ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উপকূলে নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় হাত

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুনার  আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউপির   সোনাখালী  গ্রামের দিনমজুর  মো. বাবুল মিয়া। সারা দিন মানুষের বাড়ীতে দিন মজুর কাজ   দিন শেষে রোজগার হয় দুই থেকে ৩০০ টাকা। এ টাকা দিয়েই তাকে চালাতে হয় ৫ সদস্যের সংসার। এত দিন কোনোভাবে চলছিল টানাপড়েনের সংসার। কিন্তু সাম্প্রতিককালে চালের বাজারে দেখা দিয়েছে আগুন। যে চাল আগে কিনতেন ৩৫ টাকা কেজি এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। পরিবারের সদস্যদের অন্ন যোগাতে ৪ কেজি চাল কিনতেই প্রয়োজন হয় ২২০ টাকা। প্রতিদিনের উপার্জিত টাকার অবশিষ্ট অংশ দিয়ে কিনতে পারছেন না সংসারের অন্যান্য সামগ্রী। ধার-কর্জ করেও চালাতে পারছেন না সংসার। সোমবার  সকালে আমতলী নুতন বাজার  চালের দোকানে গিয়ে কথা হয়  বাবুল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ‘যেভাবে লাফাইয়া লাফাইয়া বাড়তাছে চাউলের দাম। বউ বাচ্চা লইয়া আর তিন বেলা খাইয়া বাঁচতাম পারমুনা।’ বাবুল মিয়ার  মতো বাজারে চাল কিনতে এসে নিম্ন আয়ের মানুষেরা চোখে সরষে ফুল দেখছেন। পৌর শহরের  পল্লবী  এলাকার রিকশাচালক  সোনা মিয়া জানালেন, ‘দুই কেজি চাল কিনছি। সংসারে ৫ জন। এই চাউল দিয়া কোন রখমে দুই বেলাই চলে না। আর এক বেলা কি খামু  আল্লাহ জানে।’ তিনি বলেন, এই সরকার আইয়া কইছিল ১০  টাহা  কেজি চাউল খাওয়াইবো। দাম এখন এত বাড়াইছে, গরিবরা না খাইয়া মরবে। বাজারে চাল কিনতে আসা  চিলা গ্রামের জিয়া উর রহমান  দিনমজুর  হাসন  মিয়া জানান, সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফালাইয়া কাম করি। যে কয় টাহা আয় হয় , তা দিয়া যদি চাউল ঐ কিনতে পারিনা। অন্য জিনিসপত্র কি দিয়া কিনমু । মোগো গরিবের মরণ ছাড়া  বাচন  নাই। বাজারে চাল কিনতে এসেছিলেন  এক সরকারী কর্মকর্তা  নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, বাজারে চাল কিনতে এসে এক বিপদেই পড়েছিলাম। মাসখানেক আগে ৫০ কেজি ওজনের ১ বস্তা চাল কিনেছিলাম ২২শ ৫০ টাকায়। আজও তেমনই টাকা নিয়ে বাসা থেকে বাজারে আসি। কিন্তু চাল কিনার পর পরিচিত বিক্রেতা জানান দাম ২৭শ’ টাকা। স্থানীয় বাজার ঘুরে চোখে পড়ে চালের ঊর্ধ্বগতির একই চিত্র। এসব বাজারে সর্বনিম্ন দরের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা। আর মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। বাজারের স্থানীয় চাল বিক্রেতারা জানান, আমরা বেশি দামে কিনি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। হঠাৎ করে চাউলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে  গেছে। এতে বেচা-বিক্রিও কম হইতেছে।
আমতলী  উপজেলা নির্বাহী  অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন   বলেন  জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক খোজ খবর নেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ