ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কনসার্টে নির্বিচারে গুলী লাস ভেগাসে নিহত ৫০

রয়টার্স, সিএনএন : যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের একটি ক্যাসিনো থেকে উন্মুক্ত কনসার্টের ওপর নির্বিচারে গুলী চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে; আহত হয়েছে দুই শতাধিক।

রোববার ছুটির রাতে মান্দালয় বে ক্যাসিনোর পাশে উন্মুক্ত চত্বরে রুট নাইনটি ওয়ান হারভেস্ট কনসার্ট চলাকালে এই গুলীর ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ‘ম্যাস শুটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। 

লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশের শেরিফ জোসেফ লম্বার্ডো জানিয়েছেন, ওই ক্যাসিনোর ৩২ তলায় সন্দেহভাজন একজন পুলিশের গুলীতে নিহত হয়েছেন। স্টিফেন প্যাডক নামের ৬৪ বছর বসয়সী ওই ব্যক্তি একাই এ হামলা চালিয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।

তবে তার সঙ্গী এক এশীয় নারীকে পুলিশ খুঁজছে, যার নাম মারিলু ডেনলি। এছাড়া দুটি গাড়ির সন্ধান করা হচ্ছে বলে লাস ভেগাস পুলিশের টুইটে জানানো হয়েছে। 

নিহত ওই সন্দেহভাজন একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মান্দালয় বে ক্যাসিনোর ৩২ তলা থেকেই পাশের খোলা জায়গায় কনসার্টে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর অস্ত্রের গুলী চালানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, গান চলার মধ্যেই হঠাৎ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলীর আওয়াজ শুরু হলে কনসার্ট থমকে যায়। গান শুনতে আসা দর্শকরা খোলা জায়গায় মাথা নিচু করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।

কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর আবার গুলীর শব্দ শুরু হয়; সেই সঙ্গে শুরু হয় আতঙ্কিত মানুষের ছুটোছুটি আর চিৎকার। পুলিশ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের একটি অংশ বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

মাইক থমসন নামের এক ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে বলেন, “বহু লোক আতঙ্কে দৌড়াচ্ছিল, চরম বিশৃঙ্খলা। একজনের সারা গায়ে রক্ত দেখে আমি বুঝলাম, সাংঘাতিক কিছু ঘটে গেছে।”

লাস ভেগাসে এই কান্ট্রি মিউজিক ফেসটিভাল চলছিল গত শুক্রবার থেকে। রোববার মধ্যরাতে যখন এই গুলীর ঘটনা ঘটে, সে সময় মঞ্চে গাইছিলেন জেসন আলডিন। গান শুরুর পরপরই গুলীর শব্দের মধ্যে থমকে যেতে হয় তাকে এবং তার দলকে। 

ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আজ রাতে যা ঘটল তা ভয়ঙ্কর বললেও কম হয়। কি বলব, আমি বুঝতে পারছি না এখনও। আমি আর আমার দলের সবাই সুস্থ আছি।”

হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের আনন্দের একটা রাত কাটানোর কথা ছিল, সেজন্যই তারা এসেছিলেন, কিন্তু যা ঘটল তাতে আমার বুক ভেঙে গেছে।”

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একটি টুইট করেছেন। লিখেছেন, ‘গড ব্লেস ইউ’। ঘটনার পর লোহার ব্যারিকেড ভেঙে এবং হুইলব্যারোতে করেও আহতদের সরিয়ে নিতে দেখা যায় মানুষকে। বহু আতঙ্কিত মানুষ সে সময় বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও লাস ভেগাসের ম্যাকারান এয়ারপোর্টে আশ্রয় নেয়।

ওই বন্দুকধারী ব্যবহার করেছে এমন দুটি গাড়ির খোঁজে মান্দালয় বে ক্যাসিনোর আশপাশের বিভিন্ন হোটেল ঘিরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ম্যাকারান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘণ্টাখানেক বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখে; দুই ডজন ফ্লাইটকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে লাস ভেগাসের আরও কয়েকটি জায়গায় গুলীর খবর পাওয়ার কথা বলা হলেও পুলিশ জানায়, সেসব তথ্য সঠিক নয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোর মধ্যে অস্ত্র আইন সবচেয়ে শিথিল নেভাডায়। নাগরিকরা সেখানে অস্ত্র বহন করতে পারে এবং অস্ত্রের মালিক হিসেবে তাদের নিবন্ধনও নিতে হয় না। 

দোকান থেকে অস্ত্র কেনার সময় ক্রেতার তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেই ক্রেতা আবার অন্যের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে দিতে পারেন। অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো স্বয়ংক্রিয় বা আধাস্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বিক্রির ওপর সেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং গুলী কেনার ক্ষেত্রেও কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া নেই।

গতবছর ১২ জুন ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে সমকামীদের একটি নৈশক্লাবে গুলী চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করে এক যুবক। এতদিন পর্যন্ত সেটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গুলী করে হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনা, যার দায় স্বীকার করেছিল আইএস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ