ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রয়োজনে দুর্দশাগ্রস্ত মিয়ানমারবাসীর জন্য একবেলা খাব : প্রধানমন্ত্রী

ওয়াশিংটন থেকে বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্দশাগ্রস্ত মিয়ানমারবাসী রোহিঙ্গাদের জন্য তার সরকারের বাসস্থান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেছেন, দেশের মানুষ যদি প্রয়োজন হয় দিনে এক বেলা খেয়ে আরেক বেলার খাবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে।

গত রোববার সন্ধ্যায় রিট্জ কার্লটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, আমরা ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারি, তাই যদি প্রয়োজন হয় তবে রোহিঙ্গাদের এই দুর্দিনে আরো পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারব, আমরা দিনে একবেলা খেয়ে আরেক বেলার খাবার এই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সাথে ভাগাভাগি করব।

তিনি বলেন, আমরা মানুষ, আমরা মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই কথা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও আমরা ধনী না, তবে আমাদের মন আছে....তারা মানুষ, আমরা তাদের সাগরে ছুঁড়ে ফেলতে পারি না।

শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের পূর্বে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার নারী ও শিশুদের মুখ থেকে শোনা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা অধিবেশনে তুলে ধরেন।

প্রমাণ করেছি, আমরা পারি

আরেক খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর ওপর প্রথম স্প্যান বসানোর খবরে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন।

একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রমাণ করেছি, আমরাও করতে পারি’ ... ‘আমি খুব খুশি’।

এসময় আবেগতাড়িত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা, বাঙ্গালি জাতি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা যা চাই, তাই করতে পারি, যদি আমরা সৎ ও সংকল্পবদ্ধ থাকি।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, গলব্লাডার অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিলেও, এদিন তিনি তা উপেক্ষা করেই দেখা করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।

শেখ হাসিনা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্ব ব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পর, নিজেদের অর্থায়নেই তা করে দেখানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়াকে স্মরণ করে বলেন, ‘এটা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশের জন্য বড় সিদ্ধান্ত, নিজেদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা আমাদের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত।’ তিনি বলেন ‘পদ্মার মতো একটি খরস্রোতা নদীতে এমন বড়মাপের সেতু নির্মাণ কাজে হাত দিয়ে আমরা বিশ্বের বুকে উদাহরণ সৃষ্টি করেছি।’

নিজের রাজনীতির লক্ষ্যের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে জনগণের জন্য রাজনীতি করি, জনগণের জন্য কাজ করি এবং আমরা পারি তা প্রমাণ করেছি।’

তিনি স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে অকুণ্ঠ সহযোগিতার জন্য দেশী বিদেশী সকল বাংলাদেশীর প্রতি অভিনন্দন জানান।

দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর গত শনিবার শরিয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে প্রথম স্প্যান বসানোর ফলে এটি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

প্রায় ৩২০০ টন ওজনের প্রথম স্প্যান সেতুর ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর ওইদিন সকালে স্থাপন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ