ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাট-বাজারে আয়োডিনবিহীন শিল্প লবণ বিক্রি ॥ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

মোঃ আতিকুর রহমান, (ঝালকাঠি) : বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে চাই, আয়োডিনযুক্ত লবণ খাই এ স্লোগানটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিসিক ও ইউনিসেফ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সারা দেশে। সরকার আয়োডিন লবণ উৎপাদন ও ব্যবহারে প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এমনকি লবণ মিল মালিকদের সরকার ভর্তুকি দিয়ে আমদানি করা আয়োডিন সরবরাহ করছে। কিন্তু এতো প্রচার প্রচারণা এবং প্রচেষ্টা থাকার পরেও সচেতনতা বৃদ্ধির অভাবে ঝালকাঠির বিভিন্ন বাজারে শিল্প লবণ বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আয়োডিনের অভাব জনিত রোগের ঝুঁকি বেড়েই চলছে।
এ লবণ গরুর খাদ্যসহ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করনে শিল্প লবণ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একদিকে নিরক্ষরতা অন্যদিকে অসচেতনতার কারণে উৎপাদিত শিল্প লবণ রান্নার কাজে ব্যবহার করছে গৃহবধূরা। তবে বাজার থেকে এই লবণ কিনে নিচ্ছে গৃহকর্তারা। অনুসন্ধানে দেখা যায় ঝালকাঠি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরীব অসহায় ও বেশির ভাগ সাধারণ মানুষরাই শিল্প লবণ রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। তারা এই লবণে আয়োডিন নেই জেনেও নির্বিঘ্নে তা তরকারি রান্নায় ব্যবহার করে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এরফলে গ্রামাঞ্চলের জনসাধারণের মাঝে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে বিসিক সূত্রে জানাযায়।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, আমুয়া, নবগ্রাম, বাউকাঠিসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রকাশ্যেই বাজারে আয়োডিন ছাড়া শিল্প লবণ (খোলা লবণ) বিক্রি হচ্ছে। সাদা বস্তা ভর্তি শিল্প লবন মিল থেকে নিয়ে দোকানে রেখে ছোট পলিথিনে মানুষের খাবারের জন্য প্রকাশ্যেই তা বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা জানায় আয়োডিনের প্যাকেট লবণ না কিনে ২টি কারণে তারা এই লবণ ক্রয় করছে। কারণ হলো গরুর খাবারের জন্য এই লবণ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পারিবারিকভাবে তরকারি রান্নায় ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে এই লবণ ক্রয় করছে। বাউকাঠি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানায়, প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ কেজি খোলা লবণ বিক্রি করি। প্রতি বস্তা ১২শ টাকায় কিনে কেজি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করি। এই খোলা লবণ আমরা ঝালকাঠির বিভিন্ন মিল থেকে ক্রয় করি। তবে ক্রেতারা এই লবণ বেশীর ভাগই তরকারি রান্নায় ব্যবহারের জন্য নিয়ে থাকেন।
বাউকাঠি বাজারের লবণ ক্রেতা আঃ ছত্তার, হামেদ মিয়া, জাহানারা, আমুয়া বাজারের লবণ ক্রেতা ছোবাহান সিকদার, বেল্লাল হোসেন, নবগ্রামের জয়নাল মিয়াসহ  আরো অনেক ক্রেতারা জানায়, খোলা লবণের ক্ষমতা (দগ) বেশী দাম কম এবং এতে কোন কেমিক্যাল মিশানো হয় না। এই কারণে আমরা এই লবণ রান্নার কাজে ব্যবহার করে আসছি। নবগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস মল্লিক, আঃ রহিম, আমুয়া বাজারের দোকানদার হালিমসহ আরো অনেক বিক্রেতারা জানায় প্রতি হাটে আয়োডিন যুক্ত প্যাকেট লবণের চেয়ে এই খোলা লবণ বেশি বিক্রি হয়। তারা জানায় হাটের দিন প্যাকেটের লবণ বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং খোলা লবণ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। তরকারিতে ব্যবহার ছাড়াও গরুর খাবারে এই লবণ ব্যবহার করায় বেশি বিক্রি হচ্ছে।
শিল্প লবণ খাবারের কাজে ব্যবহার না করার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে বস্তার গায়ে “মানুষের খাবারে ব্যবহারের জন্য নয়” বা অন্য কোন কথা লেখা হয় না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ঝালকাঠি লাকি সল্টের মালিক হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা শিঘ্রই তা কার্যকর করার কথা ভাবছি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি বিসিক উপব্যস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, আসলে শিল্প লবণ মানুষের খাবার কাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি প্রতিরোধে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই এটা খাবারের কাজে ব্যবহার কমে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ