ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে চলনবিলে মৎস্য নিধন ॥ হুমকির মুখে রবি শস্য

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে শাহজাহান : পাবনা নাটোর,সিরাজগঞ্জের ৯ উপেেজলার মধ্যবর্তী চলনবিলে সু্যঁতিজাল দিয়ে মৎস্য সম্পদ নিধন চলছে। সবগুলো নদীতে পানি প্রবাহের পথ বাধাগ্রস্ত করেই কারেন্ট, সুঁতিজাল দিয়ে মাছ ধরার হিড়িক চলছে। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের উপরদিয়ে বয়ে যাওয়া হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়কের ৮ও ৯ নংব্রিজ থেকে শুরু করে ভাঙ্গুড়ার কলকতি ঘাট পযন্ত  প্রায় ৬০টি সু্যঁতিজাল পড়েছে। চাটমোহরের কাটানদীতে স্থল গ্রামের ২পার্শে,পাইকপাড়া,মুনিয়াদিঘি কারিগারি স্কুল এন্ড কলেজের পার্শে বামনগ্রাম, নিমাইচড়া, ধর্মগাছা  ব্রিজের নিচে ৩টি, মির্জাপুর সাওয়ালদহ নদীতে মাহবোলার জলাতে ভাঙ্গুড়ার শাখানদীগুলোর সব পয়েন্টে স্যুতিজাল পাতা। অসাধু জেলেরা উম্মুক্ত জলাশায়ে সরকার  ঘোষিত নীতিমালা উপেক্ষা করে বর্ষা মওসুমের শুরু  থেকেই প্রশাসন কে ম্যানেজ করে সরকার নিষিদ্ধ  সুঁতিজাল ও পানি প্রবাহের জায়গা আটকিয়ে মৎস্য নিধন করাতে যেমন মাছের বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে তেমনি রবি শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অপর দিকে ধ্বংস করা হচ্ছে মৎস্য সম্পদ পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুমানী নদীর বিভিন্ন স্থানে ও চলনবিলে স্থাপিত অবৈধ সুঁতি জালে বেড়া দিয়ে মৎস্য নিধনের মহাৎসব চলছে। এ কারণে বলিরে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আগামী রবি মৌসুমে রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে ধ্বংস করা হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল, ছাইকোলা ও নিমাইচড়া ইউনিয়নরে কাটা জোলা, গুমানী নদীসহ বিলের মুখে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালীরা মাছ নিধনের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। তারা সুতিতে বাঁধ স্থাপন করে মাছ ধরার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনে চরমভাবে বাধার সৃষ্টি করেছে। এতে করে আগামী রবিশস্য মৌসুমে আবাদ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়ছেনে কৃষক। অবৈধ সুতিতে বাঁধ আর নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাল-বিল, জলাশয় এবং ডোবা-নালা থেকে কারেন্ট, খড়া ও বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরায় দেশি প্রজাতির মাছ বলিুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন হান্ডিয়ালের কাটা নদী, বিল ও গুমানী নদীর বঁওশা, ধরমগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাবশালীরা বাঁশের বেড়া দিয়ে সুতিতে বাঁধ তৈরি করে মাছ নিধনের পাশাপাশি চলমান পানির গতিপথ রোধ করেছে। যার ফলে বিভিন্ন বিলের জমি এখও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ স্থানীয়ভাবে বাঁধ নির্মাণকারীদের নিষেধ করেও কোন সুরাহা হয়নি। চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে সুঁতিজাল অপসারণ করলেও তা চলে ক্ষনস্থায়ী। সুবিধাবাদী চক্র ফের অপতৎপরতা চালিয়ে সুঁতিতে বাঁধ স্থাপন করে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাছ। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এলাকাবাসী বিষয়টি প্রশাসনকে জানালের অজ্ঞাত কারনে কাটা হচ্ছে না অবৈধ সুঁতির বেড়া। হান্ডিয়াল কৃষি কলেজ এলাকায় বাচ্চু গং, স্থল এলাকায় সাবেক মেম্বর আঃ রাজ্জাক গং, বিলে সাইদুল গং, হয়দেব হলদার গং,আমিরুল, বাবলু গং সহ আরো কয়েক জন অবৈধ সুঁতিতে বাঁধ স্থাপন করে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসে মেতে উঠেছে বলে এশাধকি সূত্র জানায়।
চলনবিল জীববৈচিত্র রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, বাঁশের বেড়া দিয়ে ও অবৈধ সুতিজালের ফাঁদ পেতে চলনবিল, আত্রাই ও গুমানী নদী থেকে অবাধে মাছ শিকার চলছে। এতে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণি আটকা পড়ছে। ফলে জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। চলনবিলের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় উপজলো প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর একযোগে কাজ করতে হবে। একশ্রেনির রাঘব বোয়ালদের হাত থেকে মাছ রক্ষা করতে হবে। এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন,“ইর্তোপূবে আমরা সুতিতে বাঁধ স্থাপনকারীদরে নোটিশ দিয়েছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ইউএনও সাহেব বদলী হওয়ার পর নতুন ইউএনও এসেছেন, তাঁর সাথে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম ফেরদৌস ইসলাম বলেন মৎস্য নিধনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময়
পাবন ৩ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি পদপ্রার্থী তরুন উদীয়মান আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আলী আশরাফুল কবির শুক্রবার সন্ধায় হান্ডিয়াল প্রেসক্লাবে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জনসেবা করার মত ব্যাক্ত করেন, তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। জননেতা আলী আশরাফুল কবির আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার টিকিট দিলে আমি তৃণমূল পর্যায় জনগণের পাশে থাকবো, এলাকার রাস্তা ঘাট, ব্রিজ কালভাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও এতিম খানা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সহ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প গড়ে তুলব, দারিদ্র বিমোচন করবো এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমার নির্বাচনী এলাকায় বাস্তবায়ন করবো এবং সন্ত্রাস, মাদক ও দূর্নীতি মুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, হান্ডিয়াল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক চলনবিলের আলোর সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগ হান্ডিয়াল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তারিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ হান্ডিয়াল শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, হান্ডিয়াল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কোবাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান হীরা, দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংবাদিক মোঃ আনিছুর রহমান, সাংবাদিক সোহেল রানা জয় সহ এলাকার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গা পূজার বিভিন্ন মন্ডব পরিদর্শন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ