ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 October 2017, ২০ আশ্বিন ১৪২8, ১৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বন্যার ২ মাস পরেও রাজারহাটে ৫ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গৃহ নির্মাণ করতে পারেনি

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বন্যা হওয়ার প্রায় ২ মাস পার হলেও ৫শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আর্থিক দৈন্যের কারণে এখনও গৃহনির্মাণ করতে পারেনি। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ওইসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আকস্মিকভাবে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ ও নাজিমখান ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকা বন্যায় তলিয়ে যায়। ওই সময় পানির প্রবল স্রোতে ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ার চর এলাকায় সহস্রাধিক ঘর-বাড়ী দুমড়ে-মুচড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই পরিবারগুলোর হাঁস- মুরগী, গরু-ছাগল, ধান-চাল, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের বইপত্র নষ্ট হয়ে যায়। বন্যায় সাড়ে ৩হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন বিনষ্ট হয়। এর মধ্যে বীজতলা ও সবজি জমি নষ্ট হয় ১শ’ হেক্টর। এদিকে ৫ হাজার হেক্টর জমির মৎস্য খামারের মাছ বানের পানিতে ভেসে যায়। বন্ধ হয়ে যায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাস্তার অসংখ্য জায়গায় পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যার সময় ভেঙে যায় ৮টি ব্রীজ ও ১২/১৪ কালভার্ট। পূর্ণ সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। সবমিলে কয়েক কুটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।
২ অক্টোবর সোমবার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বানভাসি মানুষের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত নেই। অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তারা নতুন করে বাঁচতে চায়। কিন্তু বন্যার সময় তাদের সবকিছু খুইয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে। তাদের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বন্যাকবলিত এলাকার নাজমা (৩৮), বেগম (৪৫), ছালমা (৪৫), সুরতভানু (৬৫), শাহেদ আলী (৪৮), আঃ হামিদ (৬০), মোহাম্মদ আলী (৭৫), কছিমুদ্দিন (৬০)সহ অনেকে বলেন, এজিও থাকি এক বাইন টিন দিছে, বাঁশ ক্যানার ট্যাকা নাই, ঘর তুলবার পাং নাই। হামারগুলার সবারে এ্যাকে অবস্থা। কারো পকেটে ট্যাকা নাই। অনেকের সাথে কথা বলে একই অবস্থা বলে জানা যায়।
এছাড়া ওই এলাকার বানভাসি মানুষ জানান, একবার রিলিফের ১০ কেজি চাল পাওয়া গেছে। যা দিয়ে একটি পরিবারের ক’দিসের  ক’জনের খাদ্য নিবারণ করা যায়?  এমনকি বর্তমানে এ এলাকায় কোন কাজকর্ম নেই। তাই তারা ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান হক বুলু জানান, একে বারে অতিদরিদ্র ১৫৬টি পরিবারের ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হওয়ার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু ৪টি ইউনিয়নে এক হাজারেরও বেশী ঘর-বাড়ী বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। 
২ অক্টোবর সোমবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, বন্যা পরবর্তী বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবার প্রতি ১বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। তবে কবে নাগাদ এসব উত্তোলন করে বিতরণ করা হবে তার সঠিক তথ্য দিতে তিনি পারেননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আকস্মিক সফরে এসে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বন্যার্তদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ মাস পর্যন্ত ত্রাণ সরবরাহ এবং  গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংষ্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসিরা কোন রকমে জিবন নির্বাহ করলেও তাদের বিধ্বস্ত গৃহ নির্মাণ করতে পারেনি। বন্যায় তাদের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ায় তারা বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী, বাঁধের রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে কোন রকমে রাত্রি যাপন করছে। এ ব্যাপারে ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান হক বুলু জানান, এখন পর্যন্ত গৃহ নিমার্ণের জন্য কোন বরাদ্দ আসেনি। সরকারীভাবে ত্রাণ দেয়াও বন্ধ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ