ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাজিতপুর হাফেজ আঃ রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার ১২৭ বছরের প্রাচীন বাজিদপুর হাফেজ আঃ রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন, বর্তমান শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজনদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছারওয়ার আলম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মোবারক হোসেন, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সানোয়ার আলী শাহ সেলিম, বি.এস.এম.এম.ইউ. সহকারী অধ্যাপক ডা: এস. এ খান নোমান, অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মনোজ রায়, ডিইউজের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী বাজিতপুর হাফেজ আঃ রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান। বক্তারা উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিবেচনা যোগ্য এক (১) নং তালিকা ভুক্ত হওয়ার পরও সরকারিকরণ না হওয়ায় অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ ব্যথিত, মর্মাহত ও বিস্মিত হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ভাটি এলাকার সিংহদ্বার কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বাজিতপুর হাফেজ আঃ রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সুপ্রাচীন বিদ্যাপীঠ। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিদ্যালয়টি থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সহিত প্রবেশিকা/এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চ শিক্ষা লাভ করে দেশ ও বিদেশে মন্ত্রী, সচিব, অ্যাটর্নী জেনারেল ও জনপ্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে বিদ্যালয় ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন। ইহা কিশোরগঞ্জ জেলার সর্বপ্রথম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও বটে (স্মারক নং-শিম/শাঃ১০/বেমাজা-৫-১/৯৬/৯৮ তাং- ৩০/০১/২০০৮ খ্রিঃ)। প্রতি উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি স্কুল সরকারিকরণে ঘোষণার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জরিপে ৫টি বিদ্যালয়ের নাম যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ  করা হয়। সকল জরিপে স্ব-যোগ্যতায় বাজিতপুর হাফেজ আঃ রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম এক (১) নং ক্রমিকে রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও সার্বিক বিবেচনায় উক্ত বিদ্যালয়ের নাম সর্বাগ্রে রেখে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রদান করেন। বিগত তিন বছরে বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার গড় ফলাফল ৯৪.৬৩% যা তালিকায় প্রেরিত ৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের মানণীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আফজাল হোসেনও একাধিকবার উক্ত বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের লক্ষ্যে  শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে চাহিদাপত্র (ডি.ও) নং বাজাসস ১৬৬/কিশোর-৫/২০১৫/১৮২ তাং ২০/১০/১৫ এবং চাহিদাপত্র (ডি.ও)নং বাজাসস-১৬৬/কিশোর-৫/২০১৬/২৯৩ তাং ২২/১১/১৬্িরখঃ প্রদান করেন। অথচ সকল জরিপে পিছিয়ে থাকা এবং  সংসদ সদস্যের চাহিদাপত্র বিহীন একটি স্কুল এন্ড কলেজকে সরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ