ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতীয় জাগরণে তমদ্দুন মজলিসের অবদান অনস্বীকার্য

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা তমদ্দুন মজলিসের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেছেন, জড়বাদী চিন্তাধারার প্রভাবে আধুনিক শিক্ষিত সমাজে ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে যে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হয় তা দূর করে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে তমদ্দুন মজলিস ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। বক্তাগণ বলেন, পাকিস্তান ভাগের পর এ দেশে সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র না থাকায় তমদ্দুন মজলিস সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অসামান্য অবদান রাখে। তমদ্দুন মজলিসকে অনেকে শুধু ভাষা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বিবেচনা করে। ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সে হিসেবে তমদ্দুন মজলিসকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা যায়। তাই বলা যায়, জাতীয়  জাগরণে তমদ্দুন মজলিস বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে। তবে তার পাশাপাশি তমদ্দুন মজলিস বৈজ্ঞানিক যুক্তি তর্কের মাধ্যমে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করে এ দেশের আধুনিক শিক্ষিত সমাজের মধ্যে ইসলামী জীবন দর্শনের প্রমাণেও অনন্য ভূমিকা পালন করে। বক্তারা আরো বলেন, দেশে বর্তমানে চলমান সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য তমদ্দুন মজলিসের আদর্শে দেশের প্রতিটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হতে হবে। বক্তারা, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে চলমান সরকার ও সেনাবাহিনী কর্তৃক অসহায় রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর ও নৃশংস হত্যা, ধর্ষণ তথা জাতিগত নিধন চলছে তা বন্ধে কঠোর প্রতিবাদ করেন এবং জাতিসংঘসহ বড় বড় দেশগুলোর সাহায্য কামনা করছেন যাতে অচিরেই এই গণহত্যা বন্ধ করা হয়। মৃত্যুভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণে দেশে যে সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধান অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং নাগরিক অধিকার ফেরত দিয়ে বৈশ্বিক সহায়তা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাময়িক ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য দেশের সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে তমদ্দুন মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে “জাতীয় জাগরণে তমদ্দুন মজলিসের অবদান” শীর্ষক এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক ও প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক আবদুল গফুর ও ভাষা সৈনিক আবদুল করিম পাঠান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ুম, প্রফেসর চেমন আরা, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক ড. এম আক্তারুজ্জামান, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ মান্নান, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন খান, ড. ঈসা শাহেদী, এম.আর মাহবুব প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ