিনে গিয়ে। তবে বৃষ্টিতে চতুর্থ দিনের খেলা ৪০ ওভার বাকি না থাকলে হয়তো চতুর্থ দিনেই হারতে হতো বাংলাদেশকে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে বাংলাদেশের অল আউট হওয়াটা মেনে নেয়া কষ্টকর। গতকাল বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় নিয়েই পচেফস্ট্রমে পঞ্চম দিনে মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ। আগের দিন ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ব্যাকফুটে থেকেই ব্যাট করছিল সফরকারীরা। আর রাবাদার আক্রমণে শুরুতে বিপর্যস্ত হয় বাংলাদেশ। ফলে ৪২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৯০ রানে। ফলে বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। পুরো দিন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই গতকাল পঞ্চম দিনে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক  সেশেনও টিকতে পারল না তারা। আর তাই দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ৩৩৩ রানের লজ্জাজনক হারকে সঙ্গী করল মুশফিকুর রহিমের দল। বাংলাদেশকে লজ্জাজনক হার উপহার দিতে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানেই সফরকারীদের গুঁড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ রান তুলতে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩২.৪ ওভার ব্যাট করতে পেরেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনেই চা বিরতির আগে ৩ উইকেট হারানোয় বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই হারের কাজটি আজ এত দ্রুত হবে সেটি হয়তো ভাবেনি অনেকেই।
প্রথম টেস্টে টস জিতে আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করার সুযোগ দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আর আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে প্রথম ইনিংসে তিন উইকেটে  ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩২০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাড়ায় ৪২৪ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং পর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার  বোলিংয়ে বাংলাদেশ এতটাই অসহায় হয়ে পড়ে যে প্রথম  সেশনেই ২৬ রানে ৬ উইকেট হারায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত এই টেস্টে বাংলাদেশ হারে ৩৩৩ রানে। শেষ দিনে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দেড় ঘণ্টায় গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ৩৫ রানে  শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে মাত্র ৯০ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান। ২০০৩ সালে ঢাকায় ১০২ ছিল আগের সর্বনিম্ন। গতকাল শেষ দিনের শুরুতে রাবাদার লাফিয়ে উঠা বলে ¯ি¬পে আউট সাইড এজ হয়ে ফেরেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৫৫ বলে ১৬ রানে ফেরেন মুশফিক। কিছুক্ষণ পর মাহমুদউল¬াহ রিয়াদও অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। সেই রাবাদার বলেই বোল্ড হয়ে  ফেরেন দুই ওভারের মধ্যেই। রিয়াদ বিদায় নন ৯ রানে। লিটন দাস নেমেও কিছু করতে পারেননি। আসা যাওয়ার মিছিলে এবার যোগ হন তিনি। রাবাদার বলে এলবিডবি¬উ হন। রিভিউ নিলেও বেঁচে যাওয়ার সুযোগটাও পাননি। এরপর মহারাজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন সাব্বির। এরপর ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। একে একে লেজ ছেঁটে ফেলতে থাকেন স্বাগতিকরা। বিদায় নেন তাসকিন ও শফিউল তাসকিন মহারাজের স্পিনে এলবিডাবি¬উতে ঘায়েল হলেও রানআউট হন শফিউল। এরপর কিছুক্ষণ  মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু মহারাজ মোস্তাফিজকে ফিরতি বলে তালুবন্দী করলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন মহারাজ। আর ৩ উইকেট নেন দিনের শুরুর দিকে ধস নামানো রাবাদা। আগের দিন দুটি নন মরকেল। চতুর্থ দিন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুর দিকে ত্রাস ছড়িয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার মরনে মরকেল। আর সেই পেসারই রয়েছেন ইনজুরিতে। আজকে তিনি মাঠে নামেননি। তার জায়গা বদলি হয়েছেন পারনেল। সাইড স্ট্রেইনের  চোটে পড়েছেন প্রোটিয়া এই পেসার। এই অবস্থায় দ্বিতীয় টেস্টেও মরকেল থাকবেন কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। চতুর্থ দিনের শেষ দিকে শুরুর দিকে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে েেনন মরকেল।  মুশফিককেও বোল্ড করেছিলেন। কিন্তু নো বল হওয়াতেই রক্ষা পান বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে তামিমকে দুর্দান্ত এক বলে করেন  বোল্ড। শেষ বলে মুমিনুলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। পরের ওভারে মুশফিকের মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু অবৈধ ডেলিভারি হওয়াতে উইকেটটি আর পাননি তিনি। ষষ্ঠ ওভারেই মাঠ ছেড়ে যান মরকেল। এরপর মহারাজের স্পিনে ফেরেন ইমরুল কায়েস ৩২ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১ম ইনিংস : ৪৯৬/৩, ডিক্লে. ১৪৬ ওভার (ডিন এলগার ১৯৯, হাশিম আমলা ১৩৭, এইডেন মার্করাম ৯৭, টেম্বা ভাবুমা ৩১*, ডু প্লেসিস ২৬*; শফিউল ১/৭৪, মোস্তাফিজ ১/৯৮)।
২য় ইনিংস: ২৪৭/৬, ডিক্লে, ৫৬ ওভার (ডু প্লেসিস ৮১, টেম্বা ভাবুমা ৭১, হাশিম আমলা ২৮, মাহারাজ ১৯*, এলগার ১৮, মার্করাম ১৫; মুমিনুল হক ৩/২৭, মোস্তাফিজ ২/৩০, শফিউল ১/৪৬)।
বাংলাদেশ : ১ম ইনিংস : ৩২০/১০, ৮৯.১ ওভার (মুমিনুল ৭৭, মাহমুদউল্লাহ ৬৬, তামিম ইকবাল ৩৯, সাব্বির রহমান ৩০, লিটন দাস ২৫, মোস্তাফিজ ১০*; কেশব মাহারাজ ৩/৯২, কাগিসো রাবাদা ২/৮৪, মরনে মর্কেল ২/৫১)।
 দ্বিতীয় ইনিংস : ৯০/১০, ৩২.৪ ওভার (ইমরুল কায়েস ৩২, মুশফিকুর রহীম ১৬,  মেহেদী হাসান মিরাজ ১৫, মাহমুদউল্লাহ ৯; কেশব মাহারাজ ৪/২৫, কাগিসো রাবাদা ৩/৩৩, মরনে মর্কেল ২/১৯)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩৩ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : ডিন এলগার (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ