ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

 

সংসদ রিপোর্টার: চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা সহসাই সমাধান হবে না বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি। এজন্য কমিটি দীর্ঘমেয়াদের বিষয়টি চিন্তায় রেখে সরকারকে নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় নিয়ে তাদের পুনর্বাসনের কথা বলেছে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়েও সংসদীয় কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুব শিগগিরই হবে বলে আশা করা যায় না। এজন্য লম্বা সময় দরকার। রোহিঙ্গাদের যেখানে পুনর্বাসন করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে, সেখানেও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তাদের শিফট করতে হবে।’

মিয়ানমানের প্রতিনিধির ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ টেনে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘মিয়ানমারের মন্ত্রী এসে বলেছেন যে, তারা এর সমাধান করবে। তবে এর মধ্যে অনেক কিন্তু আছে। সহসাই সমস্যার সমাধান না হলে একটি পর্যায় গিয়ে যদি দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে স্টাবলিস হয়, তখন আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিও অন্যরকম হয়ে যাবে। এজন্য কমিটি বলেছে, এই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে সেগুলোকে আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলেছি।’

বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়। তবে সংখ্যায় তো কম না, কে কখন কোথায় যায় তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে, রোহিঙ্গারা যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে কমিটি থেকে চট্টগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহনের টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যকোনও কার্ড প্রদর্শন বাধ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে ইয়াবা বা অন্যকোনও মাদকদ্রব্য দেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ‘বিশেষ’ নজরদারি চালানোর জন্য বলা হয়েছে।’

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ব পরিমণ্ডলে সত্য ঘটনাপ্রবাহ উত্থাপন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনাকালে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন সচিত্র প্রতিবেদন, নির্যাতনের চিত্র, ভিডিও ক্লিপিংস, পেপার ক্লিপিংসসহ তাদের বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম সংরক্ষণ করতে একটি বিশেষ আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, বৈঠকে কমিটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্য থেকে যারা পিতৃ-মাতৃহীন এতিম এবং যারা অন্তঃসত্ত্বা তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রমের গতি বেগবান করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি জানান, আগামী ১০-১২ অক্টোবর সংসদীয় কমিটি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকা পরিদর্শনে যাবে।

ধর্ষণ বাড়ছে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের সুপারিশ

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা জানালেও সংসদীয় কমিটি এর সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেনি। কমিটি মনে করে, অন্যান্য ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েছে।

এ বিষয়ে চলন্তবাসে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রসঙ্গ টেনে কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনা আর দশটি ঘটনাকে ছাপিয়ে যায়।’ টিপু মুনশি এ সময় পিটিয়ে হত্যার প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করেন।

কমিটি এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছে। 

টিপু মুনশির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. মোজাম্মেল হোসেন, শামসুল হক টুকু, ফরিদুল হক খান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম এবং কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ