ঢাকা, বুধবার 4 October 2017, ১৯ আশ্বিন ১৪২8, ১৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৯ নিরাপত্তা প্রহরী চাকরিচ্যুত ॥ কুড়িগ্রামে পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ৫ উপজেলার ৯ নিরাপত্তা প্রহরীকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বর্তমানে চাকুরীচ্যুতরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারী ২০১৩ ইং সালে উলিপুর,চিলমারী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী  উপজেলা পবিবার পরিকল্পনা গুদামে ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ২জন করে নিরাপত্তা প্রহরী আনসার ভিডিপি সদস্যকে নিয়োগ করা হয়। তখন থেকে তারা সার্বিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফারুক আজম নুর স্বাক্ষরিত পত্রে ৯ জন আনসার ভিডিপি নিরাপত্তা নৈশ প্রহরীকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানাগেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পণ্যাগার যুগ্ম সচিব, স্বাপপম পরিচালক উপকরণ সরবরাহ ও লাইন ডাইরেক্টর এ.কে.এম মাহাবুবুর রহমান জোয়ার্দার স্বাক্ষরিত গত ২৪ জুলাই/১৭ ইং স্বাক্ষরিত পত্রে উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ২১টি আঞ্চলিক পণ্যাগার এবং সারাদেশে ৩০৭ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা গুদামসহ ৩’শ ২৮ স্থাপনায় নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেকটিতে ২ জন করে ৬’শ ৫৬ জন এবং উপকরণ সরবরাহ ইউনিটে ৪ জনসহ মোট ৬’শ ৬০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ প্রদানের কার্যক্রমের প্রক্রীয়া শুরু করলেও পরবর্তি নির্দেশনার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে পরে।
এমতাবস্থায় গত ৩১ আগষ্ট/১৭ইং চাকুরীচ্যুত ভুক্তভোগী আজিজার রহমানসহ ৯ জন বাদী হয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মামলা করেন। যার নং-১৮৪/১৭ ইং। বিজ্ঞ আদালত উক্ত কর্মকর্তাকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৪ কার্য দিবসের মধ্যে কারন দর্শাতে বলেছেন। 
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ৯ জন বাদে সারাদেশে ৬’শ ৪৭ জন নিরাপত্তা নৈশ্য প্রহরী পূর্বের ন্যায় যথারীতি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছে।
এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার নিরাপত্তা নৈশ্য প্রহরী মোঃ আজিজার রহমান জানান, জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফারুক আজম নুর নৈশ প্রহরীদের অস্থায়ী  চাকুরীর মেয়াদ নবায়ন করার সুযোগ না দিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে চাকুরী থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন এবং তিনি ১০জন কে নতুন নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য করার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে বেতন-ভাতা বঞ্চিত ৯ নিরাপত্তা নৈশ প্রহরী ৯ মাস ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এছাড়া ঐ নৈশ প্রহরীদের জুলাই/১৫ থেকে ডিসেম্বর/১৬ ইং পর্যন্ত জনপ্রতি ৯ হাজার করে ১৮ মাসের মোট  বেতন-ভাতা ১৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা প্রদানের কথা থাকলেও ৬ লাখ ১৫ হাজার ৬’শ টাকা প্রদান করে অবশিষ্ট্য ৮ লাখ ৪২ হাজার ৪’শ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট নিরাপত্তা নৈশ প্রহরী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আজম নুর আতœসাৎ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, প্রধান কার্র্যালয়ের নির্দেশনা না পেলেও চাকুরীর মেয়াদ ৩ বছর অতিবাহিত হওয়ায় তাদের চাকুরী হতে অব্যাহতি দিয়েছি।
 অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের অব্যাহতি দেয়ার ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা মূলক পত্র না থাকলেও মৌখিক নির্দেশনা ছিল বলে জানান। বর্তমানে উলিপুরসহ ৫ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের গুদামগুলো ৯ মাস থেকে নিরাপত্তা নৈশ প্রহরী না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ