ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার ‘জোরপূর্বক’ প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছে

গতকাল বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: অসুস্থতার কথা বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘জোরপূর্বক’ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা‘র ‘সঠিক অবস্থান’ জানাতে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে দলটি। গতকাল বুধবার সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান বিচারপতির এক মাসের ছুটি যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করে বিএনপি। মূলত বৈঠকের বিষয় নিয়েই গতকাল ব্রিফিং করা হয়েছে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, নাজমুল হক নান্নু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, শরীফুল আলম, হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে সাক্ষাৎপ্রার্থী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার (প্রধান বিচারপতি) পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমি সুস্থ আছি, কিন্তু কথা বলতে পারবো না। এ থেকে প্রমাণিত হয়, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতির সাথে এমন আচরণ করা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই সরকার অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে পড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকারের এহেন আক্রোশমূলক ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে আমরা এখন পর্য়ন্ত কোনো কমেন্টস পাইনি এবং তিনি একমাসের ছুটি নিয়েছেন বা কি করেছেন, কি অবস্থায় আছেন, তার অসুখ হয়েছে, না হয়েছে-এটা কিšুÍ তার কার্যালয় থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো রকমের ইনফরমেশন পাইনি। আমরা অবশ্যই প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ের কাছে জানতে চাই, দেশ ও জাতি জানতে চায় যে, এখন প্রধান বিচারপতির অবস্থানটা কী ?

প্রধান বিচারপতিকে জোরপূর্বক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তার ভিত্তি কী? জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে যে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পর থেকে প্রধান বিচারপতির ওপরে ব্যক্তিগতভাবে, তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে অথবা সামগ্রিকভাবে তাকে যে ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে অথবা তাকে যে পরিণতির কথা বলা হয়েছে, তাকে ছুটি নিয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি তাকে পদত্যাগ করে চলে যাওয়ারও কথা বলা হয়েছে। এ থেকে আজকে সমগ্র জাতির কাছে এটা স্পষ্ট, যেহেতু ষোড়শ সংশোধনী রায় বাতিল করার ব্যাপারে তারা(ক্ষমতাসীন সরকার) একমত হননি, অত্যন্ত আপত্তি জানিয়েছেন এবং তীব্রভাষায় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন। সুতরাং তারা(সরকার) তাকে জোর করে ছুটি নিতে বাধ্য করছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

এক মাসের অবকাশের পর মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন এক মাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি সিনহা। প্রধান বিচারপতিকে ‘প্রচ- চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে’ ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী।

প্রধান বিচারপতির এভাবে হঠাৎ ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ সারাদেশে একটা ফ্যাসিবাদ চলছে। ভীতি-ত্রাস চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীনরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে অনুগত বিরোধী দল সাজিয়ে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় সরকার কায়েম করছে। প্রশাসন ও নিম্ন আদালতকে কুক্ষিগত করেছে। শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অনুগত করার সরকারি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধান বিচারপতির এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার ঘটনায় আমরা মনে করি এটা বিচার বিভাগের ওপর বড় ধরনের আঘাত এবং যা বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করে দেয়ার একটি ষড়যন্ত্র। দেশের বৃহৎ জনপ্রিয় দল হিসেবে আমরা সার্বিকভাবে এতে উদ্বিগ্ন। এই সরকার স্বীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে- এর দায়-দায়িত্ব একদিন এই সরকারকেই বহন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ