ঢাকা, বুধবার 4 October 2017, ১৯ আশ্বিন ১৪২8, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন কাজ শীঘ্রই শুরু

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরাসনে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে উপজেলার ভদ্রা ও শালতা মরা নদী খনন কাজ শীঘ্র শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নদীর সীমানা নির্ধারণসহ খনন কাজের সকল প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেছে। এ জন্য নদীর বুকে অবৈধ দখলে থাকা শত কোটি টাকার বাড়ি ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরাতে হবে।
দীর্ঘ ৩১ বছর পর অবশেষে নদী দু’টি খনন হলে প্রতি বছর এ এলাকায় শত শত কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে বলে এলাকাবাসীর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সকল নদী বুকে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে গত বছর ডিসেম্বর মাসে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী, সালতা, খর্নিয়া, হরিনদী, থুকড়া-হামকুড়–া এ ৫টি নদীর নব্যতা হারাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ওই সকল নদীগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় এবং নদীর বুক গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও ফসলের মাঠ। ফলে পানি নিষ্কাশনের বাধায় প্রতি বছর বর্ষার মওসুমে জলাবদ্ধতায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়। এরই মধ্যে প্রভাশালীরা ওই ৫টি নদী চরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার একর সরকারি জমি দখল নিয়ে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত, ইট ভাটা, মৎস্য খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে এর প্রভাবে ডুমুরিয়াসহ পার্শ¦বর্তী ফুলতলা, তালা, কেশবপুর উপজেলার ৫৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১৩ লাখ মানুষ নানামুখি পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলার ওই ৫টি নদী প্রায় একশ’৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ভূমিদস্যুদের দখলে। অনেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ওই সকল সরকারি জমি দখল পজেশন হিসেবে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। তবে দখলদারদের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু হোসেন জানান, জেগে ওঠা নদীর চর দখলের পাশাপাশি নদীর সীমানা ও দখল করে নিচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। এতে নদী তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। আশির দশকে ওই সকল নদীগুলোতে পোদি নৌকা, পালতোলা নৌকা ও গহনা নৌকাসহ লঞ্চ-ষ্টিমার এবং পারাপারের জন্য উপজেলার অভ্যন্তরে কৈয়া, বালিয়াখালী ও খর্নিয়ায় তিনটি স্থানে ফেরী চলাচল করতে দেখা গেছে।
রংপুর বটবেড়া গ্রামের জলাবদ্ধতা এলাকার বাসন্দা আরতি মন্ডল, প্রমিলা রানী ও সুচিত্রা রায় জানান, বর্ষার মওসুমে ঘরবাড়ি, ভিটা ও জায়গা জমি সব পানির নিচে চলে যায়। কোন কাজ থাকে না। তখন যাতায়ন ব্যবস্থার একমাত্র বাহক ডিঙ্গি নৌকা। স্থানীয়দের অভিমত স্থায়ী জলাবন্ধতায় ওই সকল পরিবাররের সদস্যদের জিম্মি থাকতে হয়।
ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন ও শিক্ষক বিমল চন্দ্র বৈরাগী মনে করেন, গত কয়েক বছর ডুমুরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী ফুলতলা, সাতক্ষীরার তালা, যশোরের কেশবপুর উপজেলা এলাকায় ১৩ লাখ মানুষ বন্যা-জলাবদ্ধতার শিকার হয়।
প্রভাষক আমান উল্লাহ ও রুদাঘরা ইউপি’র সাবেগ মেম্বর ও নারী নেত্রী রোজিনা পারভিনের মতে, জলবায়ু বিপর্ষয়ের এ পরিস্থিতিতে প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে এখানের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নদীর অববাহিকায় এ অঞ্চলের প্রায় ১৩ লাখ মানুষের জীবন-যাত্রা ফিরিয়ে আনতে নদী খননসহ অবৈধ দখল নেয়া নদী-খালে আড়াআড়ি বাঁধ ও নেট-পাটা উচ্ছেদের বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড পলি অপসারণের জন্য ২০০৮ সালে ডুমুরিয়া হরি নদীতে ড্রেজিং শুরু করলেও কয়েক দিন পর তা অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ