ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় গাজী মেডিকেলে আইসিইউতে লাশ রেখে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাশ রেখে আবারো অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেললে যে কোন সময় রোগী মারা যাবে- মর্মে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে রোগীকে ছাড়তেও রাজি হননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিহতের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেত্রী হস্তক্ষেপ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এভাবে গত ৫ দিনে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও বেড ভাড়ার নামে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ী গ্রামের সতীশচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস (৭৫) নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে স্ট্রোক করলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। গাজী মেডিকেল কর্তৃপক্ষ রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে প্রতিদিন নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ ক্রয় বাবদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে বিল করতে থাকেন।
এদিকে, রোগীর শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি না হয়ায় রোগী শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের জামাই খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকৌশলী সুনীল বিষয়টি তার স্বজনদের সহযোগিতা কামনা করেন। সে মোতাবেক খালিশপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শারমীন রহমান শিখা, সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আক্তার লিমা ও সোনাডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক নূর জাহান নূরীসহ ১০/১৫ জন নেত্রী  শনিবার সকাল ৯টার দিকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। প্রথমে তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু পরিচয় দেয়ার পর প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী নেত্রী তাসলিমা আক্তার লিমা অভিযোগ করেন, তারা আইসিইউতে প্রবেশ করে দেখতে পান রোগীর পালস, হার্টবিট কিছুই নেই। এ সময় তারা বুঝতে পারেন রোগী মারা গেছে। কিন্তু বের করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কথা বললে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘রোগী লাইফ সাপোর্টে রেয়েছে, লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে যে কোন সময় মারা যেতে পারে’ বলে ভয় দেখান। এভাবে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা বিল নিয়েছেন।
নারীনেত্রী শারমিন আক্তার শিখা বলেন, তারা আইসিইউতে প্রবেশ করে দেখতে পান রোগীর শ্বাস-প্রশাস এবং প্রেসার নেই। দেখে রোগী আগেই মারা গেছেন বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ২২ হাজার টাকা করে বিল নিয়েছেন। সর্বশেষ শনিবারও রক্ত পরীক্ষা বাবদ ১৩শ’ টাকা এবং ৫ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে বলেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খুমেক হাসপাতালে ভর্তির আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সেটি কত সময় আগে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা তিন দিন আগে রোগী মারা যাওয়ার দাবি করলেও সেটি যৌক্তিক নয় বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে রোগীর মেয়ে কবিতা বিশ্বাস ও অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে তারা শোকাহত থাকায় পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু বলেননি।
গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার আশিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী লাইফ সাপোর্টে থাকলেও তাদের হেফাজতে মারা যায়নি। তবে লাইফ সাপোর্ট খোলার পর খুমেক হাসপাতালে ভর্তিতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ৬৫ হাজার টাকা বিল হলেও নারী নেত্রীরা সুপারিশ করে ৪০ হাজার টাকা বিল দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ