ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরো ৩ লাখ রোহিঙ্গা আসার আশংকা

সীমান্তে জড়ো হাজার হাজার রোহিঙ্গা

সংগ্রাম ডেস্ক : রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আগামী ৬ মাসে বাংলাদেশে আরো ৩ লাখ রোহিঙ্গার আগমন ঘটতে পারে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৮ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

পার্সটুডের এক খবরে বলা হয়, ইরান নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ পৌঁছে দিতে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করছে। এদিকে বৃটিশ সরকার রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সম্ভাব্য সবকিছু করার এবং বাড়তি সাহায্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে নির্যাতন থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে বৃটেন।

শীর্ষ নিউজ জানায়, জাতিসংঘ বাংলাদেশের উদার ও মানবিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে। জাতিসংঘ মানবিক সহায়তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেও তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ত্রাণ সংস্থাগুলো আগামী ছয়মাসের জন্য ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন, বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য ৩ হাজার ৫৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য এই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই শিশু। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৮ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলো। আগামী ৬ মাসে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আবাসন বিষয়ক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াকিনস বলেন, ‘কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গারা খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। তাদের অনেকেই এখন সেই বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাদের বসবাসও করতে হচ্ছে অনেক মানবেতর পরিস্থিতিতে। বাংলাদেশও ত্রাণ সংস্থাগুলো এই বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সহায়তায় এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘ, ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। রোহিঙ্গাদের উপর এই নির্যাতনকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে তারা। গত বছর অক্টোবরেও পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিলো রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের সশস্ত্র এই বিদ্রোহী সংগঠনটি। সেসসময় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।আরও ৯১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে বলে ধারণঅ জাতিসংঘের। ওয়াটকিনস বলেন, আমাদের লক্ষ্য ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত থাকা। কারণ ইতোমধ্যে ৮ লাখের বেশি অবস্থঅন করছে। আর আগামী ৬ মাসে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

 রোহিঙ্গাদের সাহায্য পৌঁছে দিতে ইরানের রোডম্যাপ

পার্স টুডের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞের শিকার রোহিঙ্গাদের ত্রাণ পৌঁছে দিতে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করছে ইরান। গত মঙ্গলবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রাহিমির মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বৈঠক করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার একটি পরিপূর্ণ রোডম্যাপ তৈরিতে কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হন। বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে ইরানের তৃতীয় পর্যায়ের মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নেয়া জরুরি এবং স্বল্প মেয়াদী পদক্ষেপের অধীনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রক্রিয়া সফল হলে এটি হবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মাঝে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার প্রথম পদক্ষেপ। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের জন্য ইরানের প্রথম ত্রাণবাহী কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছায়। এছাড়া ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দফায় পাঠানো ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল তাঁবু, কম্বল, চা, চিনি, তেল, কাপড়চোপড়, ওষুধসহ ৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ৩০ টন ত্রাণের দ্বিতীয় কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছায়। এ দফায় পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল ৩০০ তাঁবু, ৫ হাজার ৫০০ কম্বল, ১০ হাজার টিনজাত খাবার এবং এক টন ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। 

 রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ব্রিটেন সম্ভাব্য সব কিছু করবে 

শীর্ষ নিউজ : নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। একই সঙ্গে তাদের জন্য বাড়তি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, তারা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় দ্বিগুণ ডোনেশন দেবে। বাংলাদেশে ও মিয়ানমারে রয়ে যাওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বৃটেন সম্ভাব্য সব কিছু করবে। সেনাবাহিনীকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা তা আমলে নিচ্ছে না। এটা অসহনীয়। বৃটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বুধবার রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃটিশ সরকার। এতে বলা হয়, শুধু গত এক মাসে মিয়ানমারে ভয়াবহ নৃশংসতার করণে কমপক্ষে ৫ লাখ শিশু, নারী ও পুরুষ মিয়ানমারে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। মিয়ানমারের এ সঙ্কট ও বাংলাদেশে এর অপ্রত্যাশিত মাত্রায় প্রভাবের বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দিয়েছে বৃটেন। এরই মধ্যে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাকারী খাবার, পানি, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তিন কোটি পাউন্ড দিয়েছে বৃটেন। বুধবার বৃটেনের জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটি মিয়ানমার ছেড়ে পালানো এসব মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আবেদন জানায়। এর মাধ্যমে এ সঙ্কটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বৃটেন। বৃটেনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেছেন, মিয়ানমারে ভয়াবহ সহিংসতার কারণে যেভাবে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছেন তাতে আমি হতভম্ব। যারা এভাবে পালিয়ে এসেছেন তারা সঙ্গে করে কিছুই নিয়ে আসতে পারেন নি। নিরাপত্তার জন্য তারা ভয়াবহ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর ফলে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন। অনেকে হারিয়েছেন প্রিয়জনকে। যারা এখনও রাখাইনে অবস্থান করছেন তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে না দেয়ার অর্থ হলো তাদেরকে জীবন-মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া। বিরত থাকা জন্য আহ্বান জানানোর পরও অভিযুস্ত সেনারা থামছেনা এটা অসহনীয়। শরণার্থীদের নিরাপদে ফেরা নিশ্চিত করার দাবির প্রতিও তারা সাড়া দিচ্ছে না।এই সঙ্কটে এই সময়ে এই ভয়াবহ ট্রাজেডির শিকার মানুষগুলোকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নিতে এবং সম্ভাব্য সব সহযোগিতা করতে সবটুকুই করবে বৃটেন। জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির আবেদনে জনগণ পাউন্ডের পর পাউন্ড জমা দেবেন এবং সেই র্থৈ আমরা বৃটিশ মানুষের সহায়তা দ্বিগুন করবো। আমরা সহায়তা করবো বাংলাদেশে ও মিয়ানমারে রয়ে যাওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষকে। বিবৃতিতে বলা হয়, বৃটিশ জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে এই মধ্যে এসব মানুষকে সহায়তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। এই সপ্তাহজুড়ে শরণার্থীদের মাঝে ১০ হাজার তাঁবু, ১০৫০০ ম্যাট ও ২০ হাজার কম্বল বিতরণ করবে বৃটিশ সরকারের অংশীদার ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২৬৩৫৫ জন মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬৫০০০ মানুষকে খাদ্য ও ৫০ হাজার মানুষকে এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। যৌন সহিংসতা, পাচার ও অন্যান্য যেসব বিপদের মুখে রয়েছে শিশুরা এমন ৭৫০০ শিশুকে সেবা দেয়া হচ্ছে।ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বৃটিশ জনগণের দান করা প্রতি ৫ পাউন্ড দিয়ে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য এক সপ্তাহের জন্য পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করা যাবে। ১০০ পাউন্ডে দু’টি পরিবারের জন্য এক মাসের খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে। প্রতি ৩০ পাউন্ডে একটি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে আরো বলা হয়, এসব সহায়তায় বৃটেনের জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৩টি দাতব্য সংস্থাকে একত্রিত করেছে। তারা হলো একশন এইড, এইজ ইন্টারন্যাশনাল, বৃটিশ রেড ক্রস, ক্যাফোড, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ক্রিশ্চিয়ান এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড, অক্সফাম, প্লান ইন্টারন্যাশনাল ইউকে, সেভ দ্য চিলড্রেন, টিয়ারফান্ড অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড ভিশন। এসব সংস্থা দুর্ভোগে পড়া এসব রোহিঙ্গাকে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ