ঢাকা, বুধবার 4 October 2017, ১৯ আশ্বিন ১৪২8, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম নগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নুতন এসেসমেন্টের মাধ্যমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে হোল্ডিংয়ের ভ্যালুয়েশন বহু গুণ বাড়িয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম নগরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে নগরীতে।
নগরবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামবাসীর সকল ওজর–আপত্তি, কাকূতি–মিনতি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম সিটিমেয়র জবরদস্তিমূলক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য এসেসমেন্ট সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। এ এসেসমেন্ট মধ্যবিত্ত নাগরিকের মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কর নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতি (বর্গফুটের ভিত্তিতে) বাদদিয়ে বাড়ি ভাড়ার উপর এসেসমেন্ট করার কারণে হোল্ডিং ট্যাক্স অসহনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা পরিশোধেরক্ষমতা মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তের নেই।
নগরবাসী বলছে,চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ এলাকা বর্ষা আর জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তা ঘাটেরবেহাল দশা। যানজটে নগরবাসীর নাকাল অবস্থা। ড্রেনের ময়লা পানি পেরিয়ে কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। নাগরিকদের নরক যন্ত্রণায় ঠেলে দিয়ে ন্যূনতম সুবিধা না বাড়িয়ে গলাকাটা করারোপ মরার উপর খাড়ারঘা’র শামিল।
 হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের ‘অতিরিক্ত’ হোল্ডিং ট্যাক্সের লাগাম টেনে ধরার জন্য মেয়রকে চিঠি দিচ্ছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামীলীগ। শীঘ্রই মেয়রের কাছে এই চিঠি পৌঁছে দেয়ার জন্য নগর আওয়ামীলীগের জরুরি সভায় ৫জন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত রোববার রাতে নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র  এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলস্থ বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক দুর্ভোগ লাগবে সিডিএ, পিডিবি, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি ও ওয়াসাকেও চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে নগরীতে উঠতি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য সিএমপি কমিশনারকেও চিঠি দেয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামীলীগের নেতারা জানিয়েছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে পূর্বের নির্ধারিত ট্যাক্স নেয়ার আহবান জানিয়ে সিটি মেয়রের কাছে মহানগর আওয়ামীলীগের চিঠি পৌঁছে দেয়ার জন্য নগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, যুগ্ম সম্পাদক শফিক আদনান, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম ফারুককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নগরবাসীর উপর চসিকের আরোপিত হোল্ডিং ট্যাক্সে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এটা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। তাই আমরা মেয়রের কাছে নগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে নতুন ভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স আরোপ না করে পূর্ব নির্ধারিত ট্যাক্স নেয়ার জন্য আহ্বান জানাবো। তা না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে হোল্ডিং ট্যাক্সের ব্যাপারে ক্ষোভের বিষয়টি জানা যায়। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানায়,চসিক এসেসররা এসেসমেন্টের নামে প্রত্যেক হোল্ডিংয়ের ভ্যালুয়েশন ১০ থেকে ২০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যে হোল্ডিংয়ের ভ্যালুয়েশন ছিল ২ লাখ সেটি করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। যার ৫ লাখ ছিল তার করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। যার ২০ লাখ টাকা ছিল তার করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা,যার ছিল ৮ লাখ তার করা হয়েছে ৬০ লাখ। যা ইচেছ সেভাবে ভ্যালুয়েশন ধরে দেয়া হয়েছে। নগরবাসীর আপওি ও এসেসররা পাওা দেন নি। এনিয়ে এমনিতে ক্ষোভ আছে।
নগরীর চান্দগাঁও এলাকার ৭ নম্বর সড়কের ৪ তলা ভবনের মালিক ওসমান গণি। তার ভবনে মোট ফ্ল্যাট সংখ্যা ৮টি। অতীতে বর্গফুটের মূল্যায়নে তার ভবনের ভেল্যু ছিল ৮০ হাজার টাকা। অথচ নতুন এসেসমেন্টে তা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘আপিল করার পর যদি কমিয়ে ৪ লাখ টাকাও ধার্য করা হয় তাও তো পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ