ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা জানতে আদালতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট বার

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটির বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠকে বসেন শীর্ষ আইনজীবীরা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার অসুস্থতা জানতে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন। একইসঙ্গে সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যাবেন। শারীরিক অবস্থা জানতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকনির্দেশনা চাইবে সুপ্রিম কোর্ট বার। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে দুইদিন বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্ট বার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা সুস্থ না অসুস্থ তার সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না তাকে জনসম্মুখে হাজির এবং আদালতে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা।

গত সোমবার প্রধান বিচারপতি অসুস্থার কারণ দেখিয়ে একমাসের ছুটিতে যান। সুপ্রিম কোর্ট বারের অভিযোগ প্রচন্ড চাপের মুখে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ওইদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতারা দেখা করতে গেলেও দেখা পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বার সকালে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়। বিকালে প্রথম দফা বৈঠকও হয়।

সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি জটিল রোগে আক্রান্ত। তার জানা মতে, চিকিৎসকরা তাকে দেখছেন।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন এ তথ্য জানিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এক ঘন্টার বৈঠকে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, সাবেক সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বারের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী,সাবেক অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজ্জাক খান, এডভোকেট মীর মো. নাছির উদ্দিন, এবিএম রফিক উল্লাহ প্রমুখ। এ সময় বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়নুল আবেদীন বলেন, বৈঠকে দুটি রেজুলেশন পাস হয়েছে। একটি হলো-বারের সকল সদস্য মিলে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল ৯টায় আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে দিক-নির্দেশনা এবং সাহায্য কামনা করবো, কীভাবে বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবস্থা জানতে পারি। দুই. সাবেক অনেক বিচারপতি আছেন যারা আদালতে আসেন। তাদের অনেকেই বারের সদস্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক জ্যেষ্ঠ বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করবেন। তবে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা কত এবং আজ বৃহস্পতিবার কখন দেখা করতে যাবেন সে বিষয়ে পরে সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

জয়নুল আবেদীন বলেন, বারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম বক্তব্য আমরা দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার বিভাগকে সবসময় সমর্থন করা। বিচার বিভাগের সম্মান-মর্যাদা সবকিছু রক্ষা করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আইনজীবী সমিতি প্রাথমিকভাবে সভা করেছিলাম। আপনাদের আমি জানিয়েছিলাম কমিটির সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। গত কয়েকদিনের যা কিছু কর্মকান্ড আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেকই পরিচালনা করেছি। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি এই বার এসোসিয়েশনে আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই না। এখানে আমাদের বক্তব্য, কর্মকান্ড রাজনীতির ঊর্ধ্বে। যার যার রাজনীতি তার তার কাছে থাকবে। কিন্তু এই সমিতির মান-মর্যাদা, বিচার বিভাগের মান-মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব হচ্ছে অরাজনৈতিকভাবে এবং আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে আমরা সম্মানের সাথে দেখতে চাই। সম্মানের সাথে সকল বিচারক দায়িত্ব পালন করুক। সে জন্য আমাদের যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা আমরা অতীতেও করেছি আগামী দিনেও করতে চাই। এখনও করছি।’

 তিনি বলেন, গতকালই বলেছিলাম আরও বৃহত্তর পরিসরে আলাপ-আলোচনা করার জন্য। যথারীতি বিকেল ৪ টায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়ে বসেছিলাম। সেখানে ৩৮ জন আইনজীবী ছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক কয়েকজন বিচারপতি ছিলেন। তারাও বিভিন্ন রকম মতামত দিয়েছেন। সকলের বক্তব্য নিয়ে আমরা এই রেজুলেশন নিয়েছি। বৃহস্পতিবার ৪ টায় সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে আবারও মিটিং করা হবে বলেও জানান বারের এই সভাপতি।

 এদিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা সুস্থ না অসুস্থ তার সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না তাকে জনসম্মুখে হাজির এবং আদালতে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা। গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১টা থেকে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির কক্ষের সামনে প্রথমে প্রতিবাদ সভা করে। এরপর বার ভবনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবেদ রাজার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবী নেতা এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, শরীফ ইউ আহমেদসহ শতাধিক আইনজীবী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। 

প্রতিবাদ সভায় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত। জনগণ যানতে চায় তিনি সুস্থ না অসুস্থ। তাকে জনসম্মুখে হাজির করা হোক। 

আবেদ রাজা বলেন, এই প্রতিষ্ঠান (সুপ্রিম কোর্ট) নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের জনগণ উৎখাত করবে। 

এরআগে সকালে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি এ বারের সভাপতি। সাধারণ আইনজীবীরা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। দলীয়ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত করার জন্য নয়। এখানে আমি আইনের শাসন সমুন্নত করার জন্য কাজ করবো।

প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে যে ছুটি নিয়েছেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারের রোগী এটা সরকার পক্ষ গতকাল (মঙ্গলবার) বলেছেন। আমরা এ বিষয়ে কোনও সার্টিফিকেট পাইনি। এমনকি প্রধান বিচারপতির কোনও বক্তব্যও পাইনি।

ছুটি নিতে প্রধান বিচাপতিকে বাধ্য করা হয়েছে এমন বক্তব্য কিসের ভিত্তিতে দিয়েছেন, জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, যেখানে প্রধান বিচারপতি আমাদের দাওয়াত করে পরে কোনও কিছু না জানিয়ে তুটিতে গিয়েছেন। এর ফলে সাধারণ আইনজীবীরা যেটা মনে করছে সেটাই আমরা আপনাদের কাছে প্রকাশ করেছি।

 আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অবস্থা আমিতো বলতে পারবো না। আমি এখানের (সুপ্রিম কোর্টের) অবস্থা জানি। এখানে আইনজীবীদের মধ্যে একটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু প্রধান বিচারপতি আমাদের দাওয়াত করে চলে গিয়েছেন। এ রকম ঘটনা অতীতে ঘটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ