ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারত এত বড় ঋণ আর কোনো দেশকে এখনও দেয়নি -অরুণ জেটলি

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ও ভারতের শিকড় এক উল্লেখ করে সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের শিকড় এক, দুই দেশের চ্যালেঞ্জও এক। দুই দেশের সম্পর্ক আজ এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, ভারত আজ তৃতীয়বারের মতো ঋণ দিতে যাচ্ছে। 

গতকাল বুধবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ‘ভারত সরকারের ম্যাক্রো ইকোনমিক উদ্যোগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও উপস্থিত ছিলেন।

অরুণ জেটলি বলেন, ভারত এত বড় ঋণ আর কোনো দেশকে এখনও দেয়নি, যা বাংলাদেশকে দিচ্ছে। যা সম্ভব হয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই। আর এই দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রা যে কোন পর্যায়ে আছে প্রতিবছর দেড় মিলিয়ন মানুষের ভিসাপ্রাপ্তিই তা প্রমাণ করে। ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

নগদবিহীন লেনদেনের উপর গুরুত্বারোপ করে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, নগদনির্ভর অর্থনীতি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিতে ফেলে গরিবদের। তিনি বলেন, নগদ মুদ্রাকেন্দ্রিক অর্থনীতি কর ফাঁকি, কালো টাকা ও দুর্নীতির দিকে ধাবিত করে। নগদ লেনদেন এমন অন্যান্য অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে, যেটা পুরো সিস্টেমটাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অরুণ জেটলি বলেন, অতিরিক্ত নগদমুদ্রা দরিদ্রদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। কারণ যেসব লোক অতিরিক্ত নগদ গচ্ছিত রাখতে পারে, তারা সরকারকে কর বঞ্চিত করতে পারে- যেটা অন্যভাবে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিতদের জন্য ব্যবহার হতে পারত।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য এখন ক্যাশলেস ডিরেকশনে যাওয়া। যদিও এটি ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ, কেন না এটি একটি ক্যাশভিত্তিক দেশ। নরেন্দ্র মোদি সরকার এসেই ক্যাশলেস অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা শুরু করে। তিনি বলেন, দেশের ৪২ শতাংশ ব্যাংকই এর বাইরে ছিল। তাদের ক্যাশলেস সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য বেসরকারি ব্যাংক বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অরুণ জেটলি বলেন, প্রতিটি পরিবার যেনো একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সেজন্য ৩০ কোটি পারিবারিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার ৭৮ শতাংশ জিরো ব্যালেন্সে। এটি ভুর্তকি দিয়েই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশ যে সন্ত্রাসে আক্রান্ত হয়, সেখানেও নগদ টাকায় লেনদেন হয়। বেনামি সম্পদ কেনাবেচা হয় নগদ টাকায়, যেটি একটি বেআইনি কাজ।

ব্যাংক হিসাবগুলো চালু রাখার স্বার্থে মানুষদেরকে ‘কম খরচের ইন্সুরেন্স ও পেনশন নীতি’ গ্রহণের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়া হয় বলে জানান ভারতের অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রণোদনার অংশ হিসাবে বলা হয়, প্রতি মাসে এক টাকা প্রিমিয়ামে দুই লাখ টাকা এক্সিডেন্ট পেনশন পলিসি, দুই রুপি এক মাসের প্রিমিয়ামে ২ লাখ জীবন বীমা পাবে। এর ফলে লাখে লাখে মানুষ এই পলিসি গ্রহণ করা শুরু করল। ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সাধারণত পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হয়। এ কারণে যাদের প্রয়োজন নেই, তারা সেটা পায়। পরে ব্যাংক হিসাব ও স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভর্তুকি প্রদানের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের কারণে এখনকার অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী। দুর্নীতি দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি।

অনুষ্ঠানে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বি শ্রীরাম, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডেভিড রাজ কুইনা প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের জায়েদি সাত্তার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ