ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আশুরা পালিত

খুলনা অফিস : খুলনায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত। প্রতিবারের মত পবিত্র মহররম উপলক্ষে রোববার আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্ট আয়োজিত দশদিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পয়লা মহররম হতে ১০মহররম পর্যন্ত আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী। সমাপনী দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এর পবিত্র শাহাদৎ স্মরণে আশুরার শোক মিছিল নগরীর আলতাপোল লেনস্থ আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্ট ইমাম বাড়ি হতে সকাল সাড়ে ৯টায় বের হয়। আলোচনা সভা ও শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনর মাননীয় মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার।
শোক মিছিলপূর্ব বক্তৃতায় ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী আশুরার শোক সমাবেশে বলেন, ‘দশ দিনব্যাপী শোক আলোচনা ও শোক মিছিলের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাসীকে এ বার্তা পৌঁছে দেয়া যে, শিয়া মুসলমানরা জালিমদের পক্ষে নয় তারা মজলুমদের পক্ষে। তিনি বলেন, বিশ্বের মুসলমানরা আজ যদি মজলুমদের পক্ষে অবস্থান নিত তাহলে আই এস তথা ইসলামের নামে অন্যান্য জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দল সৃষ্টি হতো না। তারা আজ ইসলামের নামে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আত্মঘাতী বোমা আক্রমণ চালিয়ে মুসলমান নারী পুরুষ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। তিনি কারবালার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নবী করীম (সা.) এর দৌহিত্র, বেহেশতের যুবকদের নেতা হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এর আদর্শ বুকে ধারণ করে মজলুমদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহবান জানান।’
আলোচনা শেষে একটি শোক ও মাতম মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। এ শোক মিছিলে খুলনা ও অন্যান্য এলাকা থেকে আগত শিয়া মুসলমান নারী ও পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, পবিত্র ১০ মহররম ৬১ হিজরীর এই দিনে কারবালার তপ্ত মরুপ্রান্তরে নানার দ্বীনকে রক্ষা করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন (আ.) তাঁর সঙ্গী-সাথীসহ তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আল্লাহর পথে এ পর্যন্ত যাঁরা শাহাদাতবরণ করেছেন তাঁদের মধ্যে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এর শাহাদাৎ ছিল অতুলনীয়। ইতিহাসে অনেক দুঃখজনক ঘটনাই স্মরণাতীতকাল থেকে ঘটে আসছে। কালের করালগ্রাসে সেই সকল ঘটনা ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। কিন্তু কারবালার ঘটনা এতই অনন্য যে যুগে যুগে এর স্মৃতি মানুষের মণিকোঠায় বার বার এসে ভাস্কর হয়ে উঠে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে কারবালার মর্মস্পর্শী ঘটনা মানব হৃদয়কে আরো জোরে নাড়া দিয়ে যায়।
অপরদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে নগরীর খালিশপুরের ১২নং ওয়ার্ডের শিয়া মসজিদ ও ইমাম বাড়ি পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খুলনা মহানগর বিএনপি। এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যক্তিগত কোনো অভিলাষ নয় বরং অবিচার, জবরদস্তি, মিথ্যা অহংকার ও আত্মসম্মানহীন নিপীড়কের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে গিয়ে তাঁর নিজের আত্মত্যাগের ঘটনা সারা দুনিয়ার সকল মজলুমকে প্রতিবাদী হতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রেরণা যুগিয়ে চলেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, স ম আব্দুর রহমান, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, এডভোকেট মোহাম্মাদ আলী বাবু, এইচ এম সালেক, নুরু আব্দুল্লাহ, জাহিদুর রহমান রিপন, শাহনাজ পারভিন, হেমায়েত উদ্দীন, সোহেল, প্রিন্স সোহেল, মঈন উদ্দীন, গোলাম হোসেন, মামুন পাটোয়ারী, রফিকুল ইসলাম, মো. নুরুল আমিন, ফয়সাল ইসলাম চিন্ময়, বেলাল হোসেন, লিটন হাওলাদার, চুন্নু, তানভীর প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ