ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাগমারার ৩৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি

মনোরম পরিবেশে বাগমারা মহাবিদ্যালয়টি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি

আফাজ্জল হোসেন বাগমারা (রাজশাহী) থেকে : রাজশাহীর বাগমারায় বেতনের আশায় প্রায় ছয়শত জন শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবর যাপন করছেন। গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখন প্রহর গুণছে কবে তাদের এমপিও (মানথলি পে-অর্ডার)ভুক্ত করা হবে। মনোরম পরিবেশ ও সুদক্ষ শিক্ষক দিয়ে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সরকারি অনুদান না পেয়ে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় ১৬ টি মাদরাসা, ১৮টি স্কুল ও ৫টি কলেজ এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। তারা বেতনের আশায় ১২-১৩বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। এমপিও’র তালিকায় অপেক্ষিয়মান বাগমারার সবচেয়ে পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারা মহাবিদ্যালয়টি বাগমারা থানার সন্নিকটে একটি মনোরম পরিবেশ ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম রাবু। এই কলেজটি প্রথমে যার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত তিনি ওই গ্রামের এক কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ নুরুল ইসলাম মিঞা। তার ত্যাগী জীবনের ইতিহাস স্মরনীয়। সে সময়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তিনি জীবনের সব আশা আকাংখ্যা বাদ দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগমারার সেবা করেছেন। তার মৃত্যুর পরও তার সুযোগ্য ছেলে জিয়াউল আলম বাবু শক্ত হাতে হাল ধরে কলেজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। বতর্মানে কলেজটির শিক্ষার গুণগত মান চমৎকার। কলেজে এইচ এসসি স্তরে ৪ শতাধিক ও ডিগ্রী স্তরে ২ শতাধিক অধ্যয়নরত প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। সুদক্ষ শিক্ষকমন্ডলীর দ্বারা পরিচালিত ৪ তলা বিশিষ্ট বিশাল আকারের একলেজ। প্রতিষ্ঠানটি এইচ এসসি লেভেলের বেতন হলেও আজও ডিগ্রী লেভেলের বেতন হয়নি। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে ডিগ্রী স্তরের শিক্ষকরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রমে মিলেনি আজও শিক্ষক কর্মচারীদের আকাংখিত এমপিও। কলেজের শিক্ষকা শারমিন সুলতানা জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুনছি। সংসারে অর্থ কষ্ট এখন মরন ব্যাধির মত চেপে বসেছে। পিতার অবর্তমানে মায়ের সংসারে এখন বুঝা হয়ে মানসিক চাপে দিন চলে। কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম রাবু বলেন, এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার মান ধরে রেখেছে শিক্ষকরা। বেতনভুক্ত হলে জাতিকে তারা অনেক ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে। 

একই অবস্থা গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ১৯৯৮ সাল হতে আলিম শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়ে বেশ সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া বিগত কয়েক বছরের ফলাফল ভাল। অথচ আজও এমপিও হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত ১২/১৩ বৎসর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছেন। তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। মাদরাসার শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বেতনের আশায় এখন প্রহর গুনছি। সংসারে অর্থ কষ্টে জীবন চলছে। হাটমাধনগর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বেতনের আশায় তাদের জীবনের অনেকটা সময় চলে গেলেও বেতন পেলেন না। 

বাগমারায় এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাগমারা মহাবিদ্যালয় (ডিগ্রী স্তর), সৈয়দপুর-মচমইল মহিলা কলেজ (ডিগ্রী স্তর) নাছিরগঞ্জ কলেজ (ডিগ্রী স্তর)। সালেহা-ইমারত ডিগ্রী কলেজ, গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার (আলিম স্তর ও ভোকেশনাল শাখা) বালানগর হাইস্কুল (মাধ্যমিক স্তর) হাটমাধনগর আলিম মাদরাসা ও শ্রীপুররামনগর আলিম মাদরাসার আলিম স্তর। এছাড়া মচমইল দাকিল মাদরাসা, কোন্দা, কোয়ালীপাড়া, নখোপাড়া, হাট-একডালা, খাজাপাড়া মহিলা মাদরাসা, কুমারপুর আলিম মাদরাসা, অর্জূনপাড়া, গোবিন্দপাড়া ও নরদাশ দাখিল মাদরাসার দাখিল স্তর। বেলঘরিয়া ফাজিল মাদরাসার ফাজিল স্তর। সুলতানপুর ও পীরগঞ্জ স্কুলের মাধ্যমিক স্তর। কুলিবাড়ি, যোগিপাড়া, ঝিকরা, বিলসনি, ভবানীগঞ্জ আইড়িয়াল, সাজুড়িয়া, নাজিরপুর, সোনাডাঙ্গা, রুহিয়া মাহমুদপুর, সারন্দী, অভ্যাগত পাড়া, বাইগাছা ও আক্কেলপুর নিন্মমাধ্যমিক স্কুল, মজোপাড়া মহিলা, কাতিলা, খালগ্রাম ও দ্বীপনগর মহিলা বি এম কলেজ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহ প্রায় সকল শিক্ষকের সরকারি চাকুরির বয়স অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাদের কোথাও যাবার জায়গাও নেই। নিজের জীবন অন্ধকারে রেখে অজপাড়াগাঁয়ে তারা শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগমারায় রয়েছে। কিন্তুু সেগুলো এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা সত্যিই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ