ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতীয় ঐক্য ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটরিয়ামে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা : বিশ্ববিবেকের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

* কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দায়িত্ব সরকারের -----এমাজউদ্দিন আহমেদ

* রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরাতে বিশ্বশক্তির প্রতি আহ্বান জানাতে হবে -- নজরুল ইসলাম খান

* রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে--- নূর হোছাইন কাসেমী

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না এমন মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’র নেতৃবৃন্দ। তারা আরো বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জাতীয়ভাবেই করতে হবে। এ জন্য সরকারকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ সকল দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হলে জাতীয় কনভেনশনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে জাতীয় ঐক্য গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে।

গতকাল বুধবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত “রোহিঙ্গা গণহত্যা বিশ্ববিবেকের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে জমিয়ত নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ইসলামী, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ এসব কথা বলেন।

জাতীয় কনভেনশনে উত্থাপিত ১০ দফা প্রস্তবের মধ্যে রয়েছে, রোহিঙ্গাদের ঈমানী সত্তাকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রোহিঙ্গাদের ধর্মকর্ম পালনে পূর্ণ অধিকার দিতে হবে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যাতে কোন অপশক্তি, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও টাউট-দালালেরা হয়রানি করতে না পারে সেদিকে প্রশাসন এবং সোনাবাহিনীকে কড়া নজর রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং ত্রাণ তৎপরতা পরিপূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের কঠিন সময়ে দেশের আলেম-উলামা এবং দ্বীনদার শ্রেণির মানুষ সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছে, তাই তাদেরকে ত্রাণ তৎপরতায় সরকারিভাবে সম্পৃক্ত করা ও পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এনজিওরা যাতে সেবার আড়ালে রোহিঙ্গাদেরকে ধর্মান্তরিত না করতে পারে সেদিকে সরকারের যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে ঢাবির সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অবস্থান রোহিঙ্গাদের পক্ষে ছিল। ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। এ দু’টি দেশকেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আনার দায়িত্ব সরকারের। তাছাড়া রাশিয়া ও চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক ভাল। নানা ধরনের চুক্তি হয়েছে এ দুটি দেশের সাথে তাই এ দুটি দেশকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আনা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। তিনি কফি আনানের ৫ দফা সুপারিশের উপর গুরুত্বারোপ করে এর ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তের মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি একটি জাতীয় ইস্যু। এর সমাধান জাতীয়ভাবেই করতে হবে। এজন্য দরকার জাতীয় ঐক্য। সরকার এটা করতে ব্যর্থ হলে আমাদেরকেই তা করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রাশিয়া, চীন ও ভারতকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আনতে হবে। তিনি বলেন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে অপপ্রচার চালানো হলেও বাস্তবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তাই তাদেরকে সকল প্রকার নাগরিক অধিকারসহ পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই স্বদেশে ফেরত দিতে হবে। রোহিঙ্গা নাগরিক হোক বা অভিবাসী হোক তাদের সকল অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের। আর এ সমস্যার সমাধান করার মুখ্য সময় এখই। এ কাজে সরকার ব্যর্থ হলে এর খেসারত সবাইকে দিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতির ভয়াবহতা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে দেয়া নিশ্চিত করতে বিশ্বশক্তিসমূহের উদ্যোগ নেয়ার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে এবং মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিকভাবে অস্ত্র ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে একঘরে করার জন্যও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর সঞ্চালনায় উক্ত জাতীয় কনভেনশনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হীবীব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, খেলাফত মজলিসের মহসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের ও ইসলামী ঐক্যজোটে মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল করীম প্রমূখ। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়াম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুর রাকীব, জামেয়া মোহাম্মাদিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবুল কালাম, জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা জহিরুল হক ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি নাছির উদ্দিন খান প্রমুখ। কনভেনশনে প্রস্তাবাবলী পাঠ করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হক আজীজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ