ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে মোদি সরকার

সংগ্রাম ডেস্ক : নরেন্দ্র মোদি’র সরকার ভারতে আশ্রয় নেয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে মামলা হয়েছে। কেন্দ্র চাইছিলো রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আদালত যেন নাক না গলায়। কেন্দ্রের যুক্তি, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীরা থাকতে পারে। 

কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বললেন, সংবিধানের ৩২ ধারা (ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা) অনুযায়ী এ ধরনের প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন আদালত তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এরপর আদালত মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মাথায় রেখে রোহিঙ্গা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভারতের পক্ষে রক্ষা করা সম্ভব কি না তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে। আরটিএনএন।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ সরকারকে জানিয়ে দেয় যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আবেদনের শুনানি হবে শুধুমাত্র আইনি যুক্তির মাপকাঠিতে।

এতে মানবিকতার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকায় পিটিশনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কোনো প্রকার আবেগ টেনে না আনতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পারস্পরিক মর্যাদা দিয়ে বিষয়টি শোনা উচিত বলেও আদালত মন্তব্য করে।

আদালত দু’পক্ষকে সমস্ত নথি ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিশদ বিবরণ প্রস্তুত করে হাজির করার নির্দেশ দেয়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্পর্কিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিসহ এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক বিস্তারিত শোনা হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, এই মামলায় আগে ঠিক করা হোক আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে কী না।

 রোহিঙ্গাদের পক্ষে মামলায় অংশ নেয়া সিনিয়র আইনজীবী ফলি এস নরিম্যান বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার নীতি কেন পরিবর্তন করেছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের আবেদন বিচারযোগ্য। কারণ সংবিধান ব্যক্তিগত অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে দাঁড়িয়ে নরিম্যান নিজেকে ব্রিটিশ বার্মা থেকে আসা শরণার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, এটি সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের মৌলিক অধিকার। যারা নিজের দেশ থেকে প্রাণহানির ভয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় চাইছেন, সেই উদ্বাস্তুদেরও এই অধিকার প্রাপ্য।

২০১৫-তে মোদি সরকারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ধর্মীয় হানাহানির ভয়ে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈন ও শিখদের কথা স্পষ্টভাবে লেখা ছিল বিজ্ঞপ্তিতে।

 কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, রোহিঙ্গারা ৩২ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে আবেদন করেছে তা শুনানিযোগ্য নয়। কারণ ৩২ অনুচ্ছেদ দেশের নাগরিকদের জন্য; অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়। রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত পাঠানো যায়, তার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেও মায়ানমারকে চাপ দিচ্ছে ভারত।

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ওই মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

 রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তারা বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ও নানা বেআইনি কাজকর্মে জড়িত দাবি করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সরকারপক্ষ থেকে হলফনামা দেয়া হয়। কিন্তু দুই রোহিঙ্গা সরকারের দাবির বিরোধিতা করে গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ