ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত তিন বছর ধরে হিমায়িত চিংড়ি ও সাদা মাছ রফতানি কমেছে

খুলনা অফিস : অবকাঠামোগত অসুবিধা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও খাবার ব্যবস্থাপনার সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা করা, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত তিন বছর ধরে হিমায়িত চিংড়ি ও সাদা মাছ রফতানি কমে গেছে। এ সময় বিদেশে রফতানির পরিমাণের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও কমে গেছে। অপরদিকে, দেশের ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৭ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষ, বেচাকেনা, প্রক্রিয়াকরণ এবং রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এদের অধিকাংশই বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের মানুষ।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড চিংড়ি ও সাদা মাছ বিদেশে রফতানি করা হয়। এ থেকে আয় হয়েছে ৪ হাজার ২১১ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড চিংড়ি ও সাদা মাছ রফতানি করা হয়। এ বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয় ৪ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে রফতানি হয়েছে ১৮৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

এদিকে, ২০১১-১২ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২১২ মিলিয়ন পাউন্ড হিমায়িত মাছ রফতানি করে ৫৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে রফতানির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২০৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এ বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। অপরদিকে ২০১৩-১৪ সালে রফতানির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে এ বছর চিংড়ির সাইজ ভালো থাকায় দামও ভালো পাওয়া গেছে। এ বছর হিমায়িত মৎস্য রফতানি করে আয় হয় ৫ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। এরপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে খারাপের দিকে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে ২ লাখ৭৫ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। সেখান থেকে চিংড়ির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ২৪৪ মেট্রিক টন। ২০১৫-১৬ সালে চিংড়ি চাষ হয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। শেষের বছর চিংড়ি চাষের জমি কমে গেলেও চাষের সনাতন পদ্ধতি ত্যাগ করে কিছু চাষী সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতি ব্যবহার করায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। আবার ২০১২-১৩ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। এ বছর উক্ত জমি থেকে চিংড়ি উৎপাদিত হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। ওই বছর চাষযোগ্য আরও ১লাখ হেক্টর জমি অব্যবহৃত থাকে। কিন্তু পরে চিংড়ি চাষে খুব বেশি জমি যুক্ত হয়নি বলে পরিসংখ্যানে জানা যায়। অপরদিকে আর্থিক অসঙ্গতি এবং আরও কিছু সমস্যার কারণে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানারও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিসংখ্যানে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সালে বিএফএফইএ সদস্য কারখানা দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ১০৪ ও ১০৬টি। এরমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুমোদিত কারখানা যথাক্রমে ৭৬ ও ৬৬টি।

সূত্রমতে, বর্তমানে খুলনাসহ সারাদেশে ৪০টির মত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চালু রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১০-১২টি কারখানা ভালোভাবে বিদেশে মাছ রফতানি করছে। আর্থিক সংকটের কারণে বাকি কারখানাগুলোর রফতানি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। মৎস্য চাষী খলিলুর রহমান বলেন, ঘেরের পানির গভীরতা কমে যাওয়া, তাপমাত্রা ও চাষের ব্যয় বৃদ্ধি, ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষীরা চিংড়িসহ সাদা মাছ চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বিএফএফইএ’র সহ-সভাপতি শেখ মো. আব্দুল বাকী বলেন, আভ্যন্তরীণ বাজারে চিংড়িসহ সাদা মাছের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ঘেরের জমিতে বাড়ি-ঘর তৈরি হওয়ায় জমি হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে বিদেশে রফতানি কমে গেছে। তবে এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক এ বছর মুদ্রা আয় কমবে না বলে আশা করা হচ্ছে। খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, উৎপাদন ঘাটতির কারণে বিদেশে চিংড়ি ও সাদা মাছ রফতানি কমে যেতে পারে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় চিংড়িসহ সাদা মাছ চাষে অবকাঠামোগত অসুবিধা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও খাবার ব্যবস্থাপনাসহ নানামুখী সংকটে চিংড়ি ও সাদা মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ