ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার আলু ব্যবসায়ীরা দেড়শ’ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কায়

খুলনা অফিস : খুলনার আলু ব্যবসায়ীরা এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছে। এ অঞ্চলের বাজারে রংপুর ও বগুড়া থেকে নতুন আলু আসবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ। বর্তমানে এখানকার তিনটি হিমাগারে ৩১ হাজার বস্তা আলু মজুদ রয়েছে। বাজারে দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় মজুদদাররা হিমাগার থেকে আলু বের করছে না বলে জানা গেছে। ফলে লোকসানেই পড়তে যাচ্ছে আলু ব্যবসায়ীরা। 

বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, আলু রফতানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে অধিকাংশ আলু হিমাগারে রয়ে গেছে। এছাড়া চাহিদার তুলনায় উৎপাদন হয়েছে অনেক বেশি। কোল্ডস্টোরেজগুলো থেকে মজুদদাররা ১৫ দিনের মধ্যে আলু বের করেনি। ৬০/৬৫ দিন পর উত্তরাঞ্চল থেকে নতুন আলু আসতে শুরু করবে। হিমাগারে মজুদ আলু ফেলে দেওয়া অথবা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। ২০১৪-১৫’ মওসুমে আলুর কেজি তিন টাকা হওয়ায় খুলনার আড়ৎদাররা ২৫০ বস্তা আলু ভৈরব নদে ফেলে দেয়। মজুদ আলু থেকে এবার রোহিঙ্গাদের জন্য একশ’ মেট্রিক টন ত্রাণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন আলুর দুরাবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী’র কার্যালয়, বাণিজ্য ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠিতে আলু কিনতে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কৃষি দপ্তরের সূত্র জানান, মুন্সিগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুরে আলুর উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন না থাকায় আলু রফতানিতে সুফল আসছে না। উল্লেখ করা যেতে পারে, জুন-জুলাই মাসে প্রতি কেজি আলু ২৪ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিমাগার নামক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এখানে মজুদের পরিমাণ ১১ হাজার বস্তা। চাহিদার তুলনায় এখানে মজুদের পরিমান বেশি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে মজুদকৃত আলু বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। শিরোমনি গ্রামের অধিবাসী মজুদদার মনিরুল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে, ব্যাংক থেকে ঋণ ও কোল্ডস্টোরেজ থেকে অগ্রিম নিয়ে এক হাজার বস্তা আলু মজুদ রেখেছেন। আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা লোকসান দিতে হবে। ফলে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন।

দৌলতপুর আইস এন্ড কোল্ডস্টোরেজ’র প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী জানান, মওসুমে এ হিমাগারে ৩০ হাজার বস্তা মজুদ ছিল। অক্টোবর মাসে মজুদের পরিমাণ ১৪ হাজার বস্তা। মওসুমে প্রতি বস্তার মূল্য ছিল ১৪শ’ টাকা। এখনকার মূল্য এক হাজার ২০ টাকা। মাহমুদ কোল্ডস্টোরেজ’র ম্যানেজার মো. আজমল হোসেন বলেন, মওসুমে ১৪ হাজার ৪৪৮ বস্তা মজুদ করা হলেও সোমবার পর্যন্ত মজুদের পরিমাণ ৬ হাজার ১২৩ বস্তা। প্রতি বস্তায় বছরে হিমাগারকে ২৬০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ১২ জন মজুদদার হিমাগারের ধারে কাছে ভিড়ছে না। প্রতি বস্তায় পাঁচশ’ টাকা লোকসান হবে। হিমাগারে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং হয়। আলু সতেজ রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ