ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাদীকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

সুন্দরগঞ্জ সংবাদদাতা: উপজেলায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদিকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। আসামীদের ভয়ে বাদী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে জখমের সাথে মিল রেখে ডাক্তারী সার্টিফিকেট না পাওয়ায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে বাদির। পুলিশে দাবি বাদির জখমের সাথে ডাক্তারী সার্টিফিকেটের গড়মিল রয়েছে। তাই পুনরায় সিভিল সার্জনের কাছে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বাদির জখমের সাথে মিল রেখে ডাক্তারী সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের(৫২) সাথে একই গ্রামের আয়নাল হকের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে চলতি বছরের ১ জুন আয়নাল হক তার লোকজন নিয়ে আব্দুল ওয়াহেদের জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে পাওয়ার টিলার নিয়ে চাষ শুরু করে। এসময় আব্দুল ওয়াহেদ ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম বাঁধা দিতে গেলে আয়নাল হক ও তার লোকজন তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তারা আব্দুল ওয়াহেদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতলে ভর্তি করে। তার মাথায় কাটাজখমে ২৩টি সেলাই করা হয়। হাসপাতালে আব্দুুল ওয়াহেদ দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহন করেন। এই ঘটনায় আব্দুল ওয়াহেদ বাদি হয়ে আয়নাল হকসহ সাতজনকে আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওয়াহেদ আলী অভিযোগ করেন, আমার মাথায় আসামিরা ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করলে দুইটি কাটাজখমে ২৩টি সেলাই করা হয়েছে। আমি গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ দিন ভর্তি ছিলাম। অথচ আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা. শাহীনুল ইসলাম আমাকে ১৯ জুলাই ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তখনও আমি অসুস্থ ছিলাম। তিনি আরও বলেন, আমার মাথায় কাটাজখম ও ২৩টি সেলাই দেওয়াকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমার মাথায় কাটা জখমকে সামান্য আহত উল্লেখ করে পুলিশের কাছে ডাক্তারী সনদপত্র দেন। এতে করে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছি। তিনি বলেন, আমার মামলায় আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই বাবুল হোসেন বলেন, গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) দেওয়া বাদির জঘমের সাথে চিকিৎসকের সনদপত্রের বিরাট গড়মিল পাওয়া গেছে। যে কারণে পুলিশ সুপার মহোদয়ের মাধ্যমে পুনরায় সিভিল সার্জনের কাছে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ওয়াহেদ আলীর ২৩টি সেলাই নিয়ে ১৯ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকায় বাদির জখমের সাথে মিল রেখে ডাক্তারী সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বাদির জখমের সাথে মিল রেখে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ