ঢাকা, মঙ্গলবার 3 October 2017, ১৮ আশ্বিন ১৪২8, ১২ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে হবে -খুলনা বিভাগীয় কমিশনার

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। কিন্তু দেশটি  আয়তনে ছোট এবং এর সম্পদও সীমিত। এই সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বিভাগীয় কমিশনার গতকাল সোমবার সকালে খুলনা বিশ্ব বসতি দিবস এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। খুলনা জেলা প্রশাসন দিবস দুটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন গণপূর্ত বিভাগ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জি এম এম কামাল পাশা, বিসিকের  আঞ্চলিক পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প¬ানারস, খুলনা চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিনিয়র প¬ানারস প্রভাস চন্দ্র কুন্ডু। অনুষ্ঠানে খুলনাকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন কুয়েটের সহকারী অধ্যাপক তুষার কান্তি রায়। স্বাগত বক্তৃতা করেন গণপূর্ত বিভাগ খুলনা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ওয়াসেক আহম্মেদ। দিবস দুটি উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি সকালে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, আমরা আজ এক সাথে দুটি দিবস আয়োজন করছি এবং এ দুটি বিষয়ই মানুষের মৌলিক চাহিদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বাসস্থানের চাহিদা ছিল। বর্তমানে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে উন্নত বাসস্থানের চাহিদাও বেড়েছে। এই আবাসনের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট। মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে যেন আমাদের কৃষি জমি বিনষ্ট না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের সাথে জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)‘র একটি লক্ষ্য হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক,নিরাপদ, অভিঘাত সহনশীল টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্য পুরণে বাংলাদেশ সরকার বিকেন্দ্রীকরণ ও সুষম উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করেছে। এজন্য দেশের দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে সরকার পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পদ্মাসেতু নির্মিত হলে খুলনা অঞ্চলে অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে এই অঞ্চলের উৎপাদনশীলতা অনেক বাড়বে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে পরিকল্পিত নগরায়ন সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ