ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উলিপুরে ৩১ দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে ২০ গ্রামের ২ হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের ২ হাজার মানুষ এলাকায় সংঘবদ্ধ দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেউ ভিটে-মাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। দাদন ব্যবসা সামাজিক ব্যাধী হলেও আইন প্রয়োগে প্রশাসন মহলের রহস্যজনক নিরবতা এলাকার সচেতন ব্যক্তিদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।
উপজেলার দাদন কবলিত গ্রামগুলো হলো পৌরসভার গুনাইগাছ মোড়, জোনাইডাঙ্গা, বলদিপাড়া, পাঠানপাড়া, হায়াতখাঁ, রামদাস ধনীরাম, ডারার পাড়, বাকরেরহাট, বকুলতলা।
দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবেরকুটি, সরদারপাড়া, তেলিপাড়া, করতোয়াপাড়া, বক্সিপাড়া, পান্ডুল ইউনিয়নের আপুয়ারখাতা, তনুরাম, সোত্তারভিটা, থেতরাই ইউনিয়নের খামার, কিশরপুর, হোকডাঙ্গা, গোড়াইপিয়ার সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামের ৭০ ভাগ লোকের আয়ের প্রধান উৎস হলো দাদন ব্যবসা। এর মধ্যে উপজেলা সদর বাজারের ২টি পয়েন্টে অবস্থানরত ৩১ জন লোক এ ব্যবসাকে প্রফেশনাল বিজনেস হিসাবে ধরে নিয়েছে। ভূক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দাদন ব্যবসায়িরা মাসিক শতকরা ২০ টাকা হারে টাকা দেয়। বার্ষিক হিসাবে এর পরিমাণ দারায় আসল ১’শ টাকা এবং সুদ ২’শ ৪০ টাকা।
কোন মাসে সুদ পরিশোধ করতে না পারলে পরবর্তী মাসে আসলের সাথে তা যোগ হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার সুসংগঠিত ওই ৩১ জন দাদন ব্যবসায়ির নাম ঠিকানা সহ পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেছে। দেশের পশ্চাৎ-পদ এলাকার মঙ্গাপৃত অভাবী মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে দাদন। ব্যবসাটা এমন ভাবে নিয়েছে যে, এ কাজটি নিন্দনীয় বলে তারা মনে করেনা। এ সব দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে যারা একবার পড়েছে তাদের বের হওয়ার কোন উপায় নেই। দিনে দিনে দেনার পরিমাণ কেবল বেড়েই যায়। কেউ তা আর সহজে শোধ করতে পারেনা। অনেককে ভিটে-মাটি, জমি-জমা বিক্রি করে ওই দেনা শোধ করতে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে। কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। দেনা শোধ করতে না পেড়ে একজন আত্মহত্যাও করেছেন। সরদার পাড়ার জয়নাল বসুনিয়া, নারিকেল বাড়ির সাহেব আলী, একই গ্রামের মইনুদ্দি ও এরশাদ আলী এলাকার দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া দাদন শোধ করতে গিয়ে সব জমি-জমা হারিয়েছে।
মাসের শেষে নির্ধারিত তারিখে সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে এলাকার সংগঠিত দাদন ব্যবসায়ীরা এক যোগে ঋণ গৃহীতার বাড়িতে এসে এক ধরনের অপারেশন শুরু করে। ফলে, দাদন দাতাদের ভয়ে পালিয়ে থাকায় সাংসারিক কাজ-কর্মও তারা ঠিকমত করতে পারেনা। উলিপুরের দাদন ব্যাবসার দস্যুবৃত্তি সম্পর্কে সর্ব মহল ওয়াকিবহাল থাকলেও প্রতিরোধের সামান্য টুকুও পদক্ষেপ না থাকায় সমাজে সংশ্লিষ্ট দাদন ব্যবসায়িদের উপদ্রুব দিন দিন বেড়েই চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ