ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশের হকি’ শিরোনামে সেমিনার অনুষ্ঠিত

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (বিএসজেএ)’র আয়োজনে গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে ’এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশের হকি’ শিরোনামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের শুরুতে ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপ খেলা প্রয়াত তিন সদস্য আব্দুল মালেক চুন্নু, জসিমউদ্দিন কাঞ্চন, জুম্মন লুসাই ও ম্যানেজার সাব্বির ইউসুফের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসজেএ’র সদস্য মানজুর মোরশেদ। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএসজেএ সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হোসেন। বিএসজেএ সভাপতি সাইদুর রহমান শামীম রাখেন ধন্যবাদ ও সমাপনী বক্তব্য। সেমিনারে দৈনিক ইত্তেফাকের ক্রীড়া সম্পাদক মোতাহের হোসেন মাসুম উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল ভালো খেলোয়াড় তৈরি করা, সাংগঠনিক পর্যায়ে পেশাদারিত্ব আনা, তৃণমূল পর্যায়ে হকির প্রসার, হকির সুষ্ঠ বিপণণ ও কর্মকর্তা পর্যায়ে সংঘাত দূর করা। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের কমতি নেই। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতার অভাবের জন্য দেশের হকি অনেকটা পিছিয়ে আছে। সেই সাথে আছে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সংকট।’ তিনি হকির ও ফেডারেশনের অবকাঠামোগত দূর্বলতার ব্যাপারটিতেও আলোকপাত করেন। হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক খাজা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘আমি হতাশ হতে রাজি নই। অতীতের দিকে না তাকিয়ে ইতিবাচক মনোভাবে সামনের দিকে তাকানো শ্রেয়। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে হকি এগিয়ে চলেছে এবং একে আরো উঁচুতে নেয়ার দায়িত্ব হকি সংশ্লিষ্ট সবার। বর্তমান হকি হলো পাওয়ার নির্ভর হকি স্কিল নির্ভর নয়। এই ব্যাপারে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে।’
১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপে হকি দলের অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন চাকলাদার বলেন, ‘আজকের খেলোয়াড়রাও খারাপ না। তারা অন্যান্য দেশের তুলনায় সুযোগ সুবিধা কম পায় বলে পিছিয়ে রয়েছে। আমি ৪-৪-২ পদ্ধতিতে জাতীয় দলকে খেলানোর পক্ষপাতী। কারণ প্রতিপক্ষ দ্রুতগতিতে কাউন্টার অ্যাটাক করে যেটি সামলানো অত্যন্ত জরুরি। আমি ৮৫ সালে জাতীয় হকি দলের টিম স্পিরিট নিয়ে গর্ব বোধ করি।’ সিনিয়র সাংবাদিক ও চ্যানেল ২৪ এর ক্রীড়া সম্পাদক দিলু খন্দকার বলেন, ‘ফেডারেশনের সাথে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও হকির উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রয়েছে যেটি তারা কখনোই করে না। ফেডারেশন এবং ক্রীড়া পরিষদ তথা সরকার মিলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন না করলে হকি এগুবে না।’ বিশিষ্ট হকি সংগঠক ইউসুফ আলী বলেন, ‘৮৫ জাতীয় হকি দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল অনমনীয়, লড়াকু, মনোবল ও অনবদ্য দেশপ্রেম। আমি আশা করি বর্তমান জাতীয় দলও এই বৈশিষ্ট্যগুলোতে বিশেষায়িত হবে।’ সাবেক জাতীয় অধিনায়ক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এবারের এশিয়া কাপ হকি আমাদেরকে তিনটি জিনিষ উপহার দিচ্ছে। প্রথমটি হলো সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়ে বাংলাদেশের নতুন আবির্ভাব, দ্বিতীয়টি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ফ্লাডলাইট সহ একটি স্টেডিয়াম ও তৃতীয়ত দেশের হকির নতুন ব্র্যান্ডিং। এশিয়া কাপের পরে বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য কি তা এখনই নির্ধারণ করা উচিত। সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড ও এশিয়া কাপ হকি দলের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘হকির উন্নয়ন যথার্থ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব না। হকি এখনো আটকে আছে এক সাগর প্রতিকূলতার মাঝে। ক্লাবগুলোকে পেশাদারী মানসিকতায় অভ্যস্ত না হলে ও খেলোয়াড়দের যথাযথ জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি না করলে হকির উন্নয়ন কষ্টসাধ্য। সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ