ঢাকা, বুধবার 4 October 2017, ১৯ আশ্বিন ১৪২8, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাঘাটায় পানিকচুর চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

সাঘাটা সংবাদদাতা: উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন অন্যান্য সবজির ন্যায় ব্যাপক হারে পানিকচুর চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একেবারে চারিদিক জুড়ে বিভিন্ন জাতের পানিকচুর চাষ হয়েছে জুমারবাড়ী ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। এছাড়াও এ গ্রামের আশেপাশের গ্রাম গুলোতেও বাড়ীর পার্শে¦র জমি, উঁচু নিচু জমিসহ পতিত জমিতে এবার কচুর (কাঠকচু) চাষ ব্যাপক হারে হয়েছে। অধিক লাভবান হওয়ায় কচু চাষ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এ কারণে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর কচুর চাষ দ্বিগুণ হয়েছে। অল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা কচু চাষ করে হাট বাজারে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।  সাঘাটা উপজেলার কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশিষ চন্দ্র জানান, এক সময়ে বসতবাড়ীর আশেপাশের পতিত জায়গা ও অল্পস্বল্প জমিতে এ কচুর চাষ হতো। সময়ের বিবর্তনে সেই পানিকচু (কাঠ কচু) চাষ হচ্ছে এখন আবাদী জমিতে। বাজারে সবজি হিসেবে কচুর ব্যাপক চাহিদা ও প্রচুর ভিটামিন থাকায় এ উপজেলায় কচু চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। বাণিজ্যিকভাবে অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভবান হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমিতেও তারা চাষ করছেন কচু। উক্ত কর্মকর্তা আরও জানান, কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসে কচুর চারা জমিতে রোপন করার উপযুক্ত সময়। পানিকচু চাষাবাদে পানির প্রয়োজন হলেও শুকনা জমিতেও ভালো হয় এবং অনেক লম্বা কাঠ হয়। সরেজমিনে উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী, তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কৃষকদের নিকট থেকে জানাযায়, এ গ্রামের সবাই কম বেশি জমিতে পানি কচু চাষ করে থাকেন। অল্প ব্যয়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন এ গ্রামের কৃষকরা। এখানকার কচু এলাকার চাহিদা মেটায়ে ব্যবসায়ীরা নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে দেশের অন্যান্য জেলার হাট বাজার গুলোতে।
উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর মাত্র ১০শতাংশ জমিতে পানি কচু (কাঠ কচু) চাষ করেছি। এতে যা ব্যয় হয়েছে তা অনেক আগেই কচুর লতি বিক্রি করেই খরচ উঠেছে। কচুর কাঠ বিক্রি করে লাভ হয়েছে প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা। একই গ্রামের আদর্শ কৃষক আলী হোসেন বলেন, কচু চারা রোপনের কয়েক মাসের মধ্যেই লতি বিক্রি করা যায়। বর্তমান বাজারে লতির খুবই চাহিদা। তারপর বিক্রি করা হয় কাঠ কচু। ১বিঘা জমিতে প্রায় ৪হাজার কচুর চারা রোপন করা যায়। চারা রোপনের পর কোন কিটনাশক ও সার বেশি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। এমনিতেই বেড়ে ওঠে। এসব গ্রামের উৎপাদিত কচু এলাকার চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য জেলার আরতে পাইকারি বিক্রি করা হয়।আবার জমি থেকেও ব্যবসায়ীরা কচু কিনে নেয়। প্রতিটি কচু বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০টাকা দরে। এতে ১বিঘা জমিতে লাভ হয় প্রায় গড়ে ৫০হাজার টাকা। মাত্র ৫-৬মাসেই এ ফসল তোলা শেষ হয়। তবে বন্যাতে তেমন ক্ষতি হয় না। বেকার যুবকেরা কচু চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারে খুব সহজেই। সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৮শ’ বিঘা জমিতে কচু চাষ হয়েছে। এ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী চাষ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমিতুল হক নয়ন বলেন, কৃষকদের সহায়তা করা হলে কচু চাষ করে সাঘাটা উপজেলার অভাবী কৃষকরা সহজেই আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ফিরে আনবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ