ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত বিষয়

গতকাল সোমবার রাজধানীর কচিকাঁচার মিলনায়তনে জাসাসের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের আলোকচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্তকে অনিশ্চিত হিসেবে দেখছে বিএনপি। সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে মিয়ানমারের সফররত মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে ঘোষিত সিদ্ধান্তের পর গতকাল বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) একদম একটি অনিশ্চিত বিষয়। এই বিষয়টি এটাই প্রমাণ করছে যে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকার ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে কনভিন্স করতে যে, বাংলাদেশে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সংকটের সমাধানে আবারো জাতীয় ঐক্যের আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা বরাবর বলে আসছি একটা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য। দুর্ভাগ্য যে, এখন পর্যন্ত এই সরকার এটা করছে না। তাদের নীতি হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে না দেয়া। আমরা সরকারের প্রতি আবারো আহবান জানাচ্ছি, অবিলম্বে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য জাতীয় কনভেনশন ডাকুন এবং সমস্ত দলগুলোর সমন্বয়ে বিদেশে প্রতিনিধিদল পাঠান যাতে এই বিষয় কিছু আমরা কনভিন্স করতে পারি, বুঝাতে পারি যে, আমাদের সমস্যা কী হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর উদ্যোগে মিয়ানমানের সেনা অভিযানে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মিত ‘আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী’ উপলক্ষে ‘স্টপ জেনোসাইড’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় ও চিত্র পরিচালক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের ব্যবস্থাপনায় ভিন্নধর্মী এই অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে জাসাস সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মুনির, শায়রুল কবির খান, মীর সানাউল হক, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, শায়রিয়ার ইসলাম শায়লা, হাসান চৌধুরী, জাকির হোসেন রোকন, চৌধুরী আহজার আলী শিবা সানুকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এই সময়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে জাসাস কর্মীরা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম গণহত্যার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের ওপর গাজী মাজহাাংল আনোয়ারের লেখা ‘ওরা এখন মানুষ নয়, শুধুই রোহিঙ্গা’ গানটি পরিবেশন করেন তার মেয়ে শিল্পী দিঠি আনোয়ার। এর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আহমেদ কিসলু।

 রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরে সরকারের ব্যর্থতা সমালোচনা করে মির্জা ফখাংল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি জাতিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে কী ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। যেকোনো মানুষ সেই দৃশ্য দেখলে কেউ স্থির থাকতে পারবে না। মনুষ্যত্বে এই অবমাননা আজকে বিশ্ব রাজনীতিতে দেখা যায় না। এই মর্মানিমশক ঘটনায় গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশের মানুষ এর একটা আক্রমনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে যে, মানবতার কী চরম অপমান ঘটেছে সেটা বোঝাতে।রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপরে, সার্বভৌমত্বের ওপরে, অর্থনীতির ওপরে, পরিবেশের ওপরে, সমাজের ওপরে এর কী বিরূপ প্রভাব পড়বে সেটা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি বাংলাদেশ থেকে কোনো উচ্চ পর্যায়ের দল কুটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করার জন্য এই দেশগুলোতে গেছে। আমরা বরাবরই বলে এসেছি এখন এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীরই সফর করা উচিৎ বা উচ্চ পর্য়ায়ের সরকারি মন্ত্রীসহ তাদের যাওয়া উচিৎ এবং এই দেশগুলোকে বুঝানো উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো যে, এখনো সেই কাজটি এখনো হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন লক্ষ লক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়াই। মিয়ারমারের সরকারকে আমরা বাধ্য করি রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের বাসভুমিতে, তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বিশ্ববাসী ও বিশ্ববিবেকের কাছে আকুল আবেদন জানাই। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ অসহায় হয়ে গেছে, হাজার হাজার মানুষের প্রাণ চলে গেছে, হাজার হাজার শিশু তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। আসুন মিয়ানমারকে বাধ্য করি, তাদের ফিরিয়ে নিতে। অনুষ্ঠানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা কবিতা ‘অবাক হয়ে ভাবি’ পড়ে শুনান বিএনপি মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ