ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিষণ্নতা

-তাজওয়ার তাহমীদ
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের দেশে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানসিক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, বাংলাদেশ-এর যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৬.০১% লোক, যাদের বয়স ১৮ বছরের উপরে, তারা কোন না কোনভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এর হার আরও বেশি (১৮.৪%)। বর্তমানে আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রতি ১শ’ জনে ১ জন মারাত্মক ধরনের মানসিক রোগী।
অবসাদগ্রস্ততা বা বিষণ্নতা : একটি সামগ্রিক সমস্যা। ইউরোপ আমেরিকায় বিষণ্নতা আক্রান্ত রোগীর হার ৫%-১০%। বাংলাদেশে ৪.৬%। বিশ্বে এ সমস্যাটি বর্তমানে ৩য় পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অবসাদগ্রস্ততা বা বিষণ্নতা (Depression)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শারীরিক ক্ষেত্রে : ক্লান্তি অনুভূতি এবং দুর্বলতা, সারা শরীরে ভুয়া ব্যথা বা ব্যথার অনুভূতি। এছাড়া দুঃখবোধে ভোগা। চিন্তা চেতনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নৈরাশ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো, আত্মহত্যার ভাবনা ও পরিকল্পনা, মনোসংযোগের ক্ষেত্রে অসুবিধা। আচরণগত ক্ষেত্রে, ঘুমের ব্যাঘাত মানে ঘুম কম হওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম, ক্ষুধা মন্দা, যৌন ইচ্ছা হ্রাস, ইত্যাদি লক্ষণ।
মোটকথা বিষণ্নতা মানে হলো মন খরাপ, দুঃখবোধ, বেদনার্ততা, ভীতশ্রদ্ধা কিংবা মনের শোচনীয় অবস্থা। অর্থাৎ মনে আনন্দ উচ্ছ্বাস বলতে কিছু থাকে না। যা ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন-যাপন, দৈনন্দিন কার্য ক্ষেত্রে বিঘœ সৃষ্টি করে, তার কাজের ক্ষতি করে। জীবনে চলার স্বাভাবিক আবেগ না থাকার কারণে ব্যক্তি জীবনের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে চলতে ব্যক্তির জীবনের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। সে আত্মহত্যার চিন্তা করে, কখনো আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়।
জীবনে চলার পথে আনন্দ এবং দুঃখ পর্যায়ক্রমে আসে। আমরা বলে থাকি দুঃখের পরেই সুখ। কিন্তু কেউ যদি দুঃখবোধকেই জীবনের সাথী বানিয়ে ফেলে, সেইতো হতভাগাদের দলে শরীক হয়ে যায়। তখন সে তার চারপাশে শুধু দুঃখবোধ আর দুর্দশার ছবি দেখতে পায়। তার সুচিন্তা দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়। মনের মধ্যে একটা হাহাকার দেখা দেয়। কিন্তু যিনি তার সৃষ্টিকর্তাকে অভিভাবক মেনে নেয় তার মধ্যে কি এ সব আজগুবি মনোভাব তৈরি হতে পারে? না, হতে পারে না।
যারা আল্লাহকে তাদের রব হিসেবে মেনে নিয়ে তার উপর অবিচল থাকে, তাদের জন্য কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। (সূরা আল আহকাফ-১৩)। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী (আল-ইমরান-১৫০)। আর, ‘‘যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করেছে, তাদের দৃষ্টান্ত হল মাকড়সার মতো। সে ঘর বানায়, আর ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল (আল কাবুত-৪১)। নিশ্চয়ই, আল্লাহর স্মরণই মনে প্রশান্তি দেয় (সূরা রা’আদ-২৮)। সূরা তাওরাতে আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, আল্লাহ বিশ্বাসীদের মনোরোগ নিরাময় করে দিবেন (আয়াত-১৪-১৫)।
আল্লাহ আরও বলেছেন, আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব (সূরা বাকারা-১৫২)। আল্লাহ বলেন, আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহের স্বাদ দেই, তখন তারা আনন্দিত হয় এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে তারা দুর্দশাগ্রস্ত হলেই তারা হতাশ হয়ে পড়ে (সূরা রুম, ৩৬)। আরো বলা হয়েছে- মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপদ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয়, যেন তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে (সূরা রুম-৪১)। মোট কথা, মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করলে মানসিক কোন সমস্যার উদ্ভব হওয়ার কথা নয় এবং বিষণ্নতা শান্তিতে পরিণত হবে আল্লাহকে স্মরণের মধ্যে।
দি স্কুল অব ইসলামিক সাইকোথেরাপী ফিচার, মোবা: ০১৫৫৬-৬৩১৯৬৫।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ